প্রকাশ: ২৩ জুলাই ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক | একটি বাংলাদেশ অনলাইন
রাজধানীর উত্তরা মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় দগ্ধদের চিকিৎসা বিষয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানিয়েছেন জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক অধ্যাপক মো. নাসির উদ্দিন। তিনি বলেন, এই মুহূর্তে আহতদের বিদেশে চিকিৎসার জন্য পাঠানোর কোনো পরিকল্পনা নেই।
বুধবার (২৩ জুলাই) দুপুরে ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, বর্তমানে ৪৪ জন দগ্ধ রোগী ইনস্টিটিউটে ভর্তি আছেন। তাঁদের মধ্যে ৮ জনের অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন (ক্রিটিক্যাল), ১৩ জন ‘সিভিয়ার’ অর্থাৎ গুরুতর এবং বাকি ২৩ জন ইন্টারমিডিয়েট পর্যায়ে চিকিৎসাধীন। প্রতিটি রোগীকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে চিকিৎসকরা দিনরাত পরিশ্রম করছেন।
অধ্যাপক নাসির উদ্দিন জানান, একই দিনে সকালে সিঙ্গাপুরের একটি উচ্চপর্যায়ের মেডিকেল টিম বার্ন ইনস্টিটিউটে এসে চিকিৎসা কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন। তবে এখনো তাদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা হয়নি এবং দগ্ধদের বিদেশে পাঠানো সংক্রান্ত কোনো বৈঠকও হয়নি।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, “আপাতত আমাদের চিকিৎসা ব্যবস্থা যথেষ্ট সক্রিয় এবং সক্ষম। আমাদের দেশের জাতীয় বার্ন ইউনিট এই ধরনের দগ্ধ রোগীদের চিকিৎসার জন্য আন্তর্জাতিক মানের সক্ষমতা অর্জন করেছে। তাই বিদেশে নেয়ার মতো সিদ্ধান্ত এই মুহূর্তে বিবেচনায় নেই।”
উল্লেখ্য, সম্প্রতি রাজধানীর দিয়াবাড়ি এলাকায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাসে বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হলে সেখানে উপস্থিত বহু শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও সাধারণ মানুষ আহত হন। এদের মধ্যে অনেকেই আগুনে দগ্ধ হয়ে গুরুতর অবস্থায় জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে ভর্তি হন।
এই হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনা শুধু চিকিৎসা ব্যবস্থার উপর নয়, সমগ্র জাতির মনেও গভীর প্রভাব ফেলেছে। সরকার, সেনাবাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট সব বিভাগ থেকে দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান এবং দগ্ধদের সর্বোচ্চ সহায়তা নিশ্চিত করার বিষয়ে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউট সূত্রে জানা গেছে, প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক চিকিৎসা সহযোগিতা নেওয়া হবে, তবে এই মুহূর্তে বিদেশে স্থানান্তরিত করার প্রয়োজনীয়তা দেখা যাচ্ছে না। রোগীদের অবস্থা উন্নতির দিকে গেলে, সঠিক পরামর্শ ও অনুমোদনের ভিত্তিতেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এই ঘটনার পর জাতি এক অদৃশ্য আতঙ্কে দিন পার করছে। চিকিৎসার মান, মানবিক সহায়তা ও সরকারি তৎপরতা মিলিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা গেলেও প্রতিটি পরিবারের প্রহর গুনছে নিরাশা আর ভয়ের মাঝামাঝি এক অনিশ্চয়তার দিনে।
একটি বাংলাদেশ অনলাইন