সর্বশেষ :
জীবননগরে আইসিটি কর্মকর্তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, তদন্তে পুলিশ টানা পাঁচ দিন দেশজুড়ে বৃষ্টির সম্ভাবনা, স্বস্তি মিলতে পারে তাপদাহ থেকে সরকারি প্রাথমিক শিক্ষকদের জন্য কঠোর নির্দেশনা, দায়িত্ব পালনে গাফিলতি না করার সতর্কবার্তা অবৈধ গ্যাস সংযোগে চুন কারখানা, রাষ্ট্রের কোটি টাকার ক্ষতির অভিযোগে দুইজন কারাগারে কবি আল মুজাহিদীর মৃত্যুতে শোকের ছায়া হামলা হলে ন্যাটোকে বিধ্বংসী জবাব দেবে রাশিয়া লেবানন সীমান্তে সংঘর্ষে নিহত ৪ ইসরাইলি সেনা, বাড়ছে উত্তেজনা সাঘাটায় যমুনা নদীর তীররক্ষা বাঁধে ধস, আতঙ্কে শতাধিক পরিবার আড়াই ঘণ্টার পতাকা বৈঠকেও মিলল না ডিপজলের খোঁজ, উদ্বেগে পরিবার সাতক্ষীরায় পৃথক স্থান থেকে তিন ব্যক্তির লাশ উদ্ধার, এলাকায় চাঞ্চল্য

ইতালিতে ভাইয়ের হাতে ভাই হত্যার ভয়াবহ ঘটনা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১ মে, ২০২৬
  • ২৬ বার
ইতালিতে ছোট ভাইকে হত্যা করে ভিডিও কলে স্বজনদের দেখালেন বড় ভাই

প্রকাশ: ০১ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ইতালিতে এক প্রবাসী বাংলাদেশি পরিবারে ঘটে গেছে ভয়াবহ ও হৃদয়বিদারক ঘটনা। পারিবারিক কলহের জেরে আপন ছোট ভাইকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে বড় ভাইয়ের বিরুদ্ধে। শুধু হত্যাকাণ্ডেই শেষ হয়নি, বরং ঘটনার পর ভিডিও কলে দেশে থাকা স্বজনদের সামনে রক্তাক্ত মরদেহ দেখানোর অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

স্থানীয় সময় বুধবার (২৯ এপ্রিল) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে ইতালির লেইজ শহরে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয় পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে।

নিহত ব্যক্তির নাম নয়ন ফকির এবং অভিযুক্ত বড় ভাইয়ের নাম হুমায়ুন ফকির। তারা দুজনই বাংলাদেশের মুন্সীগঞ্জ জেলার টঙ্গীবাড়ি উপজেলার বাসিন্দা বলে জানা গেছে। দীর্ঘদিন ধরে তারা ইতালিতে বসবাস করছিলেন এবং প্রবাস জীবনে একই পরিবারের সদস্য হয়েও পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ চলছিল।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন দুই ভাইয়ের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা সহিংসতায় রূপ নেয়। উত্তেজনার মুহূর্তে বড় ভাই হুমায়ুন ফকির ধারালো অস্ত্র দিয়ে ছোট ভাই নয়ন ফকিরকে একাধিক আঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত ব্যক্তি আরেকটি ভয়াবহ পদক্ষেপ নেন। তিনি ভিডিও কলের মাধ্যমে বাংলাদেশে থাকা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং সেখানে নিহত ভাইয়ের রক্তাক্ত মরদেহ দেখান বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে তিনি নিজেই হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি স্বীকার করেন।

এই দৃশ্য দেখে দেশে থাকা পরিবারের সদস্যরা হতবাক হয়ে পড়েন এবং কান্নায় ভেঙে পড়েন। মুহূর্তের মধ্যেই ঘটনাটি প্রবাসী ও স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটিতে ছড়িয়ে পড়ে, যা গভীর শোক ও আতঙ্কের সৃষ্টি করে।

খবর পেয়ে ইতালির স্থানীয় পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে ঘটনাস্থল থেকে হুমায়ুন ফকিরকে গ্রেপ্তার করে। বর্তমানে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত চলছে।

নিহত নয়ন ফকিরের মরদেহ ইতালির একটি স্থানীয় মর্গে রাখা হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মরদেহটি দেশে পাঠানোর জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।

প্রবাসে এমন পারিবারিক সহিংসতার ঘটনা বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে। স্থানীয় প্রবাসীরা বলছেন, বিদেশের মাটিতে একই পরিবারের সদস্যদের মধ্যে এমন মর্মান্তিক ঘটনা খুবই দুঃখজনক এবং উদ্বেগজনক।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে মূল কারণ হিসেবে পারিবারিক বিরোধ ও ব্যক্তিগত উত্তেজনা উঠে এসেছে। তবে তদন্ত শেষে পুরো বিষয়টি স্পষ্ট হবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রবাস জীবনে দীর্ঘদিন ধরে মানসিক চাপ, অর্থনৈতিক টানাপোড়েন এবং পারিবারিক দূরত্ব অনেক সময় সম্পর্কের মধ্যে জটিলতা তৈরি করে, যা কখনো কখনো এমন ভয়াবহ ঘটনার জন্ম দিতে পারে।

প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির নেতারা এই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, পারিবারিক বিরোধ কখনোই সহিংসতায় রূপ নেওয়া উচিত নয়। তারা প্রবাসীদের মধ্যে মানসিক সহনশীলতা ও পারিবারিক সম্পর্কের গুরুত্ব বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

এদিকে নিহতের পরিবার দেশে গভীর শোকে নিমজ্জিত। তারা দ্রুত মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের সহযোগিতা কামনা করেছে।

সব মিলিয়ে ইতালিতে ঘটে যাওয়া এই পারিবারিক হত্যাকাণ্ড শুধু একটি পরিবারের জন্য নয়, বরং পুরো প্রবাসী সমাজের জন্য একটি গভীর বেদনার ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তদন্ত শেষে পুরো ঘটনার বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে বলে আশা করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত