ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ১৬ সামরিক বিমান হারালো

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২০ মার্চ, ২০২৬
  • ৩৪ বার
সামরিক বিমান

প্রকাশ: ২০ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

চলমান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের মধ্যে মার্কিন সামরিক বাহিনী উল্লেখযোগ্য ক্ষতির মুখে পড়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ১৬টি সামরিক বিমান ধ্বংস বা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে শত্রুপক্ষের হামলায় ১০টি রিপার স্ট্রাইক ড্রোন বিধ্বস্ত হয়েছে, এবং ছয়টি বিমান দুর্ঘটনা বা আক্রমণের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সবচেয়ে বড় ক্ষতি ঘটেছে দুর্ঘটনায়। কুয়েতে ‘ফ্রেন্ডলি ফায়ার’-এর ঘটনায় তিনটি মার্কিন এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়েছে। এছাড়া জ্বালানি রিফুয়েলিং চলাকালে একটি কেসি-১৩৫ ট্যাংকার বিমানও ধ্বংস হয়েছে। সৌদি আরবের একটি বিমানঘাঁটিতে পার্ক করা অবস্থায় ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আরও পাঁচটি কেসি-১৩৫ ট্যাঙ্কার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এখন পর্যন্ত শুধুমাত্র চালকবিহীন রিপার ড্রোনগুলোই ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে আকাশে ধ্বংস করা সম্ভব হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, এদের মধ্যে অন্তত নয়টি ড্রোন আকাশে বিধ্বস্ত হয়েছে, আর দুটি যান্ত্রিক সমস্যায় ধ্বংস হয়েছে। মার্কিন সামরিক পরিভাষায় এই চালকবিহীন ড্রোনগুলোকে ‘অ্যাট্রিটেবল’ বা প্রতিস্থাপনযোগ্য হিসেবে গণ্য করা হয়, কারণ এগুলো উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ব্যবহারের জন্য তৈরি।

এদিকে, শুক্রবার ইরানের আকাশে যুক্তরাষ্ট্রের একটি অত্যাধুনিক এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানে আঘাত হানার খবর পাওয়া গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত বিমানটি জরুরি অবতরণের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের একটি মার্কিন ঘাঁটিতে ফিরে আসে। যদিও ব্লুমবার্গ এই ঘটনাটি বিস্তারিত উল্লেখ করেনি, ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনার বরাতে জানা গেছে, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা ‘ইরানের মধ্যাঞ্চলের আকাশে মার্কিন বাহিনীর একটি কৌশলগত এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানে আঘাত হেনেছে’।

যদি এই তথ্য সত্যি প্রমাণিত হয়, তবে এটি হবে মার্কিন কোনো এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানে আঘাত হানার প্রথম ঘটনা। একই সঙ্গে এটি যুদ্ধ শুরুর পর ইরানের পক্ষ থেকে মার্কিন বিমান আক্রমণের প্রথম ঘটনা হিসেবেও চিহ্নিত হবে।

মার্কিন সামরিক সূত্র বলছে, রিপার ড্রোন ধ্বংস হওয়া সত্ত্বেও সামরিক কার্যক্রমে বড় ধরনের প্রভাব পড়েনি। তবে বিমান ও ট্যাঙ্কারের ক্ষয়ক্ষতি এবং অত্যাধুনিক এফ-৩৫-এ আঘাত এই সংঘাতের মারাত্মকতা আরও স্পষ্ট করছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা ও ক্রমবর্ধমান সামরিক সংঘাতের মধ্যে এই ধরণের ক্ষয়ক্ষতি শুধু প্রযুক্তিগত নয়, কৌশলগত ও কূটনৈতিক প্রভাবও ফেলবে। মার্কিন সামরিক বাহিনী নিরাপত্তা বাড়িয়ে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করেছে, এবং ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হুমকি মোকাবিলায় বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

এভাবে চলমান সংঘাতের মধ্যে মার্কিন সামরিক বিমান হারানো ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের নতুন অবনতির ইঙ্গিত দিচ্ছে, যা সামরিক বিশ্লেষকরা ভবিষ্যতের যেকোনো বড় সংঘর্ষের পূর্বাভাস হিসেবে বিবেচনা করছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত