প্রকাশ: ১১ আগস্ট ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা, বাংলাদেশ অনলাইন
বাংলাদেশ সরকারের সচিব পর্যায়ে থাকা একজন সরকারি কর্মকর্তার অতীতে পুলিশের হত্যাযজ্ঞ ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের সাথে সম্পর্ক থাকার অভিযোগ সামাজিক ও আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় উত্তাপ তৈরি করেছে। মন্ত্রণালয় পর্যায়ে কর্মরত এই কর্মকর্তা হলেন নাজমুল আহসান, যিনি ১১ ডিসেম্বর ২০২২ তারিখে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হন । ২০২১ সালে তিনি পেত্রোবাংলার চেয়ারম্যান হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং তার আগেও তিনি জেলা প্রশাসক (DC) হিসেবে সাতক্ষীরা ও খুলনা জেলায় দায়িত্ব পালন করেছেন ।
অপরদিকে, সোশ্যাল মিডিয়া ও কিছু উৎসে তিনি সাতক্ষীরায় DC থাকাকালীন সময়ে পুলিশের যৌথ অভিযানে ২০১৩–১৪ সালে প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দল—বিশেষ করে বিএনপি ও জামায়াতের—নেতাকর্মীদের ওপর সংঘটিত সহিংসতা ও অতিরিক্ত বল প্রয়োগের ঘটনাগুলোর “নেতা” ফরেই অভিযুক্ত বলে তথ্য ছড়িয়ে পড়েছে। একটি তৃতীয় পক্ষের অনলাইন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, “extrajudicial killings” নামে পরিচিত এসব ঘটনা পরিচালনায় নাজমুল আহসান এবং এসপি চৌধুরী মঞ্জুরুল কবির মূল ভূমিকা পালন করেছিলেন; সেই প্রতিবেদনে বলা হয়, ২৭ জন গুলিতে নিহত হয়েছেন, ৪৩ জন মারা গেছেন, শতাধিক আহত ও অনেক বাড়িঘর বুলডোজার দিয়ে ধ্বংস করা হয়েছে ।
তবে, এ সব অভিযোগ এসব পর্যন্ত যাচাই বা স্বতঃস্ফূর্ত তদন্তে ধরা পড়েনি। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোতে এই সংক্রান্ত কোনো সংবাদ, মামলা বা তদন্ত রিপোর্ট পাওয়া যায়নি। বিশেষ করে, সরকারি বা স্বীকৃত সংবাদস্রোতে অনুরূপ কোনো তথ্য পাওয়া না যাওয়ায়, বিষয়টি এখনও “অভিযোগ পর্যায়ে” রয়েছে—অর্থাৎ, স্বতঃস্ফূর্ত বা ভিত্তিহীন তথ্যের ভিত্তিতে যে কোনো ধারনা তৈরি করা উচিত নয়।
নাগরিক ও মানবাধিকার সংগঠন, বিচার-বিভাগীয় কর্মকর্তারা, তথা রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিনিধিদের কাছ থেকে ভবিষ্যতে যদি কোনো তদন্ত অথবা আদালত-ভিত্তিক প্রমাণ-সাপেক্ষ ফল প্রকাশ পায়, তবে সেক্ষেত্রে জাতীয় স্বার্থে স্বচ্ছতা ও ন্যায়ের প্রক্রিয়াকে অবশ্যই অগ্রাধিকার দিত হবে।
সংক্ষেপে, জনমনে প্রশ্ন উঠা স্বাভাবিক—একজন শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ এবং গুরুতর অভিযোগ থাকলে, তা দৃষ্টান্তমূলকভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তবে যতদিন পর্যন্ত এ অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার কোনো দৃঢ় তথ্য বা আইনি উদ্যোগ হয় না, ততদিন সেগুলোকে “অভিযোগ” হিসাবে উল্লেখ করাই প্রমাণভিত্তিক ও অবস্থান নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার লক্ষ্যমাত্রা।