লিবিয়ার উপকূলে নৌকাডুবি, নিহত ১৭

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৪০ বার
লিবিয়ার উপকূলে নৌকাডুবি, নিহত ১৭

প্রকাশ: ৩০ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

লিবিয়ার ভূমধ্যসাগরীয় উপকূলে নৌকা ডুবে কমপক্ষে ১৭ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও অন্তত ৯ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তা সংস্থা রেড ক্রিসেন্টের লিবিয়া শাখা এবং দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। ঘটনাটি ঘিরে আবারও আলোচনায় এসেছে বিপজ্জনক সাগরপথে ইউরোপ অভিমুখী অভিবাসন সংকট।

আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের বরাতে জানা যায়, লিবিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় শহর তবরুকের উপকূল থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে নৌকাটি ডুবে যায়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, নৌকাটি টানা প্রায় আট দিন ধরে সমুদ্রে ভাসছিল এবং অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই ও দুর্বল কাঠামোর কারণে এটি মাঝসমুদ্রে ভেঙে পড়ে।

রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি জানিয়েছে, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই লিবিয়ার নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড এবং স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবীরা যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে এখন পর্যন্ত ১৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজদের সন্ধানে চালানো অনুসন্ধান কার্যক্রম শেষ করা হয়েছে, তবে সমুদ্রের স্রোতে আরও মরদেহ তীরে ভেসে আসতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

নিহত ও নিখোঁজদের সবাই সাব-সাহারান আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের নাগরিক বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তবে তাদের সুনির্দিষ্ট পরিচয় বা কোন কোন দেশের নাগরিক তারা ছিলেন, তা এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, পরিচয় শনাক্তে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া চলছে।

আফ্রিকা মহাদেশের সাব-সাহারান অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরেই দারিদ্র্য, বেকারত্ব, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং নিরাপত্তাহীনতার কারণে বিপর্যস্ত। এসব কারণেই হাজার হাজার মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ইউরোপে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন। লিবিয়া হয়ে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়া এই অভিবাসন রুটটি সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ পথগুলোর একটি হিসেবে পরিচিত।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মানবপাচার চক্রগুলো এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের ছোট ও অনিরাপদ নৌকায় সমুদ্রে পাঠিয়ে দেয়। অনেক ক্ষেত্রেই এসব নৌকা প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা মানদণ্ড পূরণ করে না, ফলে মাঝপথে দুর্ঘটনার ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়।

লিবিয়া দীর্ঘদিন ধরেই ইউরোপগামী অভিবাসীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট রুট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও সীমান্ত নিয়ন্ত্রণের দুর্বলতার কারণে দেশটি মানবপাচারের কেন্দ্রস্থলে পরিণত হয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার অভিযোগ রয়েছে।

মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, ভূমধ্যসাগর এখন বিশ্বের সবচেয়ে প্রাণঘাতী অভিবাসন রুটগুলোর একটি। প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষ এই পথে যাত্রা শুরু করলেও অনেকেই আর গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেন না।

এই সাম্প্রতিক দুর্ঘটনার পর আন্তর্জাতিক মহলে আবারও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। মানবিক সহায়তা সংস্থাগুলো অভিবাসন সংকট মোকাবিলায় নিরাপদ ও বৈধ পথ তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেছে।

এদিকে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নৌকাটির উৎস, যাত্রার সময় এবং মানবপাচার চক্রের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষ হলে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে।

ঘটনাটি আবারও স্মরণ করিয়ে দিয়েছে, উন্নত জীবনের আশায় ঝুঁকিপূর্ণ পথে পাড়ি জমানো অভিবাসনপ্রত্যাশীদের জন্য ভূমধ্যসাগর কতটা প্রাণঘাতী হতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com