শোকস্তব্ধ উত্তরায় আকাশ থেকে নেমে এলো মৃত্যু: প্রশিক্ষণ বিমানের বিধ্বস্তে স্কুলে বিভীষিকা, প্রাণ হারাল ১৯, পাইলটসহ আহত শতাধিক

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২১ জুলাই, ২০২৫
  • ৪৮ বার

 

প্রকাশ: ২১ জুলাই ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন

রাজধানী ঢাকার উত্তরা এলাকায় আজ দেশের সামরিক ও নাগরিক মহলে এক বেদনাবিধুর অধ্যায় যুক্ত হলো। বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান উড্ডয়নের কিছুক্ষণের মধ্যেই বিধ্বস্ত হয়ে পড়ে উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের মূল ভবনের পাশে। ভয়াবহ এই দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৯ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে রয়েছে ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তৌকির ইসলাম সাগর। আহত হয়েছেন শতাধিক শিক্ষার্থী, যাদের মধ্যে অন্তত ৬০ জনের শরীরের বিভিন্ন অংশ পুড়ে গেছে বলে বার্ন ইউনিট সূত্রে জানা গেছে।

আজ সোমবার দুপুর ১টা ৬ মিনিটে বিমানটি যাত্রা শুরু করে। বিমানটি ছিল একটি চীনা তৈরি এফ-৭ বিজিআই মডেলের প্রশিক্ষণ ফাইটার। উড্ডয়নের কিছুক্ষণের মধ্যেই সেটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠ সংলগ্ন ভবনে আঘাত হানে। মুহূর্তেই পুরো এলাকা আতঙ্ক আর বিভ্রান্তিতে ভরে ওঠে। শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানায়, বিকট শব্দ ও আগুনের গোলা দেখতে পেয়ে তারা কেউ কেউ স্কুল ভবন থেকে দৌড়ে বেরিয়ে আসে। তবে বহু শিশু ভবনের কক্ষে আটকা পড়ে এবং আগুনে পুড়ে গুরুতর আহত হয়।

দুর্ঘটনার পরপরই সামরিক ও বেসামরিক উদ্ধারকারী দল, ফায়ার সার্ভিস, র‍্যাব ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ শুরু করে। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ ছিল যে, মাইলস্টোন স্কুলের একাধিক ভবনে আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং পুরো প্রতিষ্ঠানটি জরুরি ভিত্তিতে খালি করে দেওয়া হয়। আহতদের মধ্যে বহু শিশুর অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিট কর্তৃপক্ষ।

আইএসপিআর নিশ্চিত করেছে, পাইলট ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তৌকির ইসলাম সাগর প্রথমে আহত অবস্থায় উদ্ধার হন এবং দ্রুত সিএমএইচ হাসপাতালে নেওয়া হয়। বিকাল পৌনে ৪টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

দেশের সামরিক খাতে এই দুর্ঘটনাকে ‘গভীর শোকের’ সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি এবং বিমান বাহিনীর প্রধান এ ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন এবং আহতদের দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন।

এদিকে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানায় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। সম্ভাব্য প্রযুক্তিগত ত্রুটি, আবহাওয়াগত সমস্যা কিংবা প্রশিক্ষণজনিত গাফিলতির দিকগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে একটি প্রাথমিক বার্তায় জানানো হয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয় সূত্রগুলো জানাচ্ছে, স্কুল কর্তৃপক্ষ ও অভিভাবকদের মধ্যে এখনো তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিমান চলাচলের রুট ও প্রশিক্ষণের সময় নির্ধারণ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা শুধু একটি প্রশিক্ষণ ব্যর্থতা নয়, এটি আমাদের নাগরিক নিরাপত্তা, সামরিক প্রস্তুতি এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থান নিয়েও বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। উত্তরা আজ শুধু একটি দুর্ঘটনার নয়, একটি জাতিগত বেদনার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে।

 

একটি বাংলাদেশ অনলাইন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত