সর্বশেষ :
টানা ২ দফায় রুপার দাম বেড়েছে ৩৫০ টাকা বিএনপির সংসদীয় দলের বৈঠক শুরু, স্পিকার নির্বাচনে আলোচনা কাতারের প্রতিমন্ত্রী জানালো, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো ইরানের শত্রু নয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সভাপতিতে যোগ্যতার শর্ত দিলেন এমপি মাজেদ ঢাকা ওয়াসার নতুন এমডি সাবেক সচিব আমিনুল ইসলাম নিযুক্ত বুধবারের বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হারে সামান্য পরিবর্তন নারায়ণগঞ্জে যুবদল নেতার ব্যবসায় হামলায় কর্মী গুরুতর জখম স্বর্ণের দাম টানা দুই দফায় ৫ হাজারের বেশি বেড়েছে ইংল্যান্ডের রাইট-ব্যাক কাইল ওয়ালকার আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা চট্টগ্রাম বন্দরে জ্বালানি খালাস অব্যাহত, মজুত সক্ষমতা বাড়ানোর তাগিদ

তেহরানের আবাসিক এলাকায় বিমান হামলা, আতঙ্কে নগরবাসী

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১১ মার্চ, ২০২৬
  • ১৮ বার
তেহরানে বিমান হামলা আবাসিক এলাকা

প্রকাশ: ১১ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ইরানের রাজধানী তেহরানের একটি আবাসিক এলাকায় বুধবার ভোরে নতুন করে বিমান হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলার পরপরই সেখানে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করেছে ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি। মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে এই হামলার খবর ছড়িয়ে পড়ায় নগরজুড়ে আতঙ্ক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় জানায়, অল্প সময় আগে তেহরানের আরেকটি আবাসিক এলাকায় বিমান হামলার ঘটনা ঘটেছে। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে। সংস্থাটির সদস্যদের পাশাপাশি অগ্নিনির্বাপণ বাহিনীর কর্মীরাও ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া মানুষের সন্ধানে কাজ করছেন।

রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির প্রকাশিত একটি দৃশ্যে দেখা যায়, একটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের সামনে উদ্ধারকর্মীরা জড়ো হয়েছেন। ধ্বংসস্তূপের ভেতরে কেউ আটকে পড়েছেন কি না তা শনাক্ত করার জন্য একটি প্রশিক্ষিত উদ্ধারকারী কুকুরকেও ধ্বংসাবশেষের দিকে এগিয়ে যেতে দেখা যায়। আশপাশের সড়কে ছড়িয়ে থাকা কংক্রিটের টুকরো, ভাঙা কাচ ও অন্যান্য ধ্বংসাবশেষ হামলার তীব্রতার চিত্র তুলে ধরছে।

তবে শহরের ঠিক কোন এলাকায় হামলাটি হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্টভাবে কিছু জানানো হয়নি। নিরাপত্তাজনিত কারণে ঘটনাস্থলের সুনির্দিষ্ট অবস্থান প্রকাশ করা থেকে বিরত রয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল–জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, তেহরানের একটি ব্যাংক ভবনে বিমান হামলার ঘটনায় অন্তত একজন কর্মী নিহত হয়েছেন। আহতের সংখ্যাও থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, যদিও সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গভীর রাত থেকেই তেহরানের বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছিল। অনেকেই আকাশে যুদ্ধবিমান উড়তে দেখেছেন বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উল্লেখ করেছেন। একাধিক শক্তিশালী বিস্ফোরণে আশপাশের এলাকা কেঁপে ওঠে এবং অনেক বাসিন্দা আতঙ্কে ঘরের ভেতরে আশ্রয় নেন।

তেহরানের গভর্নর মোহাম্মদ সাদেক মোতামেদিয়ান জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক হামলায় শুধু আবাসিক এলাকাই নয়, বরং বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস ও যোগাযোগ ব্যবস্থার মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। তার দাবি, এসব হামলার পেছনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সম্পৃক্ততা রয়েছে।

এই অভিযোগের বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরাইল। তবে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহল পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখছে। বিশ্লেষকদের মতে, এমন ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক ও রাজনৈতিক উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

বিমান হামলার পর তেহরানের সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। আবাসিক এলাকায় হামলার খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় অনেক পরিবার নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন স্থানে বিস্ফোরণের কারণে আশপাশের অনেক ভবনের জানালার কাচ ভেঙে গেছে এবং কিছু যানবাহনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।

উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে সম্ভাব্য আহত বা আটকে পড়া মানুষদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন। উদ্ধার কাজে ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হচ্ছে এবং ঘটনাস্থলের আশপাশে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। সাধারণ মানুষকে ঘটনাস্থলের কাছাকাছি না যাওয়ার জন্যও অনুরোধ জানানো হয়েছে।

মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকেও এই ঘটনা গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। সামরিক সংঘাত বা উত্তেজনার সময় সাধারণ মানুষের জীবনই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে পড়ে। এই হামলাও সেই বাস্তবতার একটি স্পষ্ট উদাহরণ। অনেক পরিবার রাতভর আতঙ্কে কাটিয়েছে, শিশুদের মধ্যে ভীতি ছড়িয়ে পড়েছে এবং অনেকে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র যাওয়ার চেষ্টা করছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, তেহরানে এমন হামলা মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক উত্তেজনাকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতেও এর প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিভিন্ন দেশ পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে এবং প্রয়োজনে কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়ার কথাও আলোচনা হচ্ছে।

উদ্ধার অভিযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা জানা সম্ভব হবে না বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তবে ঘটনাস্থলে ধ্বংসস্তূপের পরিমাণ দেখে ধারণা করা হচ্ছে, ক্ষয়ক্ষতি উল্লেখযোগ্য হতে পারে। উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া মানুষদের খুঁজে বের করতে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

তেহরানের এই বিমান হামলার ঘটনা আবারও স্মরণ করিয়ে দেয় যে, সামরিক উত্তেজনার সবচেয়ে বড় মূল্য দিতে হয় সাধারণ মানুষকে। নিরাপত্তাহীনতা, আতঙ্ক এবং অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাতে হচ্ছে শহরের বহু বাসিন্দাকে।

পরিস্থিতি কত দ্রুত স্বাভাবিক হবে কিংবা আরও হামলার আশঙ্কা রয়েছে কি না—এসব প্রশ্ন এখন তেহরানবাসীর মনে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। আন্তর্জাতিক মহলও পরিস্থিতির দিকে সতর্ক নজর রাখছে, কারণ এই ঘটনার প্রভাব একটি শহরের গণ্ডি ছাড়িয়ে বৃহত্তর অঞ্চলজুড়েও পড়তে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত