ঢাকায় জাতিসংঘ মানবাধিকার কার্যালয় স্থাপনের প্রতিবাদে বায়তুল মোকাররমে উত্তাল বিক্ষোভ

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২৫ জুলাই, ২০২৫
  • ৭৬ বার

প্রকাশ: ২৫শে জুলাই, ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন

ঢাকার বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেট সংলগ্ন এলাকায় শুক্রবার জুমার নামাজের পর একাধিক ইসলামপন্থী সংগঠনের উদ্যোগে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই বিক্ষোভের মূল প্রতিপাদ্য ছিল বাংলাদেশে জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয় স্থাপনের ঘোষিত সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে স্পষ্ট ও সরব প্রতিবাদ।

বিক্ষোভকারীদের মতে, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে বিশেষ করে ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় যখন শিশু ও নিরীহ সাধারণ মানুষ নির্বিচারে হত্যার শিকার হচ্ছেন, তখন জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের কার্যকর কোনো ভূমিকা দৃশ্যমান নয়। এই পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশে তাদের কার্যালয় স্থাপনকে অনেকেই দ্বিচারিতা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।

সমাবেশে নেতৃত্ব দেয় জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম। সংগঠনের সিনিয়র সহ-সভাপতি মাওলানা আব্দুর রব ইউসুফী এবং মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী ছাড়াও কেন্দ্রীয় ও মহানগর পর্যায়ের একাধিক নেতা বক্তব্য দেন। বক্তারা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, জাতিসংঘ বারবার তাদের নিরপেক্ষতা হারিয়েছে এবং মুসলিম বিশ্বের সংকটে নির্লিপ্ত থেকেছে। বিশেষ করে গাজায় মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে তাদের ভূমিকা প্রায় অকার্যকর ও নিষ্ক্রিয়।

বক্তারা আরও বলেন, একদিকে ফিলিস্তিনে গণহত্যা, অন্যদিকে মিয়ানমারে রোহিঙ্গা নিধন; অথচ এসব মানবিক বিপর্যয়ের সময় জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয়গুলো কার্যত নীরব দর্শকের ভূমিকায় ছিল। সেক্ষেত্রে প্রশ্ন ওঠে—বাংলাদেশে এই কার্যালয় স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা আসলে কোথায়? বক্তারা অভিযোগ করেন, এই কার্যালয় হয়তো ভবিষ্যতে দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের একটি প্ল্যাটফর্মে পরিণত হতে পারে, যা বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকিস্বরূপ।

একই সময় ইনতিফাদা বাংলাদেশ নামক একটি সংগঠনের ব্যানারেও একই স্থানে আলেম-ওলামাদের একটি বিশাল জমায়েত হয়। ফেস্টুন, ব্যানার ও প্ল্যাকার্ডে জাতিসংঘের বিরুদ্ধে নানা স্লোগান লেখা ছিল। তাঁরা জানান, একটি স্বাধীন রাষ্ট্রে জাতিসংঘের একটি মানবাধিকার কার্যালয় স্থাপন শুধু রাজনৈতিক নয়, এটি একটি কৌশলগত পরিকল্পনার অংশ হতে পারে, যা ভবিষ্যতে দেশে বৈদেশিক প্রভাব বিস্তারের মাধ্যম হয়ে উঠতে পারে।

সমাবেশ শেষে উভয় সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বায়তুল মোকাররম এলাকা থেকে পৃথক দুটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলগুলো শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হলেও পুরো এলাকা জুড়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।

এ সময় বক্তারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, বাংলাদেশে মানবাধিকার কার্যালয় স্থাপনের সিদ্ধান্ত অবিলম্বে বাতিল না করলে আরও বড় ধরনের গণআন্দোলন গড়ে তোলা হবে। তারা সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, দেশের ইসলামপ্রিয় জনতা কোনোভাবেই এই ধরনের বিদেশি হস্তক্ষেপকে মেনে নেবে না।

বায়তুল মোকাররম এলাকায় আয়োজিত এই প্রতিবাদ সমাবেশ ও মিছিল দেশের নাগরিক পরিমণ্ডলে নতুন করে বিতর্ক ও আলোচনা জন্ম দিয়েছে। বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এই ঘটনার ভিডিও ও ছবি ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে অনেকেই জাতিসংঘের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করার দাবি জানিয়েছেন।

বর্তমানে বিষয়টি নিয়ে প্রশাসন, কূটনৈতিক মহল ও সাধারণ জনগণের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। সরকারের তরফ থেকে এখনো পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য দেওয়া না হলেও বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই সিদ্ধান্ত নিয়ে পুনরায় ভাবনার প্রয়োজন রয়েছে। ধর্মীয় ও সামাজিক সংবেদনশীলতা, পাশাপাশি আন্তর্জাতিক কূটনীতিক বাস্তবতা মিলিয়ে এই ইস্যুটি অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এই বিক্ষোভ একদিকে যেমন ধর্মপ্রাণ মানুষের আবেগের বহিঃপ্রকাশ, অন্যদিকে এটি আন্তর্জাতিক রাজনীতির অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থান নিয়েও এক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নচিহ্ন উত্থাপন করছে। এখন দেখার বিষয়, জাতিসংঘ ও বাংলাদেশের সরকার এই পরিস্থিতিতে কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে এবং জনমতের প্রতি কতটা শ্রদ্ধাশীল ভূমিকা পালন করে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত