গণবিচারের মুখে সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হক: গ্রেপ্তার ডিবি পুলিশের হাতে

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২৪ জুলাই, ২০২৫
  • ২৯ বার

প্রকাশ: ২৪ জুলাই ‘২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
একটি বাংলাদেশ অনলাইন

দেশের বিচারাঙ্গনে বহু বিতর্ক ও রাজনৈতিক টানাপোড়েনের কেন্দ্রে থাকা সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হককে অবশেষে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর ধানমন্ডিস্থ তার ব্যক্তিগত বাসভবন থেকে তাকে আটক করা হয়। বিষয়টি গণমাধ্যমে নিশ্চিত করেছেন ডিবির যুগ্ম কমিশনার মোহাম্মদ নাসিরুল ইসলাম।

এবিএম খায়রুল হক দেশের ইতিহাসে এমন একজন বিচারপতি, যিনি নিজের দেয়া রায়ের মাধ্যমেই সংবিধানের এক গুরুত্বপূর্ণ অনুচ্ছেদের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিলেন। বিশেষত ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিলের মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলুপ্ত হওয়ার ঘটনায় তার নাম উঠে আসে বিচার বিভাগের রাজনৈতিককরণ এবং বিতর্কিত আইনি ব্যাখ্যার মুখ্য ব্যক্তিত্ব হিসেবে। বহু বছর ধরে এই ইস্যুতে আইনজীবী মহলসহ সাধারণ জনগণের একাংশ তাকে দায়ী করে আসছিল।

গত বছরের ৫ আগস্ট দেশের রাজনীতিতে এক অপ্রত্যাশিত নাটকীয়তা ঘটে, যখন টানা ক্ষমতায় থাকা শেখ হাসিনার সরকার ছাত্র-জনতার ব্যাপক গণআন্দোলনের মুখে পতন ঘটে। রাজনৈতিক পরিস্থিতির এই উত্তাল প্রেক্ষাপটে মাত্র আট দিন পর, ১৩ আগস্ট, খায়রুল হক আইন কমিশন থেকে পদত্যাগ করেন। এরপর থেকে তিনি আর প্রকাশ্যে আসেননি। দীর্ঘ সময় লোকচক্ষুর অন্তরালে থাকা এই সাবেক প্রধান বিচারপতিকে হঠাৎ গ্রেপ্তারের খবরে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে তাকে বিচারের আওতায় আনার দাবিতে বিভিন্ন মহল থেকে চাপ বৃদ্ধি পেতে থাকে। জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম এক সংবাদ সম্মেলনে তাকে ‘দেশের বিচার বিভাগ ও গণতন্ত্র ধ্বংসের মূল কারিগর’ আখ্যা দিয়ে বলেন, খায়রুল হক বিচারপতির আসনে থেকে এমন কিছু সিদ্ধান্ত দিয়েছেন, যেগুলো স্বাধীন বিচারব্যবস্থার ভিত কাঁপিয়ে দিয়েছে। তারা তার বিচার দাবি করেন এবং বলেন, আইনের চোখে সবাই সমান — বিচারপতিও আইনের ঊর্ধ্বে নয়।

গ্রেপ্তারের আগে খায়রুল হকের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য মামলাটি দাখিল করা হয় গত বছরের ১৮ আগস্ট। ঢাকা আইনজীবী সমিতির সদস্য ইমরুল হাসান মামলাটির বাদী ছিলেন। সেখানে খায়রুল হকের বিরুদ্ধে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিলের রায়কে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে পরিবর্তন করার অভিযোগ আনা হয়, যা মামলার ভাষায় ‘রাষ্ট্রবিরোধী জালিয়াতির শামিল’। এছাড়া তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রায়ের নথি হেরফের এবং বিচার বিভাগের নিরপেক্ষতা নষ্ট করার অভিযোগও রয়েছে।

এখন দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এবং বিচার বিভাগের ভবিষ্যৎ ভাবনায় নতুন করে এক আলোড়ন শুরু হয়েছে। সাবেক প্রধান বিচারপতির এই গ্রেপ্তার নিঃসন্দেহে দেশের ইতিহাসে এক অনন্য নজির, যেখানে শীর্ষ আদালতের একজন সাবেক প্রধান বিচারপতি সরাসরি জবাবদিহির মুখোমুখি হচ্ছেন।

বর্তমানে খায়রুল হক ডিবি হেফাজতে আছেন। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো তদন্ত করে দেখা হবে এবং প্রমাণিত হলে যথাযথ বিচার প্রক্রিয়ায় তাকে আদালতে হাজির করা হবে।

সাবেক প্রধান বিচারপতির এই গ্রেপ্তারের ঘটনা বাংলাদেশের বিচার ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় — যা হয়তো দীর্ঘদিন ধরে বিচার ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির দাবিতে সংগ্রামরত নাগরিক সমাজ ও আইনি মহলের কাছে এক নতুন দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

একটি বাংলাদেশ অনলাইন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত