স্টার্ক–হ্যাজলউড আইপিএল শুরুতে অনুপস্থিত থাকতে পারেন

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২০ মার্চ, ২০২৬
  • ২৩ বার
স্টার্ক–হ্যাজলউড

প্রকাশ: ২০ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

আইপিএল ২০২৬ শুরু হতে চলেছে, তবে অস্ট্রেলিয়ার দুই পেসার মিচেল স্টার্ক ও জশ হ্যাজলউড হয়তো নিজেদের ফ্র্যাঞ্চাইজি দলের হয়ে প্রথম কয়েকটি ম্যাচে খেলতে পারবেন না। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ঘন সময়সূচি এবং সাম্প্রতিক চোটের কারণে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (সিএ) এই দুই তারকার ওপর থেকে চাপ কমাতে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। স্টার্ক এবার দিল্লি ক্যাপিটালসের হয়ে খেলবেন, আর হ্যাজলউড রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুতে।

স্টার্ক ও হ্যাজলউডের মতো অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটারদের জন্য আইপিএল খেলায় অনুপস্থিতি নতুন নয়। এর আগে প্যাট কামিন্স সানরাইজার্স হায়দরাবাদের হয়ে আইপিএলের শুরুতে খেলতে পারেননি, আবার একই ফ্র্যাঞ্চাইজি দলের জ্যাক এডওয়ার্ডস পুরো আসরেই অনুপস্থিত ছিলেন। চেন্নাই সুপার কিংসের নাথান এলিসও পিঠে চোটের কারণে পুরো আইপিএল থেকে ছিটকে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

প্যাট কামিন্সের আন্তর্জাতিক মৌসুম বেশ চ্যালেঞ্জিং ছিল। পিঠের চোটের কারণে তিনি অস্ট্রেলিয়ার গ্রীষ্মকালীন মৌসুমে মাত্র একটি টেস্ট খেলেছেন। গত ডিসেম্বরে অ্যাশেজে তৃতীয় টেস্টই ছিল তার একমাত্র আন্তর্জাতিক ম্যাচ, যা গত জুলাইয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের পরের। স্টার্ক অ্যাশেজে অস্ট্রেলিয়ার বোলিং আক্রমণের প্রধান ভরসা হিসেবে মাঠে ছিলেন এবং পাঁচটি টেস্ট খেলে ৩১ উইকেট তুলে সিরিজ–সেরা হয়েছিলেন, যেখানে অস্ট্রেলিয়া ৪-১ ব্যবধানে জয়লাভ করেছে। স্টার্ক মৌসুমের শেষ দিকে বিগ ব্যাশ লিগেও অংশ নিয়েছেন।

হ্যাজলউডও এই সময়ে চোটের কারণে বেশিরভাগ সময় মাঠের বাইরে ছিলেন। হ্যামস্ট্রিং ও একিলিস চোটের কারণে তিনি পুরো অ্যাশেজ সিরিজে খেলেননি। তবে গত বছর ঘরের মাঠে দক্ষিণ আফ্রিকা ও ভারতের বিপক্ষে সীমিত ওভারের সিরিজ এবং নিউজিল্যান্ড সফরে কিছু ম্যাচ খেলেন। আন্তর্জাতিক টি-টুয়েন্টি থেকে অবসরের কারণে তিনি টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নেননি। স্টার্কও ওই আসরে খেলেননি, যেখানে প্রথম রাউন্ড থেকেই বিদায় নেয় অস্ট্রেলিয়া।

আইপিএলের এই মৌসুম শুরু হবে ২৮ মার্চ এবং চলবে মে মাসের শেষ পর্যন্ত। অস্ট্রেলিয়ার আন্তর্জাতিক সূচি অনুযায়ী ২০২৬ সালের আগস্ট থেকে আগামী বছরের জুলাই পর্যন্ত সর্বোচ্চ ২১টি টেস্ট খেলবে দেশটি। ফলে স্টার্ক ও হ্যাজলউডের মতো মূল বোলারদের আইপিএলে অংশগ্রহণে সীমিততা থাকাটা স্বাভাবিক।

আইপিএলের ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর পক্ষ থেকেও এই বিষয়টি স্বাগতযোগ্য বলে মনে করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটাররা দীর্ঘ সময় ধরে খেলায় যুক্ত থাকায় শারীরিক ও মানসিক চাপের মধ্যে পড়ে যান। স্টার্ক ও হ্যাজলউডের মতো ক্রিকেটারদের প্রথম কয়েকটি ম্যাচে অংশগ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত তাদের ফিটনেস এবং ফর্ম বজায় রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।

অস্ট্রেলিয়ার এই দুই পেসারের অনুপস্থিতি ফ্র্যাঞ্চাইজি দলের জন্য কিছুটা চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে, তবে দলের অন্যান্য খেলোয়াড়দের সুযোগ করে দেবে নিজেদের দক্ষতা প্রদর্শনের। স্টার্ক ও হ্যাজলউডের ফিটনেস এবং অভিজ্ঞতা পুরো মৌসুমে দলের জন্য বড় সহায়ক হবে। ফলে তাদের প্রথম কয়েকটি ম্যাচে অনুপস্থিতি শুধু সাময়িক প্রভাব ফেলবে, পুরো আসরে নয়।

আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই ধরণের আন্তর্জাতিক চাপের কারণে অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটারদের কিছু ম্যাচে বিরতি দেওয়া হলে তা সমর্থনযোগ্য এবং তাদের সুরক্ষা ও পারফরম্যান্স বৃদ্ধির জন্য ইতিবাচক। স্টার্ক ও হ্যাজলউড আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের অভিজ্ঞতা থাকায় তারা পরে আসরে বড় ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবেন।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আইপিএলে আন্তর্জাতিক তারকাদের এই ধরনের অংশগ্রহণ সীমিতকরণ সাধারণ হয়ে উঠেছে। খেলোয়াড়দের দীর্ঘ আন্তর্জাতিক সূচি ও চোটের ঝুঁকি বিবেচনা করে এ ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়, যাতে খেলোয়াড়রা ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে সেরা পারফরম্যান্স দিতে পারে।

ফলে, অস্ট্রেলিয়ার স্টার্ক ও হ্যাজলউড আইপিএলের শুরুতে না খেললেও পুরো মৌসুমে তাদের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা ফ্র্যাঞ্চাইজি দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এ সিদ্ধান্তের ফলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের চাপ কিছুটা কমবে এবং খেলোয়াড়রা দীর্ঘমেয়াদে ফিট থাকবেন।

আইপিএলের প্রারম্ভে অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটারদের অনুপস্থিতি নতুন কিছু নয়। তবে এই বিষয়টি ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর জন্য এবং সমর্থকদের জন্য চ্যালেঞ্জও বটে। শেষ পর্যন্ত, স্টার্ক ও হ্যাজলউডের উপস্থিতি মৌসুমের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোতে দলের শক্তি বৃদ্ধি করবে এবং তাদের অভিজ্ঞতা তরুণ খেলোয়াড়দের জন্য শিক্ষণীয় ভূমিকা পালন করবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত