প্রকাশ: ২২ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
দেশের স্বাস্থ্যখাতে নীতিনির্ধারণ ও কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে নতুন দায়িত্বে যুক্ত হলেন এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার। প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী হিসেবে তাকে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। বুধবার জারি করা এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই নিয়োগের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। এই নিয়োগকে ঘিরে প্রশাসনিক মহল থেকে শুরু করে তার নিজ জেলা ঝালকাঠিতে সৃষ্টি হয়েছে আনন্দ ও প্রত্যাশার এক নতুন পরিবেশ।
সরকারি প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘রুলস অব বিজনেস’ অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী তাকে এই দায়িত্বে নিয়োগ দিয়েছেন। দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে তিনি প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদা ভোগ করবেন এবং প্রাপ্য বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পাবেন। এই পদটি কেবল সম্মানজনকই নয়, বরং দেশের স্বাস্থ্যখাতের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত থাকার সুযোগ তৈরি করে দেয়।
এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দারের নিয়োগকে অনেকেই সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন। দেশের স্বাস্থ্যখাত বর্তমানে নানা চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে—সেবা প্রাপ্তির বৈষম্য, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা, জনবল সংকট এবং আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তির সুষম বণ্টনের মতো বিষয়গুলো এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে। এমন প্রেক্ষাপটে একজন অভিজ্ঞ ও দক্ষ ব্যক্তিকে এই পদে নিয়োগ দেওয়ায় সংশ্লিষ্ট মহলে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
ঝালকাঠি জেলার বাসিন্দা হিসেবে জিয়াউদ্দিন হায়দারের এই অর্জন স্থানীয়দের কাছে গর্বের বিষয় হয়ে উঠেছে। জেলার বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের নেতৃবৃন্দ তার এই নিয়োগে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তারা মনে করছেন, কেন্দ্রীয় পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পাওয়ার মাধ্যমে তিনি শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য অর্জন করেননি, বরং পুরো জেলার প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পেয়েছেন।
স্থানীয়দের অনেকেই আশা করছেন, নতুন দায়িত্বে থেকে তিনি দেশের স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেবেন। বিশেষ করে গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার উন্নয়ন, প্রাথমিক চিকিৎসা সেবার সহজলভ্যতা এবং স্বাস্থ্য অবকাঠামোর আধুনিকায়নে তিনি ভূমিকা রাখবেন বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি, স্বাস্থ্যখাতে বিদ্যমান বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে তার অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা কাজে লাগবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জিয়াউদ্দিন হায়দারের নিয়োগকে ঝালকাঠি জেলার জন্য একটি গৌরবজনক অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে। স্থানীয় তরুণদের কাছে এটি একটি অনুপ্রেরণার উদাহরণ হয়ে উঠেছে। অনেকেই মনে করছেন, প্রত্যন্ত জেলা থেকেও দেশের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আসা সম্ভব—যদি থাকে যোগ্যতা, পরিশ্রম এবং নিষ্ঠা। এই দৃষ্টান্ত তরুণ প্রজন্মকে উচ্চাকাঙ্ক্ষী হতে এবং দেশ গঠনে নিজেদের প্রস্তুত করতে উৎসাহিত করবে।
এদিকে প্রশাসনিক বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। এই পদে থাকা ব্যক্তি সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পান এবং বিভিন্ন নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্তে পরামর্শ প্রদান করেন। বিশেষ করে স্বাস্থ্যখাতের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে সঠিক পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে এই পদটির গুরুত্ব অনেক বেশি।
স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়নে সরকারের নানা উদ্যোগ ইতোমধ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে। তবে সামনে আরও বড় লক্ষ্য অর্জনের জন্য প্রয়োজন কার্যকর পরিকল্পনা ও সঠিক দিকনির্দেশনা। জিয়াউদ্দিন হায়দারের মতো একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তির নেতৃত্বে এসব উদ্যোগ আরও গতিশীল হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তার নিয়োগের খবর প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই তাকে শুভেচ্ছা জানিয়ে তার সফলতা কামনা করছেন। একইসঙ্গে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে তার সক্রিয় ভূমিকার ওপর জোর দিচ্ছেন তারা।
সামগ্রিকভাবে, এই নিয়োগ দেশের স্বাস্থ্যখাতে একটি ইতিবাচক পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি করেছে। এখন দেখার বিষয়, নতুন দায়িত্বে থেকে জিয়াউদ্দিন হায়দার কীভাবে তার দক্ষতা ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে আরও উন্নত ও কার্যকর করে তুলতে পারেন। তার সফলতা যেমন ব্যক্তিগত অর্জন হবে, তেমনি তা দেশের কোটি মানুষের জীবনমান উন্নয়নের সঙ্গেও গভীরভাবে সম্পৃক্ত থাকবে।