প্রকাশ: ০৫ আগস্ট ২০২৫ | একটি বাংলাদেশ ডেস্ক | একটি বাংলাদেশ অনলাইন
এশিয়া সফরে নিজেদের প্রস্তুতিমূলক ম্যাচগুলোতে যেন পুরনো সেই রাজকীয় ছন্দে ফিরেছে বার্সেলোনা। দক্ষিণ কোরিয়ার মাটিতে দ্বিতীয়বারের মতো চোখ ধাঁধানো পারফরম্যান্স উপহার দিয়ে দেগু এফসিকে ৫-০ ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়েছে কাতালান ক্লাবটি। ম্যাচজুড়ে ছিল টোটাল ফুটবলের এক নিখুঁত উপস্থাপন। বল দখল থেকে আক্রমণ—সব বিভাগেই প্রতিপক্ষকে একরকম ছিটকে ফেলে গোল উৎসব করেছে স্প্যানিশ জায়ান্টরা।
দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলের বিপক্ষে সাত গোলের বন্যা বইয়ে দেবার মাত্র কয়েকদিন পরই, এশিয়ান ট্যুরে নিজেদের শেষ ম্যাচেও বার্সা থামেনি। প্রতিপক্ষ দেগু এফসির বিপক্ষে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আধিপত্য ধরে রেখে ম্যাচটি কেবল জয় নয়, রীতিমতো দাপটের সঙ্গে শেষ করেছে তারা। ৭৩ শতাংশ বল দখলে রেখে ম্যাচে মোট ১৭টি শট নেয় বার্সেলোনা, যার মধ্যে পাঁচটি ছিল নিখুঁতভাবে লক্ষ্যভেদী।
এই ম্যাচের মধ্য দিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন ইংলিশ ফরোয়ার্ড মার্কাস রাশফোর্ড। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড থেকে ধারে আসা এই তারকার বার্সা-যাত্রা নিয়ে শুরু থেকেই ছিল ব্যাপক আগ্রহ। যদিও আগের দুটি ম্যাচে গোলের দেখা না পাওয়ায় সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন তিনি, তবে তৃতীয় ম্যাচেই নিজের সামর্থ্য জানান দিলেন। দারুণ এক ফিনিশিংয়ে ক্লাবটির হয়ে নিজের প্রথম গোলটি করে চাপ মুক্ত হলেন এই ইংলিশ তারকা। কোচ হান্সি ফ্লিক আগেই জানিয়েছিলেন, রাশফোর্ডকে ঘিরেই তার বার্সেলোনার আক্রমণভাগ পুনর্গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে। আজকের পারফরম্যান্স সেই বিশ্বাসের যথার্থতা প্রমাণ করল।
দলের পারফরম্যান্স ছিল ঠিক বার্সেলোনা নামের সঙ্গে মানানসই। ম্যাচের শুরু থেকেই একের পর এক আক্রমণ শানিয়েছে বার্সা। পেদ্রি, ইয়ামাল, ডি ইয়ং ও ফেরান তোরেস ছিলেন চেনা ছন্দে। মধ্যমাঠে চমৎকার সংযোগ তৈরি করেছেন গুডনগান ও গাভি, যা আক্রমণভাগে বারবার ভয়ঙ্কর রূপ নিয়েছে। প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ এতটাই কোণঠাসা হয়ে পড়ে যে, গোলরক্ষক ছাড়া আর কেউ যেন দাঁড়াতেই পারছিল না।
গোলের বন্যা বইয়ে দেওয়া এই ম্যাচটি শুধুমাত্র জয় নয়, বরং আগামী মৌসুমের জন্য বার্সেলোনার আত্মবিশ্বাস আরও একধাপ বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে ক্লাবটির নতুন প্রজন্ম ও তরুণ ফুটবলারদের আত্মবিশ্বাস যে এখন তুঙ্গে—তা বলার অপেক্ষা রাখে না। রাশফোর্ডের গোল, ইয়ামালের সৃষ্টিশীলতা, পেদ্রির পাসিং এবং দলে নতুন সংযোজিত খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স সামগ্রিকভাবে নতুন এক বার্সার বার্তা দিচ্ছে।
প্রস্তুতি ম্যাচ হলেও, বার্সেলোনার এই গোল উৎসব ফুটবল বিশ্বের নজর কেড়েছে। তিনটি শিরোপা জয় করে সদ্যসমাপ্ত মৌসুম শেষ করা দলটি এখন চতুর্থ শিরোপার খোঁজে। আর তারই সূচনায় রয়েছে এই দাপুটে প্রস্তুতি। নতুন মৌসুমে তারা কেবল প্রতিদ্বন্দ্বিতা নয়, আধিপত্য কায়েমের লক্ষ্যে মাঠে নামবে—দক্ষিণ কোরিয়ার এই জয়ের বার্তা অন্তত তেমনটাই দিচ্ছে।
এশিয়ান সফর শেষে বার্সেলোনা এবার ফিরবে ইউরোপে, যেখানে অপেক্ষা করছে আরও কঠিন প্রতিপক্ষ। তবে এমন পারফরম্যান্স যদি অব্যাহত থাকে, তাহলে ২০২৫-২৬ মৌসুমে কাতালান ক্লাবটির সামনে দাঁড়ানো সহজ হবে না বলেই মনে করছে বিশ্লেষকরা।