ইউক্রেনে রুশ হামলায় নিহত ১০, আতঙ্কে সাধারণ মানুষ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬
  • ৪ বার
ইউক্রেনে রুশ হামলায় নিহত ১০, আতঙ্কে সাধারণ মানুষ

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চলে রাশিয়ার ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন। এসব হামলায় আহত হয়েছেন আরও কয়েক ডজন মানুষ। সোমবার দিনভর চালানো হামলার পর ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ আশঙ্কা করছে, হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

যুদ্ধের দীর্ঘস্থায়ী প্রভাবে বিপর্যস্ত ইউক্রেনে নতুন করে এই হামলা সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে। দেশটির গুরুত্বপূর্ণ শহর ও বেসামরিক স্থাপনাগুলোতে হামলার কারণে বহু মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে ছুটেছেন। উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

ইউক্রেনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় গুরুত্বপূর্ণ শিল্পনগরী দিনিপ্রোতে সবচেয়ে ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটে। সেখানে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতে অন্তত ছয়জন নিহত এবং ২৯ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

দিনিপ্রোর আঞ্চলিক গভর্নর ওলেক্সান্দর হানঝা জানান, হামলায় একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, একটি স্কুল, বেশ কয়েকটি ব্যক্তিগত বাড়ি ও অসংখ্য যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিস্ফোরণের পর এলাকায় ব্যাপক ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় বলেন, রাশিয়া দিনিপ্রোর গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। তিনি ইউরোপীয় দেশগুলোর প্রতি নিজস্ব আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানিয়েছেন।

জেলেনস্কি বলেন, ইউক্রেনকে রক্ষার জন্য আধুনিক প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি আরও প্রয়োজন। তার মতে, রুশ হামলা ঠেকাতে শুধু সামরিক সক্ষমতাই নয়, বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তার জন্যও উন্নত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জরুরি।

এদিকে, জাপোরিঝঝিয়া অঞ্চলেও ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটেছে। সেখানে একটি যাত্রীবাহী মিনিবাসে রাশিয়ার ড্রোন আঘাত হানলে দুই পুরুষ ও এক নারী নিহত হন। এ ঘটনায় সাত বছর বয়সী এক শিশুসহ আরও আটজন আহত হয়েছে।

আঞ্চলিক গভর্নর ইভান ফেদোরভ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে প্রকাশিত ভিডিওতে হামলার পর ক্ষতিগ্রস্ত একটি সাদা মিনিবাসের দৃশ্য দেখান। ভিডিওতে গাড়িটির ভেতরে রক্তাক্ত অবস্থায় একজনকে পড়ে থাকতে দেখা যায়। হামলার পর স্থানীয় উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করে।

পরে একই এলাকায় একটি বেসামরিক ভ্যানে আবারও হামলা চালানো হয়। এতে গাড়িটিতে আগুন ধরে যায়, তবে ওই ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

ইউক্রেনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর খারকিভেও রুশ হামলায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। সেখানে একটি গ্লাইড বোমা হামলায় ২৩ বছর বয়সী এক নারী নিহত হন। এ ঘটনায় আরও অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।

খারকিভের মেয়র ইহোর তেরেখভ জানান, হামলায় একটি ট্রাম ও অন্তত ১৫টি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শহরের বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় এবং ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে জরুরি পরিষেবার কর্মীরা কাজ শুরু করেন।

তিনি আরও জানান, এক ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে শহরে দ্বিতীয় আরেকটি গ্লাইড বোমা আঘাত হানে। তবে সেটি বিস্ফোরিত না হওয়ায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।

দিনিপ্রো, জাপোরিঝঝিয়া ও খারকিভ—ইউক্রেনের এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্প ও জনবহুল শহর যুদ্ধের শুরু থেকেই রাশিয়ার হামলার অন্যতম লক্ষ্যবস্তু হয়ে রয়েছে। এসব অঞ্চলে সামরিক স্থাপনার পাশাপাশি আবাসিক এলাকা ও বেসামরিক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনা নিয়মিত ঘটছে।

২০২২ সালে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে ধারাবাহিক হামলা চলছে। যুদ্ধের কারণে লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন এবং বহু শহরের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়েছে।

ইউক্রেনের অভিযোগ, রাশিয়া পরিকল্পিতভাবে বেসামরিক এলাকা ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলা চালাচ্ছে। কিয়েভের দাবি, রুশ হামলায় এ পর্যন্ত বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষ নিহত হয়েছেন এবং দেশটির বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও পরিবহন ব্যবস্থার ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হয়েছে।

অন্যদিকে, রাশিয়া বরাবরই দাবি করে আসছে, তাদের হামলার লক্ষ্য সামরিক স্থাপনা। মস্কোর অভিযোগ, ইউক্রেনও রাশিয়া ও রুশ নিয়ন্ত্রিত এলাকায় হামলা চালায়। তবে উভয় পক্ষই বেসামরিক মানুষকে ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই সংঘাতের সবচেয়ে বড় মূল্য দিচ্ছেন সাধারণ মানুষ। প্রতিদিনের জীবন, শিক্ষা, চিকিৎসা ও অর্থনৈতিক কার্যক্রম যুদ্ধের কারণে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। নতুন এই হামলাগুলো আবারও প্রমাণ করছে যে, যুদ্ধের সমাধান না হলে বেসামরিক জনগণের দুর্ভোগ আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে ইউক্রেনের মিত্র দেশগুলো প্রতিরক্ষা সহায়তা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে কূটনৈতিকভাবে সংঘাত বন্ধের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও বারবার উঠে আসছে। তবে যুদ্ধক্ষেত্রে হামলা-পাল্টা হামলার ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকায় দ্রুত শান্তি প্রতিষ্ঠার পথ এখনো কঠিন বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত