জুমার দিনে গাজায় ১২ জন নিহত, তীব্র নিন্দা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৯ বার
জুমার দিনে গাজায় ১২ জন নিহত, তীব্র নিন্দা

প্রকাশ: ২৫ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

যুদ্ধবিরতির ঘোষণার মধ্যেও ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সহিংসতা থামছে না। পবিত্র জুমার দিনে আবারও রক্তাক্ত হয়েছে গাজা। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) ইসরাইলি বাহিনীর একাধিক বিমান ও স্থল হামলায় অন্তত ১২ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় সূত্র ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম Al Jazeera-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, গাজা সিটিতে জুমার নামাজ আদায়ের জন্য জড়ো হওয়া সাধারণ মুসল্লিদের লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালানো হয়। নামাজের প্রস্তুতির সময় হঠাৎ হামলায় ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান কয়েকজন। স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কোনো সতর্কতা ছাড়াই জনবহুল এলাকায় বোমা ফেলা হয়, ফলে মুহূর্তেই আতঙ্ক ও বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়ে।

হামলার আরেকটি ভয়াবহ ঘটনা ঘটে খান ইউনিস এলাকায়। সেখানে একটি পুলিশ গাড়িকে লক্ষ্য করে চালানো হামলায় অন্তত আটজন নিহত হন, যার মধ্যে তিনজন ছিলেন সাধারণ পথচারী। একইদিন গাজা সিটিতে পৃথক আরেকটি হামলায় দুজন পুলিশ কর্মকর্তা প্রাণ হারান। এছাড়া উত্তর গাজার বেইত লাহিয়ায় একটি আবাসিক বাড়িতে বোমা হামলায় আরও দুজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

গাজার স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, এসব হামলা মূলত বেসামরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়োজিত পুলিশ বাহিনী এবং সাধারণ মানুষের ওপরই বেশি প্রভাব ফেলছে। তারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে যেন অবিলম্বে এই হামলা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয় এবং বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয়।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, গত বছরের অক্টোবর মাসে যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট Donald Trump-এর মধ্যস্থতায় গাজায় একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল। তবে সেই যুদ্ধবিরতির পরও পরিস্থিতি পুরোপুরি শান্ত হয়নি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে হামলার মাত্রা কমলেও প্রাণহানি ও সহিংসতা থামেনি।

গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি কার্যকরের পর থেকেই নতুন করে ইসরাইলি হামলায় অন্তত ৯৮৪ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও ২ হাজার ২৩৫ জনের বেশি মানুষ। তারা বলছে, এসব হামলা মূলত বেসামরিক এলাকা, আবাসিক ভবন এবং জনসমাগমস্থলকে কেন্দ্র করেই বেশি ঘটছে।

সবচেয়ে ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে চলমান সংঘাতের সামগ্রিক পরিসংখ্যানে। গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দীর্ঘ এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা ৭২ হাজার ৫০০ ছাড়িয়ে গেছে। আহত হয়েছেন ১ লাখ ৭২ হাজারেরও বেশি মানুষ। এই সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে, যা উপত্যকাটির মানবিক পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলছে।

জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা বারবার গাজায় বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানালেও পরিস্থিতির তেমন কোনো উন্নতি হয়নি। United Nations-এর পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, আবাসিক এলাকা, হাসপাতাল এবং সাধারণ নাগরিকদের চলাচলের জায়গাগুলো বারবার হামলার শিকার হওয়ায় মানবিক বিপর্যয় চরম আকার ধারণ করছে।

গাজার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পুলিশ বাহিনী মূলত বেসামরিক এলাকায় শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা রক্ষার দায়িত্ব পালন করছিল। কিন্তু তাদের লক্ষ্য করেও হামলা চালানো হচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। তারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে যেন এসব হামলা বন্ধে জরুরি কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।

বিশ্লেষকরা বলছেন, যুদ্ধবিরতির ঘোষণা থাকলেও বাস্তব পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। একদিকে কূটনৈতিক আলোচনা চললেও অন্যদিকে মাঠ পর্যায়ে সংঘাত অব্যাহত রয়েছে। ফলে সাধারণ মানুষের জীবন আরও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে যাচ্ছে।

গাজায় প্রতিদিনের জীবন এখন ভয়, ক্ষুধা এবং নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে শিশু ও নারীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অনেক পরিবার তাদের ঘরবাড়ি হারিয়ে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে বসবাস করছে। চিকিৎসা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় আহতদের যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, এই পরিস্থিতি শুধু একটি সামরিক সংঘাত নয়, বরং একটি গভীর মানবিক সংকট। তারা অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়ন এবং বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।

সব মিলিয়ে, জুমার দিনের এই হামলা গাজার চলমান সংকটকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে। যুদ্ধবিরতির মধ্যেও সহিংসতা অব্যাহত থাকায় শান্তির আশা আরও দূরবর্তী হয়ে পড়ছে। আন্তর্জাতিক মহল এখন নজর রাখছে, এই সংকট কোন দিকে গড়ায় এবং কবে থামবে এই দীর্ঘ রক্তক্ষয়ী অধ্যায়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত