প্রকাশ: ২০ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান যুদ্ধ চতুর্থ সপ্তাহে প্রবেশ করলেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, ইরানে মার্কিন স্থল সেনা মোতায়েনের কোনো পরিকল্পনা তার প্রশাসনের নেই। সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি বলেন, “না, আমি কোথাও সেনা পাঠাচ্ছি না। যদি পাঠাতামও, তবে নিশ্চয়ই আপনাদের জানাতাম না। তবে বাস্তবে আমি সেনা পাঠাচ্ছি না।”
এ মন্তব্য এসেছে এমন সময়ে, যখন ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা ও অস্ত্র কার্যক্রম নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন কূটনৈতিক ও সামরিক বিশ্লেষণ চলছিল। গত গ্রীষ্মে ট্রাম্প এক সামরিক অভিযানের পর দাবি করেছিলেন, ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা প্রায় নিশ্চিহ্ন করা হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও পারমাণবিক সরঞ্জাম চাপা রয়েছে এবং এগুলো জব্দ করার বিষয় আলোচনার অন্তর্ভুক্ত। এ ধরনের কোনো অভিযান চালাতে হলে বিপুলসংখ্যক মার্কিন সেনা প্রয়োজন হতে পারে।
তবে রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন ইরানে বিমান ও নৌবাহিনী পাঠানোর বিষয়ে সতর্কভাবে ভাবছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমে তেলের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে এ ধরনের পদক্ষেপের সম্ভাবনা রয়েছে। এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে ইরানের উপকূলীয় এলাকায় সাময়িকভাবে মার্কিন সেনা মোতায়েনের সম্ভাবনা দেখা দিতে পারে।
চলতি মাসের শুরুতে ট্রাম্প ইরানে স্থল সেনা পাঠানোর সম্ভাবনা একেবারে উড়িয়ে দেননি। ইরান যুদ্ধের শুরুতেই নিউইয়র্ক পোস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, “যদি প্রয়োজন হয় তবে ইরানে মার্কিন স্থল সেনা পাঠাতে আমার আপত্তি নেই। আমি অন্যান্য প্রেসিডেন্টের মতো বলছি না যে সেখানে কোনো সেনা থাকবে না। তবে বর্তমানে তাদের প্রয়োজন নেই।”
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথও চলতি মাসের শুরুতে সাংবাদিকদের জানান, বর্তমানে ইরানে কোনো মার্কিন স্থল সেনা মোতায়েন নেই। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, কতদূর পর্যন্ত প্রশাসন যেতে পারে তা প্রকাশ করা বোকামি হবে। এটি স্পষ্ট করে যে, যুক্তরাষ্ট্র পরিস্থিতি অনুযায়ী নমনীয়ভাবে কৌশল নির্ধারণ করছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এই মন্তব্য মধ্যপ্রাচ্যে সংযুক্তি ও যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দেওয়া সঙ্কেত। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে সরাসরি স্থল যুদ্ধের ঝুঁকি এড়ানোর চেষ্টা করছে, কিন্তু অঞ্চলটির নিরাপত্তা ও জ্বালানি চলাচল সুরক্ষায় পর্যাপ্ত প্রস্তুতি বজায় রাখছে।
ট্রাম্পের স্পষ্টভাবে সেনা পাঠানোর পরিকল্পনা নেই বলার ঘোষণার ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক এবং কূটনৈতিক নীতি সম্পর্কে স্পষ্ট বার্তা গেছে। একই সঙ্গে, মধ্যপ্রাচ্যে এ অঞ্চলের ভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যাবে, তবে সরাসরি স্থল অভিযান শুরু করার সম্ভাবনা নেই।
এ পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা ও সামরিক কর্মকাণ্ডের ওপর নজর রাখতে যুক্তরাষ্ট্র বিমান ও নৌবাহিনী ব্যবহার করতে পারে। তবে ট্রাম্প প্রশাসন চেষ্টা করছে স্থল সেনা মোতায়েন না করেই সীমিতভাবে কৌশলগত প্রভাব সৃষ্টি করতে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আশ্বাস দেয় যে যুক্তরাষ্ট্র অঞ্চলে সরাসরি স্থল লড়াইয়ে অংশ নেবে না, তবে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ও জ্বালানি সরবরাহের ওপর নজর রাখবে। এ ধরনের নীতি ইরান যুদ্ধের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
ফলে, ট্রাম্পের ঘোষণা অনুযায়ী, ইরানে মার্কিন স্থল সেনা পাঠানো হচ্ছে না, তবে বিমান ও নৌবাহিনী ব্যবহার করে কার্যক্রম পরিচালনার সম্ভাবনা উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। এই কৌশল মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সুরক্ষা নীতি এবং আন্তর্জাতিক শান্তি বজায় রাখার প্রচেষ্টার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।