ব্রাজিলের কাছাকাছি জাপান, স্বপ্ন দেখছেন কোচ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬
  • ৮ বার
ব্রাজিলের কাছাকাছি জাপান, স্বপ্ন দেখছেন কোচ

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বিশ্বকাপের মঞ্চে আরেকটি হৃদয়ভাঙা রাত কাটাল জাপান। শেষ বাঁশি বাজার আগ পর্যন্ত পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের বিপক্ষে লড়াই করে গেলেও শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলের নাটকীয় পরাজয়ে বিদায় নিতে হয়েছে ব্লু সামুরাইদের। তবে এই হারেও হতাশার চেয়ে ভবিষ্যতের সম্ভাবনাই বেশি দেখছেন জাপানের প্রধান কোচ হাজিমে মোরিয়াসু।

তার বিশ্বাস, বিশ্বফুটবলের অন্যতম শক্তিশালী দল ব্রাজিলের সঙ্গে জাপানের ব্যবধান আগের তুলনায় অনেকটাই কমে এসেছে। একসময় যাদের বিপক্ষে মাঠে নামাটাই ছিল বড় চ্যালেঞ্জ, এখন তাদের চোখে চোখ রেখে লড়াই করার সক্ষমতা তৈরি হয়েছে এশিয়ার এই ফুটবল শক্তির।

ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে মোরিয়াসু বলেন, “ব্রাজিলের সঙ্গে আমাদের দূরত্ব এখন অনেকটাই কমে এসেছে। তারা নিঃসন্দেহে বিশ্বের অন্যতম সেরা দল। কিন্তু আমরাও এখন সেই পর্যায়ের কাছাকাছি পৌঁছানোর পথে আছি।”

ব্রাজিলের বিপক্ষে ম্যাচটিতে জাপানের লড়াই ছিল আত্মবিশ্বাস ও সাহসের প্রতিচ্ছবি। হিউস্টনের মাঠে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে জাপান। ম্যাচের ২৯ মিনিটে কাইশু সানোর দুর্দান্ত গোলে এগিয়ে যায় তারা। গোলের পর আরও সংগঠিত হয়ে ব্রাজিলের আক্রমণ সামলাতে থাকে এশিয়ার দলটি।

প্রথমার্ধে জাপানের রক্ষণ ছিল দৃঢ়। ব্রাজিলের তারকাবহুল আক্রমণভাগকে তারা বেশ কিছু সময় আটকে রাখতে সক্ষম হয়। তবে দ্বিতীয়ার্ধে অভিজ্ঞতা ও ব্যক্তিগত দক্ষতার জোরে ম্যাচে ফিরে আসে সেলেসাওরা।

৫৬ মিনিটে কাসেমিরোর হেডে সমতায় ফেরে ব্রাজিল। এরপর দুই দলই জয় তুলে নেওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে। নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পর অতিরিক্ত সময়ের একেবারে শেষ মুহূর্তে গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেল্লির গোল জাপানের স্বপ্ন ভেঙে দেয়।

এই পরাজয় শুধু একটি ম্যাচ হার নয়, বরং জাপানের জন্য আবারও পুরোনো এক আক্ষেপের পুনরাবৃত্তি। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে এগিয়ে গিয়েও শেষ পর্যন্ত বিদায়ের কঠিন অভিজ্ঞতা এবারও সঙ্গী হলো তাদের।

২০১৮ বিশ্বকাপে বেলজিয়ামের বিপক্ষে ২-০ গোলে এগিয়ে থেকেও ৩-২ ব্যবধানে হেরেছিল জাপান। ২০২২ বিশ্বকাপে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষেও প্রথমে লিড নিয়েছিল তারা, কিন্তু শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে বিদায় নিতে হয়। এবার ব্রাজিলের বিপক্ষেও একই ধরনের চিত্রনাট্য দেখা গেল।

তবে ধারাবাহিক এই হতাশার মধ্যেও মোরিয়াসু ইতিবাচক দিক খুঁজে পাচ্ছেন। তার মতে, জাপানের ফুটবল এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে তারা বিশ্বের সেরা দলগুলোর বিপক্ষে শুধু প্রতিদ্বন্দ্বিতা নয়, বরং জয়ের স্বপ্ন নিয়েও মাঠে নামতে পারে।

জাপান কোচ বলেন, “ইতিহাস হয়তো এখনো আমাদের পক্ষে কথা বলছে না। কিন্তু আমি বিশ্বাস করি, একদিন আমরা এই বাধা অতিক্রম করব। সেদিন ইতিহাসও বদলে যাবে।”

বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জাপানের প্রথম জয়ের অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হলো। কিন্তু দলের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স বলছে, তারা ধীরে ধীরে নিজেদের অবস্থান শক্ত করছে। ইউরোপ ও দক্ষিণ আমেরিকার বড় দলগুলোর সঙ্গে ব্যবধান কমিয়ে আনতে পারছে তারা।

ব্রাজিলের বিপক্ষে এটি ছিল জাপানের ১৫তম মুখোমুখি লড়াই। এর মধ্যে ১২ বার জয় পেয়েছে ব্রাজিল, দুটি ম্যাচ ড্র হয়েছে এবং একটি জয় এসেছে জাপানের ঘরে। তবে সেই একমাত্র জয়টিও এসেছিল সাম্প্রতিক সময়ে, গত অক্টোবরের একটি প্রীতি ম্যাচে। যা প্রমাণ করে, মানসিক ও কৌশলগতভাবে জাপান এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি প্রতিযোগিতামূলক।

মোরিয়াসুর নেতৃত্বে জাপান গত কয়েক বছরে শৃঙ্খলাবদ্ধ, দ্রুতগতির এবং আধুনিক ফুটবল উপহার দিয়েছে। ইউরোপের বিভিন্ন লিগে খেলা জাপানি ফুটবলাররা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের মানও বাড়িয়েছেন। ফলে বিশ্বকাপে তাদের উপস্থিতি এখন আর শুধু অংশগ্রহণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; তারা বড় দলগুলোর জন্যও কঠিন প্রতিপক্ষ হয়ে উঠেছে।

তবে ব্রাজিলের বিপক্ষে পরাজয়ের পর নিজের দায়িত্ব নিয়েও কথা বলেছেন মোরিয়াসু। দলের ব্যর্থতার দায় নিজের কাঁধে তুলে নিয়ে তিনি বলেন, বিশ্বকাপ জেতাই ছিল তাদের প্রধান লক্ষ্য ও স্বপ্ন। কিন্তু সেই লক্ষ্য পূরণ করতে না পারায় তিনি খেলোয়াড়দের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

তিনি বলেন, “খেলোয়াড়দের এমন একটি জায়গায় নিয়ে যেতে চেয়েছিলাম, যেখানে তারা সাফল্যের সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছাতে পারে। হয়তো প্রধান কোচ হিসেবে আমি সেখানে পুরোপুরি সফল হতে পারিনি।”

ম্যাচ শেষে ড্রেসিংরুমে খেলোয়াড়দের সান্ত্বনা দেন জাপান কোচ। তিনি বলেন, এই কষ্টকেই ভবিষ্যতের শক্তিতে পরিণত করতে হবে। কারণ বড় সাফল্যের পথে এমন কঠিন অভিজ্ঞতাও গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হয়ে থাকে।

ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, জাপানের এবারের বিশ্বকাপ অভিযান হয়তো কাঙ্ক্ষিত ফল এনে দেয়নি, কিন্তু তাদের পারফরম্যান্স দেখিয়েছে এশিয়ার ফুটবল দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। ব্রাজিলের মতো দলের বিপক্ষে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করার সক্ষমতা ভবিষ্যতের জন্য বড় আশার বার্তা।

জাপানের স্বপ্ন এবার থেমে গেলেও তাদের পথচলা থামছে না। মোরিয়াসুর বিশ্বাস, যে দিন তারা নকআউটের বাধা পেরিয়ে আরও বড় সাফল্য অর্জন করবে, সেই দিনটি খুব বেশি দূরে নয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত