সৌদিতে পৌঁছেছেন ৩২ হাজার হজযাত্রী

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৯ বার
সৌদিতে পৌঁছেছেন ৩২ হাজার হজযাত্রী

প্রকাশ: ২৫ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

পবিত্র হজ পালনের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশের হাজারো ধর্মপ্রাণ মুসল্লির যাত্রা অব্যাহত রয়েছে। মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের এই আধ্যাত্মিক সফরে ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক হজযাত্রী সৌদি আরবে পৌঁছেছেন। সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, শুক্রবার (২৫ এপ্রিল) দিবাগত রাত ২টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত মোট ৩২ হাজার ৫৩২ জন বাংলাদেশি হজযাত্রী সৌদি আরবে পৌঁছেছেন। এই যাত্রা শুধু একটি ভ্রমণ নয়, বরং মুসলমানদের জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতের পথে অগ্রসর হওয়ার এক গভীর আবেগময় অধ্যায়।

ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের হজ সম্পর্কিত বিশেষ বুলেটিনে জানানো হয়েছে, আইটি হেল্প ডেস্কের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী ৮১টি ফ্লাইটের মাধ্যমে এই বিপুলসংখ্যক হজযাত্রী সৌদি আরবে পৌঁছেছেন। প্রতিটি ফ্লাইটে ছিল আলাদা গল্প, আলাদা আবেগ—কেউ প্রথমবারের মতো পবিত্র ভূমিতে যাচ্ছেন, আবার কেউ বহুদিনের প্রতীক্ষিত স্বপ্ন পূরণ করতে পাড়ি জমিয়েছেন।

রাষ্ট্রায়ত্ত বিমান সংস্থা Biman Bangladesh Airlines এই যাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তাদের পরিচালিত ৩৩টি ফ্লাইটে ১৩ হাজার ৬৮৪ জন হজযাত্রী সৌদি আরবে পৌঁছেছেন। দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ও দক্ষ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এই যাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে কাজ করছে সংস্থাটি।

এছাড়া সৌদি আরবের জাতীয় বিমান সংস্থা Saudia ৩০টি ফ্লাইট পরিচালনা করে ১১ হাজার ২৯৯ জন হজযাত্রীকে জেদ্দায় পৌঁছে দিয়েছে। একইসঙ্গে বেসরকারি বিমান সংস্থা Flynas ১৮টি ফ্লাইটে ৭ হাজার ৫৪৯ জন যাত্রী পরিবহন করেছে। এই তিনটি সংস্থার সমন্বিত প্রচেষ্টায় হজযাত্রীদের যাত্রা আরও সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ হয়েছে।

তবে এই আনন্দঘন যাত্রার মধ্যেই এসেছে বেদনার খবরও। চলতি বছর হজ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে গিয়ে এখন পর্যন্ত দুইজন বাংলাদেশি মৃত্যুবরণ করেছেন। তাদের একজন টাঙ্গাইল সদর উপজেলার মো. আবুল কাশেম, যিনি মক্কায় হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান। অন্যজন জয়পুরহাট সদর উপজেলার মো. নইম উদ্দীন মন্ডল, যিনি সেখানেই স্বাভাবিকভাবে ইন্তেকাল করেন। তাদের এই মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্বজনদের মাঝে, তবে ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী পবিত্র ভূমিতে মৃত্যুবরণ করাকে অনেকে সৌভাগ্যের বিষয় হিসেবেও দেখেন।

হজযাত্রীদের এই যাত্রা শুরু হয় গত ১৮ এপ্রিল, যখন ৪১৯ জন যাত্রী নিয়ে প্রথম ডেডিকেটেড ফ্লাইট সৌদি আরবের উদ্দেশে রওনা দেয়। সেই থেকেই ধাপে ধাপে বাড়ছে যাত্রীর সংখ্যা। প্রতিদিনই নতুন নতুন ফ্লাইটে যাত্রীরা পবিত্র নগরী মক্কা ও মদিনার পথে পাড়ি জমাচ্ছেন।

চলতি বছর সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৫ হাজার ৫৬৫ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৭৩ হাজার ৯৩৫ জন হজ পালন করবেন। সব মিলিয়ে প্রায় ৮০ হাজারের বেশি বাংলাদেশি হজযাত্রী এবারের হজে অংশ নিচ্ছেন। এই বিশাল সংখ্যক মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে সরকারের বিভিন্ন সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

হজযাত্রীদের জন্য সৌদি আরবে থাকা, খাওয়া, চিকিৎসা ও পরিবহনসহ বিভিন্ন সেবা নিশ্চিত করতে নেওয়া হয়েছে নানা প্রস্তুতি। বিশেষ করে বয়স্ক ও অসুস্থ যাত্রীদের জন্য অতিরিক্ত সহায়তার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। হজ ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারও বাড়ানো হয়েছে, যাতে যাত্রীরা সহজে প্রয়োজনীয় তথ্য ও সহায়তা পেতে পারেন।

আগামী ২১ মে পর্যন্ত হজযাত্রী পরিবহন কার্যক্রম চলবে। এরপর ৩০ মে থেকে শুরু হবে ফিরতি ফ্লাইট, যা চলবে ৩০ জুন পর্যন্ত। এই পুরো সময়জুড়ে হজযাত্রীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

হজ শুধু একটি ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা নয়, এটি মুসলমানদের জীবনের এক গভীর আত্মিক অভিজ্ঞতা। পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লাখো মুসলমান একত্রিত হয়ে আল্লাহর দরবারে নিজেদের সমর্পণ করেন। এই যাত্রা মানুষের মধ্যে সাম্য, ভ্রাতৃত্ব ও মানবিকতার এক অনন্য বার্তা ছড়িয়ে দেয়।

বাংলাদেশ থেকে যাওয়া হজযাত্রীরাও সেই একই অনুভূতি নিয়ে পবিত্র ভূমিতে পৌঁছাচ্ছেন। তাদের চোখে-মুখে আনন্দ, মনে আশা আর হৃদয়ে প্রার্থনা—সব মিলিয়ে এক আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হয়েছে। পরিবার-পরিজনদের দোয়া আর ভালোবাসা সঙ্গে নিয়ে তারা এই পবিত্র যাত্রায় অংশ নিচ্ছেন।

সবশেষে বলা যায়, হজযাত্রীদের এই যাত্রা শুধু ব্যক্তিগত ইবাদতের নয়, বরং এটি একটি জাতীয় আবেগেরও অংশ। প্রতিটি যাত্রীর নিরাপদ যাত্রা ও সফল হজ পালন নিশ্চিত করতে সবাই প্রার্থনা করছেন। এই যাত্রা যেন শান্তিপূর্ণ ও সফলভাবে সম্পন্ন হয়—এটাই এখন সবার প্রত্যাশা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত