শুটিং সেটে স্মার্টফোনবিহীন অক্ষয় খান্না

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৮৩ বার
শুটিং সেটে স্মার্টফোনবিহীন অক্ষয় খান্না

প্রকাশ: ২৫ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বলিউডের ঝলমলে জগতে যেখানে আলো, ক্যামেরা আর প্রচারের প্রতিযোগিতা প্রতিনিয়ত তীব্রতর হচ্ছে, সেখানে ব্যতিক্রমী এক উপস্থিতি হিসেবে নিজেকে আলাদা করে রেখেছেন Akshaye Khanna। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অসংখ্য শক্তিশালী চরিত্রে অভিনয় করেও তিনি কখনও নিজেকে প্রচারের কেন্দ্রে নিয়ে আসেননি। বরং নীরবতা, সংযম এবং অভিনয়ের প্রতি গভীর নিষ্ঠাই তাকে আলাদা করেছে অন্যদের থেকে। সম্প্রতি তার এই ব্যক্তিত্বের আরেকটি দিক সামনে এনেছেন তার সহ-অভিনেতা Danish Pandor, যা নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে ‘ধুরন্ধর’ ছবিতে অক্ষয়ের অভিনয় দর্শক ও সমালোচকদের কাছ থেকে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। পর্দায় তার উপস্থিতি যেমন শক্তিশালী, তেমনি ক্যামেরার পেছনে তার জীবনযাপনও বেশ ব্যতিক্রমী। শুটিং সেটে তার আচরণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা গুঞ্জন ছিল। অনেকেই মনে করতেন, তিনি নাকি সহকর্মীদের সঙ্গে খুব একটা কথা বলেন না, নিজেকে গুটিয়ে রাখেন এবং এক ধরনের দূরত্ব বজায় রাখেন। তবে দানিশ প্যান্ডোরের সাম্প্রতিক বক্তব্য সেই ধারণার অনেকটাই ভেঙে দিয়েছে।

দানিশ জানান, অক্ষয় খান্না আসলে অত্যন্ত সৎ এবং ভদ্র একজন মানুষ। তিনি অকারণে কথা বলেন না ঠিকই, কিন্তু সেটাকে অহংকার বা দূরত্ব হিসেবে দেখার কোনো কারণ নেই। বরং কেউ যদি তার কাছে গিয়ে কিছু জানতে চান, তিনি মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং আন্তরিকভাবে উত্তর দেন। তার এই স্বল্পভাষী স্বভাবই অনেক সময় ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হয়।

শুটিং সেটের আরেকটি দিক যা সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে, তা হলো তার ‘ফোনহীন’ জীবনযাপন। আজকের ডিজিটাল যুগে যেখানে অধিকাংশ মানুষ কাজের ফাঁকে কিংবা বিরতির সময় স্মার্টফোনে ডুবে থাকেন, সেখানে অক্ষয় খান্না সম্পূর্ণ ভিন্ন এক পথ অনুসরণ করেন। দানিশের ভাষ্য অনুযায়ী, শুটিং চলাকালীন তিনি একেবারেই ফোন ব্যবহার করেন না। শুধু তাই নয়, সেটে ফোন নিয়ে বসে থাকার কোনো অভ্যাসও তার নেই। বিরতির সময়েও তিনি ফোন স্ক্রল না করে চুপচাপ এক কোণে বসে থাকেন।

এই অভ্যাসের পেছনে রয়েছে তার অভিনয়ের প্রতি গভীর একাগ্রতা। দানিশ বলেন, অক্ষয় নিজের চরিত্রের মধ্যে পুরোপুরি ডুবে থাকতে পছন্দ করেন। ক্যামেরা চালু হওয়ার আগেই তিনি সংলাপ, অভিব্যক্তি এবং চরিত্রের মনস্তত্ত্ব নিয়ে গভীরভাবে ভাবেন। তার কাছে অভিনয় শুধু একটি পেশা নয়, বরং এটি একটি সাধনার মতো। এই মনোযোগ এবং নিবেদনই তাকে পর্দায় এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে।

বলিউড ইন্ডাস্ট্রিতে যেখানে প্রায়ই তারকাদের জীবনযাপন নিয়ে নানা গসিপ ও আলোচনার জন্ম হয়, সেখানে অক্ষয় খান্নার মতো একজন অভিনেতার এই নির্লিপ্ত ও সাদামাটা জীবনধারা অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছে। তিনি যেন প্রমাণ করে দিয়েছেন, একজন শিল্পীর আসল পরিচয় তার কাজেই, প্রচারে নয়।

অক্ষয়ের ক্যারিয়ার পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, তিনি সবসময়ই ভিন্নধর্মী চরিত্র বেছে নিতে পছন্দ করেছেন। মূলধারার বাণিজ্যিক ছবির পাশাপাশি তিনি এমন অনেক চরিত্রে অভিনয় করেছেন, যেখানে অভিনয়ের গভীরতা এবং বাস্তবতা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তার অভিনয়ের ধরনও বরাবরই ছিল সংযত, কিন্তু প্রভাবশালী। সংলাপের চেয়ে চোখের ভাষা এবং শরীরী অভিব্যক্তির মাধ্যমে তিনি চরিত্রকে জীবন্ত করে তোলেন।

সহ-অভিনেতারা বলছেন, সেটে তার উপস্থিতি খুব শান্ত হলেও তা অন্যদের ওপর এক ধরনের ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। তিনি অযথা হৈচৈ করেন না, কিন্তু তার কাজের প্রতি নিষ্ঠা অন্যদেরও মনোযোগী হতে উদ্বুদ্ধ করে। অনেক নতুন অভিনেতা তার কাছ থেকে অনুপ্রাণিত হন, যদিও তিনি নিজে কখনও কাউকে উপদেশ দেয়ার চেষ্টা করেন না।

এই প্রসঙ্গে দানিশ প্যান্ডোর আরও বলেন, অক্ষয়ের সঙ্গে কাজ করা একটি ভিন্ন অভিজ্ঞতা। তার মধ্যে কোনো তারকাসুলভ অহংকার নেই, বরং তিনি একজন সাধারণ সহকর্মীর মতো আচরণ করেন। তার এই বিনয়ী মনোভাবই তাকে আরও বড় করে তোলে।

বর্তমান সময়ের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকেন্দ্রিক তারকাখ্যাতির যুগে অক্ষয় খান্নার এই ‘লো-প্রোফাইল’ জীবনধারা যেন এক ধরনের প্রতিবাদ হিসেবেও দেখা যেতে পারে। যেখানে অনেকেই নিজেদের উপস্থিতি জানান দিতে ব্যস্ত, সেখানে তিনি নিজের কাজ দিয়েই দর্শকের মনে জায়গা করে নিচ্ছেন।

সব মিলিয়ে বলা যায়, Akshaye Khanna শুধু একজন দক্ষ অভিনেতাই নন, বরং তিনি এমন এক শিল্পী, যিনি নিজের জীবন ও কাজের মাধ্যমে একটি ভিন্ন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তার ‘ফোনহীন’ শুটিং সেটের অভ্যাস হয়তো ছোট একটি বিষয়, কিন্তু এর মধ্যেই লুকিয়ে আছে তার পেশাদারিত্ব, একাগ্রতা এবং শিল্পের প্রতি গভীর ভালোবাসার প্রতিচ্ছবি।

এমন এক সময়ে, যখন মনোযোগ বিচ্ছিন্নতা আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে উঠেছে, তখন অক্ষয়ের মতো একজন অভিনেতা মনে করিয়ে দেন—সফলতা অর্জনের জন্য কখনও কখনও নিজেকে বিচ্ছিন্ন করে পুরোপুরি কাজে মনোনিবেশ করাই সবচেয়ে বড় শক্তি হতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com