প্রকাশ: ২৯ জুলাই, ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
একটি বাংলাদেশ অনলাইন
মাত্র ১২ বছর বয়সে যখন অধিকাংশ শিশু এখনো স্বপ্ন দেখার ভাষা খুঁজে পায় না, ঠিক তখনই চীনের কিশোরী সাঁতারু ইউ জিদি বিশ্ব সাঁতার অঙ্গনে এক বিস্ময় সৃষ্টি করে ফেলেছেন। কৈশোরে পদার্পণ করার আগেই তিনি পুলে নামলেন বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের মঞ্চে, আর টাইমিংয়ের গতি আর দৃঢ়তা দিয়ে তিনি চমকে দিলেন গোটা দুনিয়াকে। সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত বিশ্ব সাঁতার চ্যাম্পিয়নশিপে জিদি এমন এক পারফরম্যান্স উপহার দিলেন, যা এই বয়সে কেউ কল্পনাও করতে পারে না।
বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ এই আসরে অংশ নেওয়ার জন্য সাধারণত সাঁতারুদের বয়স হতে হয় কমপক্ষে ১৪ বছর। কিন্তু নিয়মের ব্যতিক্রম হয় তখনই, যখন কেউ যোগ্যতার সব শর্ত পূরণ করে। ইউ জিদি ছিলেন তেমনই ব্যতিক্রমী এক প্রতিভা। টাইমিংয়ের অসাধারণ দক্ষতা দেখিয়ে তিনি প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের ছাড়পত্র অর্জন করেন। এই বয়সে বিশ্ব মঞ্চে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ পাওয়া নিজেই এক ইতিহাস, আর সেই ইতিহাসের পাতায় নিজের নাম লেখালেন জিদি।
মেয়েদের ২০০ মিটার ব্যক্তিগত মেডলিতে জিদি ছিলেন চূড়ান্ত ফাইনালে। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে ধরা হচ্ছিল কানাডার তারকা সাঁতারু, তিনবারের অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন সামার ম্যাকিন্টোশকে। ম্যাকিন্টোশ শেষ পর্যন্ত ২ মিনিট ০৬.৬৯ সেকেন্ড সময় নিয়ে স্বর্ণ জিতে যান। তবে ইউ জিদি যে ঠিক তার পেছনেই নিঃশ্বাস ফেলেছিলেন, তা বোঝা যায় ফিনিশিং টাইমিং দেখলে—২ মিনিট ০৯.২১ সেকেন্ড! আর তৃতীয় স্থান পাওয়া মেরি-সোফি হার্ভের সময় ছিল ২ মিনিট ০৯.১৫ সেকেন্ড। মাত্র ০.০৬ সেকেন্ডের ব্যবধানে ব্রোঞ্জ পদক হারিয়ে চতুর্থ স্থানে থেকে শেষ করেন জিদি।
এটাই ছিল তার ক্যারিয়ারের প্রথম বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ। অথচ এই কিশোরী যেন বহু অভিজ্ঞ সাঁতারুর মতোই পুলে নিজের কৌশল ও গতি দেখিয়েছেন। তার টাইমিং এমন পর্যায়ের যে, ওয়ার্ল্ড অ্যাকুয়াটিকস জানিয়েছে, বিশ্বমঞ্চে এর আগে কোনো ১২ বছর বয়সী ছেলেও এমন টাইমিং করতে পারেনি। অর্থাৎ শুধু মেয়েদের মধ্যে নয়, বরং সবমিলিয়ে এই বয়সে সাঁতারে এমন পারফরম্যান্স অভূতপূর্ব।
এই পারফরম্যান্সের পর আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো ইউ জিদিকে নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করছে, হয়তো খুব শিগগিরই তিনি বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ পদকজয়ীদের একজন হবেন। এর আগে ১৯৩৬ সালের বার্লিন অলিম্পিকে ডেনমার্কের ইনগে সোরেনসেন ১২ বছর বয়সে অলিম্পিক ব্রোঞ্জ জিতে সর্বকনিষ্ঠ পদকজয়ী হিসেবে ইতিহাস গড়েছিলেন। জিদি কি সেই রেকর্ড ছুঁয়ে ফেলবেন—তা সময়ই বলে দেবে, তবে তার সামর্থ্য যে সেই উচ্চতায় পৌঁছাতে পারবে, সে আভাস এখনই স্পষ্ট।
বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে এত অল্প বয়সে অংশ নেওয়ার নজির অবশ্য একেবারে নেই। ২০১৫ সালের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে বাহরাইনের সাঁতারু আলজাইন তারেক মাত্র ১০ বছর বয়সে পুলে নেমেছিলেন। তবে তিনি হিট পর্বই অতিক্রম করতে পারেননি। জিদি সেখানেও ব্যতিক্রম, কারণ তিনি শুধুই অংশগ্রহণ করতে আসেননি—তিনি এসেছেন চ্যালেঞ্জ জানাতে, সেরা হওয়ার লড়াইয়ে নামতে।
এই বয়সে এমন পারফরম্যান্স যে ভবিষ্যতের এক সম্ভাবনাময় কিংবদন্তির জন্ম দিচ্ছে, তা বলা যায় নিঃসন্দেহে। বিশ্ব সাঁতার অঙ্গন এখন ইউ জিদিকে নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য হয়েছে। ক্রীড়া দুনিয়া এমন একজন প্রতিভার জন্য দীর্ঘদিন অপেক্ষা করছিল, যিনি বয়সের বাধা পেরিয়ে প্রতিভা আর অধ্যবসায়ের শক্তিতে সবকিছু জয় করতে পারেন।
একটি বাংলাদেশ অনলাইন