প্রকাশ: ১৮ জুলাই ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন
বাংলাদেশের রাজনীতি আজ যেন এক জটিল আবর্তে ঘুরপাক খাচ্ছে। কোথাও চেতনার দীপ্তি ম্লান, কোথাও ক্ষমতার লোভ প্রকট। রাজনীতির এই নতুন বাস্তবতা শুধু বিরোধীদল বা সরকারপক্ষ নয়, গোটা জাতিকেই চিন্তিত করে তুলেছে। আজকের রাজনীতির অস্থির আবহে প্রশ্ন উঠেছে—আমরা কী আদর্শ অনুসরণ করছি? ক্ষমতার আকাঙ্ক্ষা কি চেতনাকে গ্রাস করছে?
সাম্প্রতিক সময়ে দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে যে ধরণের সংঘাত, উত্তেজনা ও বিভাজন চোখে পড়ছে, তা কেবল দলীয় প্রতিযোগিতা নয়, বরং সমাজে একটি গভীর বিভ্রান্তির প্রতিচ্ছবি। একসময় যে রাজনীতি আদর্শ, ত্যাগ ও জনগণের স্বার্থকে ভিত্তি করে গড়ে উঠেছিল, আজ তা যেন ব্যক্তিকেন্দ্রিক স্বার্থ ও ক্ষমতার লড়াইয়ে পর্যবসিত হয়েছে।
ক্ষমতা পেতে বা টিকিয়ে রাখতে রাজনীতিবিদদের কৌশলের জাল দিনকে দিন ঘন হচ্ছে। মাঠের রাজনীতি এখন আর তৃণমূলের চেতনার প্রতিফলন নয়, বরং কেন্দ্রের দিকনির্দেশনায় পরিচালিত পেশাদার ‘রাজনৈতিক প্যাকেজ’। রাজনৈতিক ভাষ্য, বক্তৃতা এবং প্রতিক্রিয়াগুলোতেও অধিকাংশ সময় জনগণের স্বার্থ নয়, বরং ‘কে কাকে হারাতে পারবে’—এই চিত্র ফুটে ওঠে।
যেখানে আদর্শের জায়গা ছিল আন্দোলনে, সেখানে এখন স্থায়ী মঞ্চে চলছে ক্ষমতার ভাগাভাগি। বিরোধীদলের আন্দোলন এখন নিয়মিত কর্মসূচির মধ্যে সীমাবদ্ধ; সরকারদলীয় পক্ষ থেকে আবার ‘বিকাশের ধারা’ তুলে ধরা হচ্ছে সাফল্যের ব্যানারে। কিন্তু জনমনের প্রশ্ন—এই উন্নয়ন কাদের জন্য?
সোশ্যাল মিডিয়ায় চোখ রাখলেই স্পষ্ট হয়—মানুষ আজ রাজনীতি নিয়ে আগ্রহী নয়, বরং আতঙ্কিত। কখন কোথায় সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে, কে কাকে বিশ্বাসঘাতক বলবে, কে কাকে ‘দালাল’ ট্যাগ দেবে—এই ভয় ও সন্দেহ রাজনীতিকে আরও দূরে সরিয়ে দিচ্ছে সাধারণ নাগরিকদের কাছ থেকে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, রাজনীতির মূল উদ্দেশ্য ছিল একটি রাষ্ট্রকে সুস্থ গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচারের পথে পরিচালিত করা। কিন্তু বর্তমান বাস্তবতায় চেতনা, আদর্শ ও ত্যাগের মূল্য যেন ম্লান হয়ে পড়েছে। তরুণ সমাজের মাঝেও রাজনৈতিক সচেতনতা নেই বললেই চলে—কারণ তারা রাজনীতিকে দেখে এক ধরনের দুর্নীতিগ্রস্ত প্রতিযোগিতা হিসেবে।
বাংলাদেশের রাজনীতি আজ এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। এখানে যদি নেতৃত্ব দানে চেতনার জায়গা না থাকে, তবে এই অস্থিরতা কেবল ঘনীভূত হবে। প্রয়োজনে রাজনীতিকে আবার আদর্শের জায়গায় ফিরিয়ে আনতে হবে। জনগণের কাছে আবার আস্থা অর্জনের জন্য দরকার সত্যিকারের নেতৃত্ব, নৈতিকতা, এবং সবচেয়ে বড় কথা—স্বচ্ছতা।
ক্ষমতার খেলায় কেউ যদি চেতনার মৃত্যু ঘটাতে চায়, তবে তা দীর্ঘমেয়াদে কারো জন্যই কল্যাণকর হবে না। ইতিহাসের বিচার কখনো মিথ্যে হয় না—তাই এখনই সময় আত্মসমালোচনার, সময় সত্যিকারের চেতনার পথে ফিরবার।
একটি বাংলাদেশ অনলাইন