ডেঙ্গুর ছোবলে আবারও প্রাণহানি: ২৪ ঘণ্টায় ৩ জনের মৃত্যু, আক্রান্তের সংখ্যা পেরিয়ে ২২ হাজার

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৭ আগস্ট, ২০২৫
  • ৯৫ বার
ডেঙ্গুতে ৫ জনের মৃত্যু বৃদ্ধি, হাসপাতালে ভর্তি ১,১৩৯

প্রকাশ: ০৭ আগস্ট ২০২৫। একটি বাংলাদেশ ডেস্ক | একটি বাংলাদেশ অনলাইন

দেশজুড়ে ক্রমেই ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে ডেঙ্গু পরিস্থিতি। গত ২৪ ঘণ্টায় মশাবাহিত এই রোগে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৪২৮ জন নতুন রোগী। এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে প্রাণ হারানো মানুষের সংখ্যা দাঁড়াল ৯২-এ, আর মোট আক্রান্তের সংখ্যা পৌঁছেছে ২২ হাজার ৮১২ জনে।

বুধবার (৬ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জারিকৃত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, সর্বশেষ মারা যাওয়া তিনজনের মধ্যে দুইজন পুরুষ এবং একজন নারী। একই সময়ে নতুন আক্রান্তদের মধ্যে ৩১৫ জনই ঢাকার বাইরে বিভিন্ন জেলার বাসিন্দা, যা ডেঙ্গুর ভয়াবহতা দেশের সীমান্ত ছাড়িয়ে ব্যাপকতর হওয়ার ইঙ্গিত দেয়।

বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত আক্রান্তদের মধ্যে ১৩ হাজার ৩৮৯ জন পুরুষ এবং ৯ হাজার ৪২৩ জন নারী। মৃত্যুবরণকারী ৯২ জনের মধ্যে ৫৩ জন পুরুষ এবং ৩৯ জন নারী। এসব তথ্যই স্পষ্টভাবে দেখাচ্ছে যে ডেঙ্গু সংক্রমণ এই বছর ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে এবং এখনও পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণে আসার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, বছরের শুরু থেকেই ডেঙ্গুর প্রকোপ কম-বেশি ছিল। জানুয়ারিতে হাসপাতালে ভর্তি হন ১ হাজার ১৬১ জন এবং মৃত্যু ঘটে ১০ জনের। ফেব্রুয়ারিতে আক্রান্ত হন ৩৭৪ জন এবং মৃত্যু হয় তিনজনের। মার্চে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৩৩৬, তবে ওই মাসে কোনো প্রাণহানি ঘটেনি। কিন্তু এপ্রিল থেকে পরিস্থিতি আবারও খারাপ হতে শুরু করে—৭০১ জন আক্রান্ত হন এবং ৭ জনের মৃত্যু হয়। মে মাসে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ায় ১ হাজার ৭৭৩ জনে এবং মৃত্যু হয় তিনজনের। জুনে সংখ্যাটি বেড়ে দাঁড়ায় ৫ হাজার ৯৫১ জনে, আর মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ১৯।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্ষাকালে ডেঙ্গুর সংক্রমণ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। প্রচণ্ড বৃষ্টিপাতের ফলে জমে থাকা পানিতে এডিস মশার বংশবিস্তার দ্রুত হয়। বিশেষ করে রাজধানীসহ বড় শহরগুলোতে পানি নিষ্কাশনের অকার্যকর ব্যবস্থাপনা, অপরিকল্পিত নির্মাণকাজ এবং জনসচেতনতার অভাব সংক্রমণ বাড়িয়ে দিচ্ছে।

ঢাকার বাইরের জেলাগুলোতেও ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকায় সারাদেশে আশঙ্কাজনকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে রোগটি। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি এখন আর শুধু ঢাকা-কেন্দ্রিক মহামারি নয়; বরং একটি জাতীয় জনস্বাস্থ্য সংকট। ফলে এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় জরুরি ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় প্রশাসন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং জনসাধারণের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর নাগরিকদের সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছে। বিশেষ করে দিনের বেলায় সম্পূর্ণ হাত-পা ঢাকা জামাকাপড় পরা, ঘরের ভিতরে ও আশপাশে জমে থাকা পানি সরিয়ে ফেলা, এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা এবং উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে তারা।

ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে প্রস্তুতি নেওয়া হলেও রোগীর চাপ ক্রমেই বাড়ছে। ফলে হাসপাতালগুলোতে সেবার মান এবং শয্যা সংকটের মতো সমস্যাও দেখা দিচ্ছে। অনেক হাসপাতালেই পর্যাপ্ত শয্যা, রক্ত পরীক্ষার ব্যবস্থা বা প্রশিক্ষিত জনবল সংকটে চিকিৎসা ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।

জনস্বাস্থ্য বিশ্লেষকরা মনে করছেন, প্রতি বছর ডেঙ্গু নিয়ে এমন মৃত্যুর ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সময়মতো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না নেওয়া, মশা নিধন কার্যক্রমে অকার্যকারিতা এবং নাগরিক অবহেলা এই পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। তারা বলছেন, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান ও সিটি করপোরেশনগুলোকে আরও কার্যকরভাবে কাজ করতে হবে এবং মশা নিয়ন্ত্রণে টেকসই পরিকল্পনা গ্রহণ করাই একমাত্র সমাধান।

বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রয়োজন সময়োপযোগী প্রতিরোধ, কার্যকর সচেতনতা, এবং স্বাস্থ্যখাতে জরুরি সাড়া। নতুবা ডেঙ্গু মহামারি প্রতিনিয়ত প্রাণ কেড়ে নেওয়ার পাশাপাশি স্বাস্থ্যব্যবস্থাকেও আরও দুর্বল করে তুলবে বলে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত