সর্বশেষ :
কেনিয়ায় ভয়াবহ বৃষ্টি-বন্যা, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪২ যশোরে যান্ত্রিক ত্রুটি, প্রশিক্ষণ বিমানের জরুরি অবতরণ লেবাননে হামলায় সাদা ফসফরাস ব্যবহারের প্রমাণ: এইচআরডব্লিউ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বেপজার নির্বাহী চেয়ারম্যানের সৌজন্য সাক্ষাৎ নিরাপত্তা ও সামরিক দক্ষতায় মোজতবা খামেনি ইরানের নতুন নেতা সৌদিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় টাঙ্গাইলের মোশাররফ নিহত ঈদে নতুন নোট নেই, খোলা বাজারে দাম দাড়িয়েছে আকাশছোঁয়া মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ বিদ্যুৎ-জ্বালানি বাজারে প্রভাব ছড়াচ্ছে হাদি হত্যার আসল খুনি নিয়ে প্রকাশ্যে সালাহউদ্দিন আম্মার মত আজ থেকে বন্ধ দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয় বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের উদ্যোগে

নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মেঘনায় জাটকা ইলিশ নিধন

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬
  • ১৬ বার
মেঘনা জাটকা ইলিশ অবৈধ শিকার

প্রকাশ: ০৯ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

লক্ষ্মীপুরের মেঘনা নদীতে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জাটকা ইলিশসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছের অবৈধ শিকার চলছে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, এই ধরনের আচরণ দীর্ঘমেয়াদে ইলিশ উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এবং নদীর জৈববৈচিত্র্যের জন্যও বিপদ সৃষ্টি করছে। স্থানীয়দের মতে, এই অবৈধ শিকার ও ব্যবসার পেছনে রয়েছে নৌ-পুলিশ, মৎস্য অধিদপ্তর, আড়তদার ও মহাজনের সহযোগিতা, যা জেলেদের উৎসাহিত করছে এবং নিয়মিতভাবে নদীতে জাটকা শিকার অব্যাহত রাখছে।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, ১ মার্চ মধ্যরাত থেকে ৩০ এপ্রিল মধ্যরাত পর্যন্ত মেঘনা নদীর রামগতি উপজেলার চর আলেকজান্ডার থেকে চাঁদপুরের ষাটনল এলাকা পর্যন্ত ইলিশ মাছ শিকার, পরিবহন ও ক্রয়-বিক্রয় সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ। এই ১০০ কিলোমিটার এলাকায় সকল প্রজাতির মাছ ধরা, পরিবহন ও বেচাকেনা বন্ধ থাকবে। আইন অমান্যকারীদের জন্য রয়েছে জরিমানা, দুই বছরের জেল এবং উভয়দণ্ডে দণ্ডিত করার বিধান, কিন্তু স্থানীয়রা জানিয়েছেন, এসব আইন কার্যকর হচ্ছে না।

স্থানীয়রা জানায়, কয়েকজন জেলে জাল ফেলেই মাছ ধরছেন এবং মৎস্য শিকার শুরু হচ্ছে গভীর রাতে ও ভোরের অন্ধকারে। মতিরহাট ঘাটের কাছে প্রকাশ্যে ইলিশ মাছ ক্রয়-বিক্রয় হচ্ছে। উপজেলার হাজিরহাট বাজার, আলেকজান্ডার মাছঘাট, আসলপাড়া, বিবিরহাট ওছখালী, রামগতি বাজার ও ব্রিজঘাটেও একই অবস্থা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা বলেন, অসাধু জেলেরা জাল পেতে নিরাপদ দূরত্বে বসে থাকে এবং সুবিধামতো সময়ে এসে জাল টেনে মাছ ট্রলারে তুলে দ্রুত নদী থেকে শিকারের কাজ শেষ করে।

এই অবৈধ শিকারের পেছনে আড়তদার ও মহাজনের দাদন ব্যবসার উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রয়েছে। জেলেরা জানিয়েছে, জাল, ট্রলার ও তেলের খরচ বহন করছে আড়তদার ও মহাজন। তাদের সমর্থন ছাড়া এত বড় পরিসরে জাটকা ইলিশ শিকার সম্ভব নয়। এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, রামগতি বড়খেরী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির কিছু কর্মকর্তার মাধ্যমে ট্রলারের জন্য অনুমতি প্রদানের ব্যবস্থা করা হচ্ছে, যা নিষিদ্ধ সময়ে নদীতে ট্রলার চলাচলকে উৎসাহিত করছে।

নৌ-পুলিশের ইনচার্জ সফিকুর রহমান অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছেন, নদীর বিভিন্ন স্থানে মাছ শিকারের খবর তাদের কাছে আসছে। তিনি আরও বলেন, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ও কোস্টগার্ডের সঙ্গে সমন্বয় করে অভিযান পরিচালনা করা হবে। কমলনগর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা তুর্য সাহা জানিয়েছেন, তাদের জনবল মাত্র চারজন, যা এত বিশাল এলাকা নিয়ন্ত্রণের জন্য যথেষ্ট নয়। তিনি বলেন, আড়তদারদের চাপের কারণে মূলত জেলেরা নদীতে জাটকা ইলিশ শিকার করছে এবং মৎস্য বিভাগ এ অবৈধ কার্যকলাপে জড়িত নয়।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, এই অবৈধ ব্যবসা ও শিকার সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষতি করছে। জেলেরা অভিযানকারীদের চোখ ফাঁকি দিয়ে গভীর রাত বা ভোরে নদীতে নামছে এবং মাছ শিকার শেষে তা দ্রুত বাজারে পৌঁছে দিচ্ছে। ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ও উদ্বেগ বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া, নদীর মাছ সম্পদের ওপর দীর্ঘমেয়াদে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে, যা এলাকার অর্থনীতি ও জনজীবনকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

এই পরিস্থিতিতে স্থানীয় প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগকে তৎপর হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন অধিবাসীরা। তারা বলেন, নদীর জৈববৈচিত্র্য রক্ষা ও ইলিশের উৎপাদন ধরে রাখার জন্য কার্যকর অভিযান জরুরি। পাশাপাশি, নৌ-পুলিশ ও আড়তদারদের অবৈধ সমর্থন বন্ধ করা হলে এই ধরনের অবৈধ শিকার নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, নদীর ইলিশ সম্পদের টেকসই ব্যবহার নিশ্চিত করতে না পারলে, স্থানীয় পর্যায়ে জাটকা নিধন চরম বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। জেলেদের অবৈধ কার্যক্রম বন্ধ করা এবং স্থানীয় জনগণকে সচেতন করা এখন সময়ের দাবী। এছাড়া, নদীর নিরাপত্তা ও উৎপাদনশীলতা রক্ষার জন্য যথাযথ তদারকি ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়াই একমাত্র সমাধান বলে মনে করছেন তারা।

এ ধরনের অবৈধ শিকার ও নেপথ্য চক্র বন্ধ করা না গেলে মেঘনা নদীর ইলিশ উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং স্থানীয়দের জীবন-জীবিকা ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তাও বিপন্ন হবে। তাই সকল সংস্থা, প্রশাসন ও স্থানীয় জনগণকে একযোগে কাজ করে নদীর জৈবসম্পদ সংরক্ষণে পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত