নগর পরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরাতে নতুন পদক্ষেপ: পরিবেশবান্ধব ‘আরবা’ ই-রিকশা নিয়ে আসছে ন্যামস্ মোটরস

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২৪ জুলাই, ২০২৫
  • ৫১ বার

প্রকাশ: ২৪ শে জুন, ২০২৫ | একটি বাংলাদেশ ডেস্ক | একটি বাংলাদেশ অনলাইন

ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরেই অস্থিরতা বিরাজ করছে। ব্যাটারিচালিত রিকশার অনিয়ন্ত্রিত চলাচল, অদক্ষ চালকদের অসচেতনতা, ট্রাফিক নিয়ম লঙ্ঘন এবং যানবাহনের নিুমানের কারণে শহরের পরিবহন ব্যবস্থায় সৃষ্টি হয়েছে বিশৃঙ্খলা ও দুর্ঘটনার আশঙ্কা। এমন বাস্তবতায় নগর পরিবহন ব্যবস্থাকে আধুনিক, নিরাপদ এবং পরিবেশবান্ধব করার প্রয়াসে ‘আরবা’ নামে একটি নতুন ই-রিকশা নিয়ে এসেছে ন্যামস্ মোটরস লিমিটেড।

বহুজাতিক ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন প্রযুক্তির মিশ্রণে উদ্ভাবিত এই ই-রিকশা তৈরি হয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কারিগরি নির্দেশনার ভিত্তিতে। এই যানটিতে ব্যবহৃত হয়েছে উন্নত ব্যাটারি প্রযুক্তি, যা একবার চার্জে ১০০ থেকে ১২০ কিলোমিটার পর্যন্ত চলতে সক্ষম। এতে রয়েছে আধুনিক হাইড্রোলিক ব্রেক, টেকসই ও ভারসাম্যপূর্ণ কাঠামো এবং উন্নত যাত্রী নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

‘আরবা’ ই-রিকশা চালু প্রকল্পে সহযোগী হিসেবে যুক্ত হয়েছে জনপ্রিয় অ্যাপ-ভিত্তিক পরিবহন প্ল্যাটফর্ম ইজিগো। প্রতিষ্ঠানটির সহ-প্রতিষ্ঠাতা সাজ্জাতুল ইসলামের সঙ্গে যৌথভাবে এই পরিবহন উদ্ভাবনের কার্যক্রম পরিচালনা করছে ন্যামস্ মোটরস। লক্ষ্য একটাই— নগর পরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরানো, চালকদের প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা এবং শহরবাসীর যাতায়াতকে আরও নিরাপদ, সাশ্রয়ী ও টেকসই করে তোলা।

ন্যামস্ মোটরস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) এ. কে. এম. আবদুর রহমান বলেন, “এই ই-রিকশা শুধু প্রযুক্তিনির্ভর পরিবহন নয়, এটি একটি সমন্বিত শহর উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ। গবেষণালব্ধ জ্ঞান, পরিবেশ-সচেতনতা এবং নিরাপত্তা— এই তিনটি স্তম্ভের উপর দাঁড়িয়ে আমরা এমন একটি পরিবহন ব্যবস্থার সূচনা করতে যাচ্ছি, যা নাগরিক জীবনে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন আনবে।”

আরবা ই-রিকশার নকশা এমনভাবে করা হয়েছে, যেখানে নারী, শিশু ও প্রবীণ যাত্রীরা সহজেই উঠতে ও নামতে পারেন। এই ডিজাইন যাত্রীদের নিরাপত্তা ও আরামকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তৈরি করা হয়েছে, যাতে শহরের নানা বয়স ও শ্রেণির মানুষ নির্বিঘ্নে এটি ব্যবহার করতে পারে। বিশেষ করে নারীদের জন্য এটি হতে পারে একটি নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য যাতায়াত মাধ্যম।

এই উদ্যোগ শুধু প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন নয়, বরং একটি সামাজিক অঙ্গীকার— ঢাকার মতো বিশাল ও জটিল শহরে একটি দীর্ঘস্থায়ী ও টেকসই নগর পরিবহন কাঠামো গড়ে তোলার প্রাথমিক পদক্ষেপ। পরিবেশবান্ধব এই যানবাহনের প্রসার ঘটলে দূষণ কমবে, জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমবে এবং যাত্রীদের যাতায়াত আরও সহজ ও নিরাপদ হবে। শহর উন্নয়নে এটি হতে পারে এক আশাব্যঞ্জক সূচনা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত