গ্রীষ্মের ছুটিতে শিশুদের জন্য সাঁতার শেখা হতে পারে এক উত্তম উদ্যোগ

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৭ জুলাই, ২০২৫
  • ৩৩ বার

প্রকাশ: ১৭ জুলাই ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা।একটি বাংলাদেশ অনলাইন

গ্রীষ্মকাল মানেই শিশুদের প্রাণ খুলে খেলার সময়। স্কুল-কলেজের বই, রুটিন আর পরীক্ষার চাপে ক্লান্ত ছোট্ট প্রাণগুলো বছরের এই সময়টাতেই একটু খোলা হাওয়ায় নিঃশ্বাস নেওয়ার সুযোগ পায়। কিন্তু প্রযুক্তির ছড়াছড়ির এই যুগে ছুটির দিনগুলো ঘরে বসে মোবাইল, ট্যাব বা টেলিভিশনের স্ক্রিনেই কেটে যায় অধিকাংশ শিশুর। ফলে শারীরিক সক্রিয়তা যেমন কমে, তেমনি মানসিক বিকাশেও সৃষ্টি হয় ব্যাঘাত। এই প্রেক্ষাপটে গ্রীষ্মের ছুটিতে সাঁতার শেখাকে একটি উপযোগী ও সময়োপযোগী উদ্যোগ হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে।

সাঁতার কেবল একটি খেলাধুলার মাধ্যম নয়, বরং এটি একটি জরুরি জীবনদক্ষতা। বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ হওয়ায় প্রতিবছর হাজার হাজার মানুষ পানিতে ডুবে মারা যান। এসব মৃত্যুর একটি বড় অংশই শিশুরা। এদেশের বাস্তবতায় সাঁতার শেখা শুধু স্বাস্থ্যের জন্য নয়, জীবন বাঁচানোর জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুকালে সাঁতার শেখা তুলনামূলকভাবে সহজ, কারণ তাদের শরীর নমনীয় এবং জলভীতি খুব বেশি গভীরে প্রোথিত নয়। শিশুরা যদি প্রাথমিক পর্যায়েই সাঁতার শেখে, তবে ভবিষ্যতে তারা শুধু নিরাপদ থাকবে না, বরং আত্মবিশ্বাস ও শারীরিক সক্ষমতার দিক থেকেও অনেক বেশি এগিয়ে থাকবে।

সাঁতার একটি পূর্ণাঙ্গ ব্যায়াম। এতে শরীরের প্রায় প্রতিটি পেশি কাজ করে এবং শ্বাসপ্রশ্বাসের নিয়মিত অনুশীলন ঘটে। ফলে এটি শিশুর ফুসফুস, হৃদযন্ত্র ও স্নায়ুতন্ত্রের সুস্থতায় সহায়তা করে। এছাড়াও সাঁতার মনোযোগ বাড়াতে সাহায্য করে, শৃঙ্খলা শেখায় এবং মানসিক চাপ হ্রাস করে—যা শিশুদের মানসিক বিকাশেও অত্যন্ত কার্যকর।

ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেটসহ দেশের বড় বড় শহরে ইতোমধ্যেই শিশুদের জন্য আধুনিক সাঁতার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে উঠেছে। অনেক স্কুল-কলেজেও গ্রীষ্মকালীন ছুটির সময় স্বল্পমেয়াদি সাঁতার প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হচ্ছে। তবে শুধু শহরে নয়, গ্রামাঞ্চলেও স্থানীয় পুকুর, খাল বা ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে শিশুদের সাঁতার শেখানোর উদ্যোগ গ্রহণ করা হলে এটি একটি বড় সামাজিক পরিবর্তনের সূচনা করতে পারে।

পিতা-মাতাদের প্রতি বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ—শিশুর মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্য উন্নয়নে সাঁতার শেখাকে উৎসাহিত করুন। এতে শিশু যেমন সক্রিয় থাকবে, তেমনি ইলেকট্রনিক ডিভাইস নির্ভরতা থেকেও কিছুটা হলেও মুক্তি পাবে। আর একে ঘিরে তৈরি হতে পারে একটি স্বাস্থ্যকর ছুটির অভিজ্ঞতা।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জাতিসংঘ এবং ইউনিসেফও শিশুদের পানিতে ডুবে যাওয়া প্রতিরোধে সাঁতার শিক্ষা কর্মসূচিকে অন্যতম প্রধান কৌশল হিসেবে গুরুত্ব দিচ্ছে। বাংলাদেশেও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে কিছু এলাকায় পরীক্ষামূলকভাবে সাঁতার শিক্ষা কার্যক্রম চালু হয়েছে, যার প্রাথমিক ফলাফল অত্যন্ত ইতিবাচক।

সব মিলিয়ে গ্রীষ্মের এই অবসর সময়কে কেবল বিশ্রামের সময় নয়, বরং শিশুর সামগ্রিক বিকাশের সুযোগ হিসেবে কাজে লাগানো জরুরি। এবং এই বিকাশে সাঁতার হতে পারে এক গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। কারণ শিশুদের জীবন বাঁচানোর পাশাপাশি, এটি তৈরি করে আত্মবিশ্বাসী, স্বাস্থ্যবান ও প্রাণবন্ত এক প্রজন্ম—যারা আগামী দিনের বাংলাদেশ গড়বে নিজের শক্তিতে, ভরসায় ও সাহসে।
একটি বাংলাদেশ অনলাইন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত