অপারেশনাল সিদ্ধান্তে জিএমএস-এর আয় কমে গেল এক চতুর্থাংশ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ৮ মে, ২০২৬
  • ৫ বার
জাহাজ সরাতেই আমিরাতের জিএমএস-এর মুনাফায় ধস

প্রকাশ: ০৮ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি খাতের কোম্পানিগুলোর ওপর। এরই সর্বশেষ উদাহরণ হিসেবে সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক অফশোর সাপোর্ট প্রতিষ্ঠান গালফ মেরিন সার্ভিসেস (জিএমএস)-এর মুনাফায় বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল ও ইরান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে সতর্কতামূলকভাবে চারটি জাহাজ সরিয়ে নেওয়ার পর প্রতিষ্ঠানটির আয়ে উল্লেখযোগ্য ধস নেমেছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের বরাতে জানা যায়, চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে জিএমএস-এর মূল মুনাফা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২৪ শতাংশ কমে গেছে। ৩১ মার্চ পর্যন্ত তিন মাসে প্রতিষ্ঠানটির মুনাফা দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ৯৫ লাখ মার্কিন ডলার, যেখানে আগের বছরের একই সময়ে এই পরিমাণ ছিল ২ কোটি ৫৬ লাখ ডলার।

কোম্পানিটি জানায়, মার্চ মাসে পারস্য উপসাগরীয় একটি জিসিসিভুক্ত দেশ থেকে চারটি জাহাজ নিরাপত্তাজনিত কারণে সরিয়ে নেওয়া হয়। ওই সিদ্ধান্তের ফলে সংশ্লিষ্ট এলাকায় প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায় এবং পুরো মার্চ মাসে ওই জাহাজগুলো থেকে কোনো রাজস্ব আসেনি। তবে কোন দেশ থেকে জাহাজগুলো সরানো হয়েছে, তা নিরাপত্তার স্বার্থে প্রকাশ করেনি জিএমএস কর্তৃপক্ষ।

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থির পরিস্থিতি বিশেষ করে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইলের মধ্যে উত্তেজনা সরাসরি সমুদ্র পরিবহন ও অফশোর সেবা খাতে প্রভাব ফেলছে। পারস্য উপসাগর বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুট হওয়ায় এখানে কোনো ধরনের নিরাপত্তা সংকট দেখা দিলে তা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও প্রভাব ফেলে।

জিএমএস আরও জানিয়েছে, চলমান উত্তেজনার মধ্যে হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় তারা তাদের অপারেশনাল কৌশলে পরিবর্তন আনে। এর ফলে কিছু সময়ের জন্য জাহাজগুলোর কার্যক্রম স্থগিত রাখতে হয়। তবে এপ্রিলের শুরু থেকে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হতে শুরু করলে ক্রুরা পুনরায় জাহাজে ফিরে যান এবং দুইটি জাহাজে আংশিকভাবে কার্যক্রম পুনরায় শুরু হয়।

কোম্পানির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সাময়িক এই আয় কমে গেলেও তারা তাদের দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক লক্ষ্য ও ২০২৬ সালের পুরো বছরের মুনাফার পূর্বাভাস অপরিবর্তিত রেখেছে। প্রতিষ্ঠানটি আশা করছে, ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্থিতিশীল হলে তাদের কার্যক্রম আবার স্বাভাবিক গতিতে ফিরে আসবে।

অফশোর মেরিন সাপোর্ট খাতে কাজ করা জিএমএস মূলত তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান এবং উৎপাদন কার্যক্রমে সহায়তা প্রদান করে থাকে। তাদের জাহাজগুলো সাধারণত গভীর সমুদ্র অঞ্চলে সরঞ্জাম পরিবহন, রক্ষণাবেক্ষণ এবং প্রযুক্তিগত সহায়তার কাজে ব্যবহৃত হয়। ফলে এই খাতে যেকোনো ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি সরাসরি ব্যবসায়িক কার্যক্রমে প্রভাব ফেলে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে শুধু জিএমএস নয়, মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক অনেক জ্বালানি ও মেরিন সার্ভিস কোম্পানি চাপের মুখে পড়ছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে অনিশ্চয়তা আন্তর্জাতিক শিপিং ও অফশোর খাতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

অন্যদিকে, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সমুদ্রপথে সরবরাহ ব্যাহত হলে তেলের দাম অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

জিএমএস-এর সাম্প্রতিক আর্থিক প্রতিবেদন বাজারে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। একদিকে আয় কমে যাওয়ার খবর বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে, অন্যদিকে কোম্পানির দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত আস্থা বজায় রাখতে সহায়তা করছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে অফশোর সেবা খাতে আরও বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে এই খাত দ্রুত পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হবে বলেও তারা মনে করছেন।

সব মিলিয়ে চারটি জাহাজ সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত আপাতত জিএমএস-এর জন্য আর্থিক চাপ তৈরি করলেও, কোম্পানিটি ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদী অবস্থান বজায় রেখেছে। এখন মূল বিষয় হলো আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি কত দ্রুত স্থিতিশীল হয় এবং বৈশ্বিক জ্বালানি ও শিপিং খাত কত দ্রুত স্বাভাবিক গতিতে ফিরে আসে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত