যুদ্ধের ছায়ায় মিলানো-কোর্টিনার শীতকালীন প্যারা অলিম্পিক

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ৭ মার্চ, ২০২৬
  • ৭ বার
যুদ্ধের ছায়ায় মিলানো-কোর্টিনার শীতকালীন প্যারা অলিম্পিক

প্রকাশ:  ৭ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দুনিয়ার নানা প্রান্তে চলমান যুদ্ধের মধ্যেই ইউরোপে শুরু হলো শীতকালীন প্যারা অলিম্পিক। ইতালির ভেরোনা এবং কোর্টিনা শহরে মিলিত হয়ে জ্বলে উঠল মানবিক সাহস, অন্তর্ভুক্তি ও খেলাধুলার এক অনন্য মিশেল। বিশ্ব যখন রাজনৈতিক বিভাজন, সামরিক সংঘাত এবং মানবিক সংকটের মুখোমুখি, ঠিক তখনই প্যারা অলিম্পিকের মশাল নতুন শক্তি ও আশা যোগালো।

২০২৬ সালের মিলানো-কোর্টিনা শীতকালীন প্যারা অলিম্পিকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান প্রাচীন ইতিহাসের সাক্ষী। ভেরোনার শেক্সপিয়ারের রোমিও-জুলিয়েট নাটকের চিরচেনা প্রেক্ষাপটে আয়োজনের মঞ্চে প্রথমবারের মতো শীতকালীন প্যারা অলিম্পিকের মশাল প্রদীপ জ্বলে উঠল। অনুষ্ঠান কেবল খেলাধুলা নয়, বরং আধুনিক প্রযুক্তি, মানবিক সহানুভূতি এবং অন্তর্ভুক্তি প্রদর্শনের এক অভিনব উদাহরণ হিসেবে বিশ্বকে অভিভূত করল।

উদ্বোধনী মঞ্চে সুরের মূর্ছনায় মাতালেন দুই হাতবিহীন বিশ্বখ্যাত ড্রামার করনেল রিসকা-মান। তাঁর সঙ্গীত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে প্রত্যেককে স্পর্শ করল মানবিক সাহস ও দৃঢ়তার বার্তা। এরপর একে একে মাঠে প্রবেশ করেন ৫৫টি দেশের ৬১১ জন অ্যাথলেট। এবারের শীতকালীন প্যারা অলিম্পিকে প্রথমবার অংশ নিল হাইতি, মন্টিনিগ্রো, উত্তর মেসিডোনিয়া, পর্তুগাল এবং এল সালভাদরের মতো দেশ। তারা মাঠে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গে উজ্জীবিত করল নতুন দেশের জন্য ক্রীড়া, সাহস এবং সম্ভাবনার প্রতীক।

তবে উৎসবের আনন্দের মাঝেও ছায়া ফেলেছে বিশ্ব রাজনীতি। রাশিয়া ও বেলারুশের অ্যাথলেটরা পূর্ণ জাতীয় পতাকাতলে অংশ নেয়ার কারণে ইউক্রেনসহ ইউরোপের ছয়টি দেশ প্যারেড বয়কট করেছে। এছাড়া ইরানের একমাত্র অ্যাথলিট আবুল ফজল খাতিবিও যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আসতে পারেননি। এতে স্পষ্ট হয়ে ওঠে, ক্রীড়ার আনন্দ কখনও কখনও আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক উত্তেজনার ছায়ায় অন্ধকারিত হতে পারে।

ইতালির রাষ্ট্রপতি সার্জিও মাত্তারেলা আনুষ্ঠানিকভাবে গেমস উদ্বোধন ঘোষণা করার পর মঞ্চে উপস্থিত হন মিকি বায়োনিক, যিনি বিশ্বের প্রথম ডিজে যিনি বায়োনিক হাত ব্যবহার করে সঙ্গীত পরিবেশন করেন। তাঁর পরিবেশনা তুলে ধরেছে গেমসের মূল থিম ‘আইটি’স ইওর ভাইব’। অনুষ্ঠানটির মাধ্যমে প্রদর্শিত হলো প্রযুক্তি ও মানবিক সাম্যের এক অনন্য সমন্বয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের শেষের দিকে মঞ্চ মাতান ইতালির ফেন্সিং তারকা বিট্রিচ ‘বেবে’ ভিও। মশাল হাতে তিনি যখন মঞ্চে প্রবেশ করেন, তখন ইতিহাসে প্রথমবার মিলান এবং কোর্টিনা দুই শহরে একসঙ্গে জ্বলে ওঠে অলিম্পিকের শিখা। বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে মহাকাশ থেকেও বিশেষ বার্তা প্রেরণ করা হয়। মহাকাশচারী সোফি অ্যাডেনোট এবং প্রথম হুইলচেয়ার ব্যবহারকারী হিসেবে মহাকাশে পা রাখা মিশেলা বেনথাউস অ্যাথলেটদের অনুপ্রাণিত করেন।

এই শীতকালীন প্যারা অলিম্পিকের মূল লক্ষ্য কেবল প্রতিযোগিতা নয়, বরং মানবিক সাহস, অন্তর্ভুক্তি এবং মানসিক শক্তির প্রতীক হিসেবে বিশ্বের সামনে তুলে ধরা। ১৫ মার্চ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এই আসরে অ্যাথলেটরা ৬টি স্পোর্টসের ৭৯টি মেডেল ইভেন্টে অংশ নেবেন। প্রতিটি জয় ও পরাজয়ই মানুষকে শেখাবে, সীমাবদ্ধতা নয়, বরং মানুষের অপরাজেয় মানসিক শক্তিই গুরুত্বপূর্ণ।

বিশ্বের নানা প্রান্তের রাজনৈতিক সংকট, যুদ্ধ ও সামাজিক বিভাজনের মধ্যেও প্যারা অলিম্পিক মানবতার এক শক্তিশালী বার্তা হিসেবে কাজ করছে। এ আসরের মাধ্যমে প্রদর্শিত হচ্ছে, ক্রীড়া শুধুমাত্র শারীরিক ক্ষমতার পরীক্ষা নয়, বরং অন্তর্ভুক্তি, সাহস এবং সামাজিক সমতার প্রতীক। ৫৫টি দেশের অ্যাথলেটরা তাদের পারফরম্যান্সের মাধ্যমে প্রমাণ করছেন, কোনো প্রতিকূলতা বা বৈষম্য তাদের স্বপ্ন ও লড়াই থামাতে পারবে না।

মঞ্চে প্রদর্শিত অভিনব প্রযুক্তি, ডিজে পরিবেশনা, মহাকাশচারীর বার্তা এবং প্রাচীন ভেরোনার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট একত্রে একটি অনন্য অভিজ্ঞতা প্রদান করছে। এই গেমস মানবতার জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করছে, যেখানে অংশগ্রহণকারীরা শুধুমাত্র প্রতিযোগিতা করছে না, বরং মানুষের মনোবল ও সাহসকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত