প্রকাশ: ২০ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
২০২৬ বিশ্বকাপের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আসন্ন আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচকে সামনে রেখে শক্তিশালী স্কোয়াড ঘোষণা করেছে ফ্রান্স। দলের নেতৃত্বে রয়েছেন সময়ের অন্যতম সেরা ফরোয়ার্ড কিলিয়ান এমবাপ্পে, আর দলে বড় চমক হয়ে ফিরেছেন ইনজুরি কাটিয়ে ওঠা তারকা উইঙ্গার উসমান দেম্বেলে।
ফরাসি কোচ দিদিয়ের দেশম বিশ্বকাপকে সামনে রেখে পরীক্ষামূলক হলেও প্রতিযোগিতামূলক একটি দল গঠন করেছেন। মার্চ উইন্ডোতে তারা দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রীতি ম্যাচ খেলবে। ২৬ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টনে মুখোমুখি হবে ব্রাজিল-এর এবং ২৯ মার্চ ওয়াশিংটনে খেলবে কলম্বিয়া-এর বিপক্ষে।
এই দুটি ম্যাচ ফ্রান্সের জন্য কেবল প্রস্তুতি নয়, বরং বিশ্বকাপের আগে দলগত সমন্বয় যাচাইয়ের বড় সুযোগ। দেশম জানিয়েছেন, আগামী ১৩ মে চূড়ান্ত বিশ্বকাপ দল ঘোষণা করা হবে, তাই এই প্রীতি ম্যাচগুলোতে খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
দলে সবচেয়ে আলোচিত প্রত্যাবর্তন দেম্বেলের। ইনজুরির কারণে গত বছরের শেষ পাঁচটি আন্তর্জাতিক ম্যাচে মাঠে নামতে পারেননি তিনি। তার ফিরে আসা আক্রমণভাগকে আরও শক্তিশালী করেছে। গত কয়েক মৌসুমে ক্লাব ফুটবলে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স তাকে আবার জাতীয় দলে জায়গা করে দিয়েছে।
অন্যদিকে, তরুণ স্ট্রাইকার ব্র্যাডলি বারকোলা চোটের কারণে ছিটকে গেছেন। পিএসজির হয়ে খেলতে গিয়ে অ্যাঙ্কলের ইনজুরিতে পড়ায় তাকে বিশ্রামে রাখা হয়েছে। তার জায়গায় সুযোগ পেয়েছেন র্যান্ডাল কোলো মুয়ানি, যিনি সাম্প্রতিক সময়ে জাতীয় দলে ভালো পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন।
স্কোয়াডে জায়গা পেয়েছেন আরও কয়েকজন তরুণ ও প্রতিশ্রুতিশীল ফুটবলার। ম্যাগনেস আকলিউচে এবং রায়ান চেরকির মতো খেলোয়াড়দের অন্তর্ভুক্তি ভবিষ্যতের পরিকল্পনারই অংশ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। একইসঙ্গে অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের সমন্বয়ে দলটি গড়া হয়েছে।
দলের গোলরক্ষক বিভাগে আছেন লুকাস শ্যাভালিয়র, মাইক মাইগনান এবং ব্রাইস সাম্বা। রক্ষণভাগে লুকাস দিনিয়ে, মালো গুস্তো, লুকাস হার্নান্দেজ, থিও হার্নান্দেজ, পিয়েরে কালুলু, ইব্রাহিমা কোনাতে, উইলিয়াম সালিবা এবং দায়োত উপামেকানো রয়েছেন।
মাঝমাঠে আছেন এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গা, এনগোলো কান্তে, মানু কোনে, আদ্রিয়েন র্যাবিওট, অঁরেলিয়ে শুয়ামেনি এবং ওয়ারেন জাইরে-এমেরি।
আক্রমণভাগে দেম্বেলে ও এমবাপ্পের পাশাপাশি রয়েছেন দেজিরে দুয়ে, হুগো একিতিকে, মাইকেল ওলিসে এবং মার্কাস থুরাম। এই লাইনআপ ফ্রান্সকে আরও আক্রমণাত্মক ও গতিশীল ফুটবল খেলতে সহায়তা করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশেষভাবে নজর থাকবে এমবাপ্পের দিকে। ইনজুরি ও বিশ্রামের কারণে কিছু ম্যাচ মিস করলেও তিনি আবার ফিরেছেন নেতৃত্বের ভূমিকায়। ব্রাজিলের বিপক্ষে ম্যাচে তার পারফরম্যান্স নিয়ে ইতোমধ্যেই ফুটবল বিশ্বে আলোচনা শুরু হয়েছে।
সব মিলিয়ে, ফ্রান্সের এই স্কোয়াডে রয়েছে অভিজ্ঞতা, গতি এবং তরুণ প্রতিভার মিশেল। বিশ্বকাপের আগে নিজেদের প্রস্তুতি কতটা এগিয়েছে, তা যাচাইয়ের জন্য এই দুটি প্রীতি ম্যাচই হবে বড় মঞ্চ।