প্রকাশ: ০৯ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে ভারতের বাজিমাত শুধু শিরোপা জেতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, ক্রিকেট ইতিহাসের একাধিক রেকর্ডও ভেঙেছে। আহমেদাবাদের মাঠে নিউজিল্যান্ডকে ৯৬ রানের ব্যবধানে হারিয়ে ভারত এক নজিরবিহীন দিক থেকে খেলার দুনিয়ায় নতুন অধ্যায় লিখেছে।
ভারতের এই জয়ের মাধ্যমে তাদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শিরোপার সংখ্যা তিনটিতে পৌঁছেছে। এর আগে ২০০৭ এবং ২০২৪ সালে দলটি চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। কোনো দল প্রথমবারের মতো তিনটি শিরোপা জেতার কীর্তি গড়ল—এর আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং ইংল্যান্ড দুটি করে শিরোপা জিতেছিল। শুধু তাই নয়, ভারতের এই জয়ে ইতিহাসে প্রথম দল হিসেবে টানা দুইবার বিশ্বকাপ জেতার রেকর্ডও গড়ে। আরও বড় কথা, নিজেদের মাঠে বিশ্বকাপ জেতার বিরল কীর্তিও স্থাপন করেছে দলটি।
ফাইনালে ভারতীয় ব্যাটিং দলে দেখা যায় বিধ্বংসী জাদু। ৫ উইকেটে ২৫৫ রানের বড় সংগ্রহ গড়ে, যা আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টির নকআউট ম্যাচে সর্বোচ্চ। এই টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ভারত ২৫৩ রান করেছিল, যা ফাইনালের আগে তাদের সর্বোচ্চ নকআউট ম্যাচ সংগ্রহ ছিল। এই ফাইনালের ৯৬ রানের জয় একই সঙ্গে তাদের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ব্যবধানের জয় হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
জয়ের নায়ক ছিলেন স্যামুয়েল স্যামসন। মাত্র ৪৬ বলে ৮৯ রান করে তিনি ফাইনালের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত স্কোর করেন। এর আগে এই রেকর্ড ছিল মারলন স্যামুয়েলস এবং কেন উইলিয়ামসনের ৮৫ রান। পুরো টুর্নামেন্টে ৩২১ রান করে তিনি গড়েছেন আরেকটি রেকর্ড—টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে কোনো ভারতীয় ব্যাটারের সর্বোচ্চ রান। এই কীর্তিতে তিনি ছাড়িয়ে গেছেন বিরাট কোহলির ২০১৪ সালের ৩১৯ রান। এছাড়া ২৪টি ছক্কা হাঁকিয়ে বিশ্বকাপের এক আসরে সর্বোচ্চ ছক্কার রেকর্ডও স্থাপন করেন স্যামসন।
ফাইনালের শুরুটা দেন অভিষেক শর্মা। মাত্র ১৮ বলে ফিফটি করে তিনি নকআউট ম্যাচে দ্রুততম অর্ধশতকের রেকর্ড গড়েন। অভিষেক শর্মা এবং স্যামসনের ৯৮ রানের ওপেনিং জুটি ফাইনালের নতুন রেকর্ড। পাওয়ার প্লেতে তাদের ব্যাটিংয়ে ভারত ৯২ রান করে, যা বিশ্বকাপের ইতিহাসে যৌথ সর্বোচ্চ। এই জুটির ধারাবাহিকতা ভারতকে শক্তিশালী ভিত্তি দিয়েছে পুরো ইনিংসের জন্য।
ব্যাটিংয়ের পর বোলিংয়ে দাপট দেখান জসপ্রিত বুমরাহ। মাত্র ১৫ রান খরচে ৪ উইকেট নেন তিনি, যা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ফাইনালে বিরল কীর্তি। এর আগে ২০১২ সালে অজন্তা মেন্ডিস এই কীর্তি স্থাপন করেছিলেন। বুমরাহর ধারাবাহিক বোলিং দলের জয়ের পথে বড় ভূমিকা রাখে, এবং প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলে।
সব মিলিয়ে ব্যাটিং এবং বোলিংয়ের এই সম্মিলিত শক্তি ভারতের জয়কে শুধু নিশ্চিত করেনি, বরং একের পর এক রেকর্ডও স্থাপন করেছে। ফাইনাল ম্যাচে বিধ্বংসী ব্যাটিং, রেকর্ড ভাঙা ইনিংস এবং দাপুটে বোলিং একত্রে ভারতের ক্রীড়া ইতিহাসে নতুন মাইলফলক স্থাপন করেছে। ভারতের ক্রিকেটপ্রেমীরা এই জয়ের মধ্য দিয়ে দেখতে পেয়েছেন দলের গভীর সংহতি, আত্মবিশ্বাস এবং চাপ সামলানোর দক্ষতা।
এই জয়ের মাধ্যমে ভারত ক্রিকেট ইতিহাসে অনন্য পরিচয় গড়ে দিয়েছে। টানা দুইবার বিশ্বকাপ জেতা, ফাইনালের সর্বোচ্চ স্কোর, সর্বোচ্চ ছক্কার রেকর্ড এবং নকআউট ম্যাচে সর্বোচ্চ সংগ্রহ—সবই মিলিয়ে ভারত ক্রিকেটের একটি স্বর্ণযুগে প্রবেশ করেছে। এই জয়ে শিক্ষণীয় বার্তা হলো ধৈর্য, পরিকল্পনা এবং দক্ষতা মিলে যেকোনো চ্যালেঞ্জ জয় সম্ভব।
বিশ্বকাপ জয়ের গল্পে স্যামসন এবং অভিষেক শর্মার অবদান বিশেষভাবে স্মরণযোগ্য। স্যামসনের ধারাবাহিক রানের পাশাপাশি অভিষেকের দ্রুততম ফিফটি এবং তাদের ওপেনিং জুটির শক্তি পুরো দলের মনোবল বাড়িয়েছে। পাশাপাশি বুমরাহর বোলিংয়ের ধারাবাহিকতা প্রতিপক্ষের যেকোনো প্রতিরোধকে ভেঙে দিয়েছে। সব মিলিয়ে ভারতীয় দলের এই জয় শুধু শিরোপা নয়, বরং ক্রিকেট ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা।