দেশে ৬ মাসের টিকা মজুত: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৬ বার
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন

প্রকাশ: ২২ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশে সব ধরনের টিকার পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং আগামী ছয় মাস পর্যন্ত টিকাদান কার্যক্রম নির্বিঘ্নে চালানো সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, দেশের টিকা সরবরাহ ব্যবস্থা এখন স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে এবং নিয়মিত কর্মসূচি অনুযায়ী জনগণকে টিকা প্রদান অব্যাহত রাখা সম্ভব হবে।

বুধবার দুপুরে সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে বাংলাদেশ মেডিকেল ইউনিভার্সিটির হাসপাতালের লেকচার হলে চীনের কুনমিং মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ‘চায়না বাংলাদেশ জয়েন্ট সার্জিক্যাল ক্লিনিক’ চালুর লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে অংশ নেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

গণমাধ্যমের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশে যক্ষ্মা, বিসিজি এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ টিকার পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। তিনি বলেন, শুধু মজুতই নয়, নিয়মিত সরবরাহ চেইনও সচল রয়েছে, ফলে আগামী ছয় মাস পর্যন্ত কোনো ধরনের টিকা সংকট দেখা দেবে না। তার ভাষায়, “আমাদের হাতে পর্যাপ্ত টিকা আছে এবং সাপ্লাই লাইনও সক্রিয় রয়েছে। ফলে নিরবচ্ছিন্নভাবে টিকাদান কার্যক্রম চালানো সম্ভব হবে।”

সম্প্রতি দেশে হাম রোগের সংক্রমণ নিয়ে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, সে প্রসঙ্গে মন্তব্য করতে গিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, অতীত সরকারের সময় ২০২০ সালের পর কিছু টিকা সরবরাহ ব্যাহত হয়েছিল, যার কারণে হামের মতো রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। তিনি দাবি করেন, সেই সময় পর্যাপ্ত টিকার স্টক না থাকায় পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে।

বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সহায়তা সংস্থা গ্যাভি এবং ইউনিসেফের সহযোগিতায় জরুরি ভিত্তিতে টিকা সংগ্রহ করা হয়েছে এবং ইতোমধ্যে দেশব্যাপী টিকাদান কার্যক্রম পুনরায় শুরু করা হয়েছে। এতে করে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, স্বাস্থ্য খাতে দীর্ঘদিনের জনবল সংকট নিরসনে সরকার বড় ধরনের উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে। শিগগিরই প্রায় এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে, যা দেশের স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি মনে করেন, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে গ্রামীণ ও উপজেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা আরও শক্তিশালী হবে।

তিনি আরও জানান, উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে প্রতিটি হাসপাতালে ১০ জন করে সশস্ত্র আনসার সদস্য নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা নিরাপদ পরিবেশে কাজ করতে পারেন।

চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ক প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতাকে আরও শক্তিশালী করেছে। বিশেষ করে চীনের কুনমিং মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে ‘জয়েন্ট সার্জিক্যাল ক্লিনিক’ চালুর উদ্যোগকে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করেন। তার মতে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে উন্নত চিকিৎসা প্রযুক্তি ও দক্ষতা বিনিময়ের সুযোগ তৈরি হবে, যা দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় নতুন মাত্রা যোগ করবে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, দেশে টিকা মজুত নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণা জনমনে স্বস্তি আনতে পারে, বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে হামসহ বিভিন্ন সংক্রামক রোগ নিয়ে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, সেই প্রেক্ষাপটে এটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে একই সঙ্গে তারা মনে করছেন, শুধু মজুত ঘোষণা নয়, মাঠ পর্যায়ে টিকাদান কার্যক্রমের কার্যকারিতা ও পর্যবেক্ষণ আরও জোরদার করা জরুরি।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, টিকা কর্মসূচি শুধু সরবরাহের ওপর নির্ভর করে না, বরং এর সঠিক বিতরণ, জনসচেতনতা এবং সময়মতো শিশুদের টিকা নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। অনেক সময় গ্রামীণ ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে টিকাদান কার্যক্রমে ঘাটতি দেখা দেয়, যা রোগের পুনরাবৃত্তির ঝুঁকি বাড়ায়।

অন্যদিকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা মনে করছেন, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সহযোগিতায় টিকা ব্যবস্থাপনা এখন আরও সুসংগঠিত হচ্ছে। ডিজিটাল ট্র্যাকিং ব্যবস্থা এবং পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার উন্নয়নের ফলে ভবিষ্যতে টিকা বিতরণ আরও স্বচ্ছ ও কার্যকর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

স্বাস্থ্য খাতে চলমান এই উদ্যোগগুলোর মাধ্যমে দেশের সামগ্রিক চিকিৎসা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে বলে সরকার আশাবাদ ব্যক্ত করেছে। বিশেষ করে জনবল বৃদ্ধি, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার সমন্বয়ে স্বাস্থ্যখাতে একটি টেকসই পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

সব মিলিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্যে দেশের টিকাদান কর্মসূচি নিয়ে আশার বার্তা পাওয়া গেলেও বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়ন এবং নিয়মিত নজরদারি নিশ্চিত করা না গেলে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জন কঠিন হতে পারে। তাই পরিকল্পনার পাশাপাশি কার্যকর বাস্তবায়নই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত