ইরাকে শপিং মলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত বেড়ে ৬৯

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১৮ জুলাই, ২০২৫
  • ৫৫ বার
ইরাকে শপিং মলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত বেড়ে ৬৯

প্রকাশ: ১৮ জুলাই’ ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

ইরাকের আল-কুত শহরের একটি বাণিজ্যিক ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৯ জনে। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা Iraqi News Agency (INA) জানিয়েছে, এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় এখনও পর্যন্ত বহু মানুষ আহত হয়েছেন এবং অনেকেই নিখোঁজ রয়েছেন। বুধবার দিবাগত রাতের এই ঘটনায় শহরজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, পাঁচতলা বিশিষ্ট ওই শপিং মলটির নিচতলায় একটি এয়ার কন্ডিশনার বিস্ফোরণের মাধ্যমে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে পুরো ভবনে। বেশিরভাগ মানুষ তখন ভবনের মধ্যেই অবস্থান করছিলেন, ফলে অনেকেই নিরাপদে বের হতে পারেননি। অগ্নিকাণ্ডের ভয়াবহতা এতটাই ছিল যে, ভবনের কিছু অংশ ধসে পড়ে এবং অনেকেই ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়েন।

রাতভর উদ্ধারকাজ চালিয়েছে ফায়ার সার্ভিস ও উদ্ধারকারী দল। এখন পর্যন্ত অন্তত ৪৫ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। তবে ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও আরও কেউ আটকে আছেন কি না, তা নিশ্চিত হতে উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের একটি দল পুড়ে যাওয়া মরদেহ শনাক্তে কাজ করছে।

বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, আগুনে পুড়ে কালো ধোঁয়ায় ঢেকে গেছে পুরো আকাশ। অগ্নিনির্বাপণ বাহিনীর কর্মীরা প্রাণপণ চেষ্টা করছেন আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে। যদিও ভিডিওগুলোর নিরপেক্ষ সত্যতা এখনও যাচাই করা যায়নি, তবে স্থানীয়রা নিশ্চিত করেছেন যে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে অনেকটা সময় লেগেছে।

এই ঘটনার পর হাসপাতাল ও মর্গে ভিড় করছেন স্বজনরা। অনেকে এখনও তাদের প্রিয়জনের খোঁজে মরিয়া হয়ে ছুটে বেড়াচ্ছেন এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে, কিংবা ধ্বংসস্তূপের ধারে আশায় বসে আছেন।

এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৫১ বছর বয়সী আলী কাজিম তার ভাই, ভাইয়ের স্ত্রী ও তিন সন্তানকে খুঁজে পাচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “আমি হাসপাতাল, পুলিশ ও ভবনের ধ্বংসাবশেষ সব জায়গায় খুঁজছি, এখনও কোনও খবর পাইনি।”

স্থানীয় প্রশাসন ইতিমধ্যে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। তারা খতিয়ে দেখছে—এটি কেবল একটি দুর্ঘটনা ছিল নাকি এর পেছনে রয়েছে অবহেলা কিংবা নিরাপত্তাজনিত গাফিলতি। বিশেষ করে, আগুন নিয়ন্ত্রণে বিলম্ব এবং পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আল-কুত শহরে চলছে তিন দিনের শোক ঘোষণা। স্থানীয় দোকানপাট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সরকারি দপ্তরগুলো আংশিক বন্ধ রাখা হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতিও বাড়ানো হয়েছে শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে।

ইরাক সরকারের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারকে সহায়তা এবং আহতদের চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় সকল সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। তবে জনগণের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে ভবন ব্যবস্থাপনায় গাফিলতির অভিযোগে, যা তদন্তে প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে প্রশাসন।

এই শোকাবহ ঘটনার মধ্য দিয়ে আবারও প্রশ্ন উঠে এসেছে—শহরাঞ্চলে জনবহুল ভবনগুলোতে অগ্নি-নিরাপত্তা ব্যবস্থার বাস্তব অবস্থা কতটা সুরক্ষিত? সেই প্রশ্নের উত্তর এখন সময়ের দাবি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত