সিলেটের জকিগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশের পর নিখোঁজ হওয়া যুবক ডিপজল আহমদের সন্ধান এখনো মেলেনি। ঘটনার তিন দিন পেরিয়ে গেলেও তার অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এ নিয়ে সীমান্ত এলাকায় উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বাড়ছে। পরিবারের সদস্যরা যেমন অপেক্ষার প্রহর গুনছেন, তেমনি স্থানীয় বাসিন্দারাও ঘটনার দ্রুত সমাধান দাবি করছেন।
নিখোঁজ যুবকের বিষয়ে জানতে বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি) এবং ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের মধ্যে একাধিকবার যোগাযোগ হয়েছে। সর্বশেষ অনুষ্ঠিত আড়াই ঘণ্টাব্যাপী পতাকা বৈঠকেও ডিপজলের অবস্থান সম্পর্কে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। বৈঠকে বিএসএফ জানিয়েছে, তাদের কাছে এ বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য নেই এবং তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েকজন যুবকের সঙ্গে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশ করেছিলেন ডিপজল। পরে ফেরার সময় সীমান্ত এলাকায় হঠাৎ পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে তার সঙ্গীরা বাংলাদেশে ফিরে আসতে সক্ষম হন। কিন্তু ডিপজল আর ফিরে আসেননি। এরপর থেকেই তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
ডিপজলের সঙ্গে থাকা কয়েকজনের দাবি, সীমান্ত এলাকায় বিএসএফ সদস্যদের ধাওয়া ও গুলির ঘটনা ঘটেছিল। তাদের ধারণা, ওই ঘটনায় ডিপজল হতাহত হতে পারেন। তবে এ ধরনের অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত হয়নি। বিএসএফও গুলির ঘটনার কথা অস্বীকার করেছে বলে জানা গেছে।
ঘটনার পর থেকে ডিপজলের পরিবার চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। পরিবারের সদস্যরা বলছেন, তিনি কোথায় আছেন, জীবিত না মৃত—কোনো কিছুই তারা জানেন না। অনিশ্চয়তার এই পরিস্থিতি তাদের জন্য অত্যন্ত কষ্টদায়ক হয়ে উঠেছে।
এদিকে ঘটনাকে কেন্দ্র করে সীমান্তবর্তী এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ দ্রুত তদন্ত ও নিখোঁজ যুবকের সন্ধান দাবিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পরিস্থিতি শান্ত রাখতে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল। তাই গুজব বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল না করার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে তারা ডিপজলের অবস্থান সম্পর্কে দ্রুত তথ্য জানতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছেন।
বিজিবির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সীমান্তে ঘটে যাওয়া যেকোনো ঘটনার মতো এ ঘটনাকেও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। বিএসএফের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে এবং সম্ভাব্য সব তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। প্রয়োজন হলে আরও উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগও করা হবে।
সীমান্ত অঞ্চলে এ ধরনের ঘটনা নতুন নয়। বিভিন্ন সময় বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্তে অনুপ্রবেশ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া কিংবা নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ সামনে এসেছে। তবে প্রতিটি ঘটনায় পরিস্থিতি, প্রেক্ষাপট এবং তথ্য ভিন্ন হওয়ায় তদন্ত ছাড়া কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্ত এলাকায় যেকোনো নিখোঁজের ঘটনা দ্রুত তদন্ত করা জরুরি। কারণ সময় যত গড়ায়, নির্ভরযোগ্য তথ্য সংগ্রহ তত কঠিন হয়ে পড়ে। পাশাপাশি দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে সমন্বয়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
জকিগঞ্জ থানার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে। একই সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে এবং নতুন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে তা যাচাই করা হবে।
এদিকে স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধিরা ঘটনাস্থল পরিদর্শনের প্রস্তুতি নিয়েছেন। তারা সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার বিস্তারিত জানার চেষ্টা করবেন। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপও নেওয়া হবে।
সব মিলিয়ে, ডিপজল আহমদের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাটি সীমান্ত এলাকায় উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে আলোচনা চললেও এখনো তার কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। পরিবার, স্থানীয় বাসিন্দা এবং প্রশাসন সবাই অপেক্ষা করছে এমন একটি তথ্যের জন্য, যা এই রহস্যের সমাধান দিতে পারে এবং ডিপজলের ভাগ্য সম্পর্কে নিশ্চিত ধারণা দিতে সক্ষম হবে।