রাষ্ট্রপতি সংসদে ভাষণ দিতে পারবেন না: তাহের

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১১ মার্চ, ২০২৬
  • ৪৮ বার
রাষ্ট্রপতি সংসদে ভাষণ বিতর্ক

প্রকাশ: ১১ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

জামায়াতে ইসলামের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বুধবার বলেন, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সংসদে ভাষণ দেওয়ার কোনো বৈধ অধিকার নেই। তিনি বলেন, অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির বক্তব্য দেয়ার প্রথাগত বা সংবিধানগত অধিকার নেই, তবে বিএনপি কেন এমন উদ্যোগ নিচ্ছে, তা তার বোধগম্য নয়। এই মন্তব্য তিনি সংসদের বিরোধী দলের এমপিদের সঙ্গে বৈঠক শেষে প্রকাশ করেন।

তাহের আরও জানান, আসন্ন সংসদ অধিবেশনে বিরোধী দল বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে ডেপুটি স্পিকার পদ সংক্রান্ত আলোচনায়। এই বিষয়ে বিরোধী দলের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে এবং প্রস্তাব আসার পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে। তিনি বলেন, দলের সংসদ সদস্যদের মধ্যে মতভেদ থাকলেও সব প্রস্তাব ও নোটিশ নিয়ে যথাযথ সমন্বয় ও সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এর আগে জামায়াতে ইসলামের আমির এবং জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে দলের সংসদ সদস্যদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে ১১ দলের নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন এবং আসন্ন সংসদ অধিবেশনে বিরোধী দলের নোটিশ, মুলতবি প্রস্তাব এবং সাধারণ আলোচনার বিষয়বস্তু চূড়ান্ত করা হয়।

বিরোধী দলের সূত্রে জানা গেছে, এই বৈঠকে সংসদের কার্যপ্রণালী, ডেপুটি স্পিকার পদে বিরোধী দলের অবস্থান এবং রাষ্ট্রপতির ভূমিকা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে। তাদের লক্ষ্য হচ্ছে, নতুন সংসদে বিরোধী দলের কার্যক্রম সুশৃঙ্খল ও সংবিধান সম্মতভাবে পরিচালিত করা। তাহের বলেন, “সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণ দেওয়ার অধিকার নেই, এটি আমাদের দলের স্পষ্ট অবস্থান। আমরা চাই সংসদীয় প্রথা ও সংবিধান রক্ষা করা হোক।”

বিরোধী দল মনে করছে, রাষ্ট্রপতির কোনো বক্তব্য সংসদের কার্যক্রমকে প্রভাবিত করতে পারে। তাদের অভিযোগ, যদি রাষ্ট্রপতি বক্তব্য রাখেন, তা অনির্বাচিত সংবিধানগত ক্ষমতা প্রয়োগের সমতুল্য হবে। তাই তারা বৈধ ও সংবিধানসম্মত প্রক্রিয়ায় সংসদের কার্যক্রম পরিচালনার ওপর জোর দিচ্ছে।

তাহের আরও বলেন, দলের সংসদ সদস্যরা প্রথম অধিবেশনের প্রস্তুতি ইতোমধ্যেই সম্পন্ন করেছেন। তারা নোটিশ ও প্রস্তাবের ধরন নির্ধারণ করেছেন, যা কার্যক্রম শুরু হলে সংসদে প্রস্তাব হিসেবে উপস্থাপন করা হবে। এই প্রক্রিয়ায় বিরোধী দলের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালী ও বিরোধী দলের দায়িত্ব সম্পর্কে তাহের বলেন, “আমরা সব সময় চাই সংসদীয় কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে চলুক এবং সংবিধান অনুযায়ী সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক। রাষ্ট্রপতির ভূমিকা সীমিত এবং তা সংবিধান নির্ধারিত। আমাদের লক্ষ্য, সংসদে কোনো ধরনের অনিয়ম বা সংবিধান লঙ্ঘন যেন না ঘটে।”

বৈঠকে আরও আলোচনা হয়েছে, সংসদ অধিবেশনের প্রথম দিন থেকে বিরোধী দল কীভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করবে, কোন প্রস্তাবের উপর ভোটাভুটি হবে এবং সাধারণ আলোচনায় দলের অবস্থান কেমন হবে। তাহের জানান, সব সিদ্ধান্ত দলীয় সমন্বয় ও পর্যালোচনার ভিত্তিতে নেয়া হয়েছে।

সংবাদ বিশ্লেষকরা মনে করেন, আসন্ন সংসদ অধিবেশনে বিরোধী দলের এমন শক্ত অবস্থান সংসদীয় প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। রাষ্ট্রপতির ভূমিকা সংবিধান অনুযায়ী সীমিত হলেও রাজনৈতিক সমীকরণে তা নানা প্রশ্নের জন্ম দিতে পারে।

তাহেরের মন্তব্য প্রকাশ করে বিরোধী দল স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে, সংসদে কার্যক্রম চলাকালীন কোনো ধরনের সংবিধান লঙ্ঘন বা অতিরিক্ত ক্ষমতার প্রয়োগ সহ্য করা হবে না। তারা নিশ্চিত করতে চাইছেন, দেশের সর্বোচ্চ আইন অনুযায়ী সংসদীয় প্রথা রক্ষিত থাকবে এবং সংসদে সব প্রস্তাব ও নোটিশ যথাযথ নিয়মে পরিচালিত হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com