প্রকাশ: ২৫ জুলাই’ ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন
নেইমার যেন পিছু ছাড়তে পারছেন না বিতর্ক ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার ছায়া থেকে। ব্রাজিলিয়ান তারকার ক্যারিয়ারে দুর্দান্ত গোল ও নজরকাড়া নৈপুণ্যের পাশাপাশি বিতর্ক, নাটকীয়তা ও উত্তেজনার অধ্যায় যেন সমানতালে এগিয়ে চলছে। বুধবার রাতে ব্রাজিলের শীর্ষ লিগে ইন্টারন্যাসিওনালের বিপক্ষে সান্তোসের হয়ে মাঠে নামা নেইমার আবারও তেমনই এক অদ্ভুত ও বিব্রতকর রাত পার করেছেন, যা নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে ফুটবল বিশ্বে।
ইন্টারন্যাসিওনালের বিপক্ষে ম্যাচে সান্তোস হেরেছে ২-১ গোলে। ম্যাচের ফলাফল যতটা না আলোচনায় এসেছে, তার চেয়েও বেশি জায়গা দখল করেছে নেইমারের একের পর এক কাণ্ড। প্রথমার্ধ শেষে ড্রেসিংরুমে ফেরার পথে প্রতিপক্ষ গোলরক্ষক সার্জিও রোচেতের সঙ্গে শারীরিক ধাক্কাধাক্কিতে জড়িয়ে পড়েন তিনি। খেলাধুলার মাঠে এমন আচরণ কেবল দৃষ্টিকটু নয়, বরং খেলোয়াড়দের জন্য নেতিবাচক দৃষ্টান্তও।
তবে ম্যাচ শেষে পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে গড়ায়। এবার গ্যালারির এক সমর্থকের সঙ্গে তুমুল বাকবিতণ্ডায় জড়ান নেইমার। ওই সমর্থকের একটি মন্তব্যে ক্ষিপ্ত হয়ে সরাসরি তাকে শারীরিক লড়াইয়ের চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেন ব্রাজিলিয়ান তারকা। মাঠের বাইরের এই আচরণ ফুটবলপ্রেমীদের অনেককেই বিস্মিত করেছে, অনেকে আবার প্রশ্ন তুলেছেন একজন অভিজ্ঞ আন্তর্জাতিক তারকার কাছ থেকে এমন অসংযত আচরণ কতটা গ্রহণযোগ্য।
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে খেলার যোগ করা সময়ের শেষ মিনিটে। নেইমার বাঁ পায়ের এক দারুণ ভলিতে শট নেন, যেটি ইন্টার গোলরক্ষক রোচেত দক্ষতার সঙ্গে প্রতিহত করেন। বলটি পোস্টে লেগে গোললাইনের ওপর পড়ে, তবে সম্পূর্ণরূপে গোললাইন অতিক্রম করেনি। কিন্তু নেইমার ভুলভাবে ধরে নেন, তিনি গোল করেছেন। তাতেই শুরু হয়ে যায় উদযাপন। তিনি দৌড়ে যান গ্যালারির দিকে, উল্লাসে লাথি মেরে কর্নার ফ্ল্যাগ পর্যন্ত ভেঙে ফেলেন। অথচ পেছনে খেলা চলছিল! গোল হয়নি, খেলা থামেনি, নেইমারের উদযাপন ছিল এক অপূর্ণ বিভ্রমের ফল।
এই বিভ্রান্তিমূলক গোল উদযাপন ফুটবল ভক্তদের মধ্যে হাস্যরসের জন্ম দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায় সেই দৃশ্য। কেউ কেউ এটিকে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম বিব্রতকর উদযাপন হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।
ব্রাজিলিয়ান মিডিয়ায় নেইমারকে ঘিরে এইসব ঘটনাকে ‘উদ্দেশ্যহীন উচ্ছ্বাস ও অস্থির মানসিক অবস্থার বহিঃপ্রকাশ’ হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। অনেকে বলছেন, বিশ্বমঞ্চ থেকে ফিরে নিজ দেশের ঘরোয়া ফুটবলে মানিয়ে নিতে গিয়ে নেইমার হয়তো মানসিক চাপে আছেন। আবার কেউ কেউ মনে করছেন, এ ধরনের আচরণ তার ক্যারিয়ারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে এবং তরুণ ভক্তদের মাঝেও ভুল বার্তা ছড়াচ্ছে।
সান্তোস ক্লাব এখনো এই ঘটনায় আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি। তবে ব্রাজিলিয়ান ফুটবল ফেডারেশন (CBF) হয়তো ঘটনাগুলোর তদন্ত করে প্রয়োজনে ব্যবস্থা নিতে পারে বলে শোনা যাচ্ছে।
নেইমারের পায়ে এখনও রয়েছে জাদু, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু সেই জাদুকে ঘিরে থাকা অস্থিরতা এবং অহেতুক নাটক এখন প্রশ্ন তুলছে—এই প্রতিভাধর ফুটবলার তার ক্যারিয়ারের শেষ প্রান্তে এসে কীভাবে নিজেকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবেন? কিংবা আদৌ পারবেন তো? ফুটবল মাঠে তার দক্ষতা অমর থাকলেও, এইসব ঘটনাই হয়তো ভবিষ্যতের ইতিহাসে বড় একটি ছায়া ফেলতে চলেছে নেইমারের নামের পাশে।