বেদনাকে প্রতিরোধে রূপ দিতে রাজপথে মাইলস্টোনের শিক্ষার্থীরা: ছয় দফা দাবি নিয়ে উত্তাল বিক্ষোভ

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২২ জুলাই, ২০২৫
  • ৪৩ বার

প্রকাশ: ২২ জুলাই ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক | একটি বাংলাদেশ অনলাইন

উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাসে বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার মর্মান্তিক ঘটনায় নিহত ও আহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এবং দায়িত্বহীনতার প্রতিবাদে রাজপথে নেমেছে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীরা। এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার প্রেক্ষিতে তারা উপস্থাপন করেছে ছয় দফা সুস্পষ্ট ও যুক্তিযুক্ত দাবি।

মঙ্গলবার বেলা সোয়া ১১টার দিকে মাইলস্টোন কলেজের মূল ফটক সংলগ্ন গোলচত্বরে কয়েক শতাধিক শিক্ষার্থী জমায়েত হন। শান্তিপূর্ণভাবে প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার হাতে তারা বিভিন্ন স্লোগানে মুখর করে তোলে চারপাশ। একদিকে চোখে অশ্রু, অন্যদিকে ছিল বিচারের দৃঢ় আহ্বান।

শিক্ষার্থীরা দাবি করেছেন, দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের সঠিক তথ্য গোপন না করে নির্ভুল ও পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করতে হবে। নিহতদের পরিচয় নিয়ে বিভ্রান্তি বন্ধ করে অবিলম্বে নাম ও পরিচয় নিশ্চিত করে তা প্রকাশ্যে আনতে হবে।

বিক্ষোভে শিক্ষার্থীদের কণ্ঠে ধ্বনিত হয় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি—বিধ্বস্তের পর শিক্ষকদের সঙ্গে সেনাসদস্যদের অসদাচরণের অভিযোগ। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাস্থলে কিছু শিক্ষককে হেনস্তা বা শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়, যা অত্যন্ত অমানবিক এবং ন্যক্কারজনক। এ ঘটনার জন্য তারা সংশ্লিষ্টদের প্রকাশ্যে ও নিঃশর্তভাবে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান।

দাবির আরেকটি অংশে শিক্ষার্থীরা বলেন, প্রতিটি নিহত পরিবারের প্রতি বিমানবাহিনীর পক্ষ থেকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দিতে হবে, যাতে অন্তত স্বজনহারা পরিবারের ভবিষ্যৎ টিকে থাকার কিছু সহায়তা হয়।

শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, বিমানবাহিনীর বহরে ব্যবহৃত পুরোনো, অনিরাপদ ও ঝুঁকিপূর্ণ বিমান অবিলম্বে বাতিল করে আধুনিক, নিরাপদ এবং টেকসই বিমান চালু করতে হবে। একই সঙ্গে প্রশিক্ষণের স্থান ও কাঠামো নতুন করে নির্ধারণ করার জোর দাবি তোলেন তারা। জনবহুল এলাকা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কিংবা আবাসিক এলাকাকে প্রশিক্ষণ রুট থেকে বাদ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া এক শিক্ষার্থী বলেন, “আজ আমরা দোয়া করে, চোখের জল ফেলে বন্ধুকে বিদায় দিয়েছি। কাল যেন এমন শোক আমাদের কারও কপালে না জোটে। এজন্যই আমাদের এই প্রতিবাদ, আমাদের এই ছয় দফা।”

উল্লেখ্য, সোমবার দুপুরে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান উত্তরার দিয়াবাড়ি এলাকায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ভবনে বিধ্বস্ত হয়। এই দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২৭ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হয়েছে, যাদের মধ্যে ২৫ জনই শিশু। আহত হয়েছেন বহু শিক্ষার্থী ও কর্মী। রাষ্ট্রীয়ভাবে আজ মঙ্গলবার সারাদেশে শোক পালন করা হচ্ছে।

এই দুর্ঘটনায় জাতির হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয়েছে। তারই প্রতিফলন দেখা গেল মাইলস্টোন শিক্ষার্থীদের কণ্ঠে—যেখানে কেবল ক্ষোভ নয়, ছিল দায়িত্বশীলতার আহ্বান, জবাবদিহির দাবি এবং ভবিষ্যতের নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়।

একটি বাংলাদেশ অনলাইন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত