প্রকাশ: ১১ আগস্ট ২০২৫ । নিজস্ব প্রতিবেদক, বাংলাদেশ ডেস্ক, একটি বাংলাদেশ অনলাইন
প্রধান গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম, যিনি দারিদ্র্য ও সামাজিক উন্নয়ন বিষয়ক নীতিনির্ধারণে চিহ্নিত মুখ, সম্প্রতি নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের সংকটময় দিক তুলে ধরেছেন। ৯ আগস্ট রাজধানীর কারওয়ান বাজারে প্রথম আলো কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত গোলটেবিল আলোচনা সভায়—“জাতীয় সংসদে নারী আসন ও নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন” শীর্ষক এই আলোচনায় তিনি বলেন, সামনের দিনগুলোতে নারীকে সারফেস লেভেলেও “দেখা যাবে না”, যার পিছনে রয়েছে শিক্ষাব্যবস্থা, সামাজিক অবিচার ও সাংগঠনিক কাঠামোর অবহেলা।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, নারী নেতানেত্রীদের উপস্থিতি এতটাই সংকীর্ণ যে, তারা প্রবল হয়ে ওঠার আগেই দৃশ্যমান রাজনীতির বাইরেই চলে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় নারী অংশগ্রহণ শুধুমাত্র আসনের সংখ্যা বাড়িয়ে সমাধান হবে না, বরং তাতে অন্তর্নিহিত সামাজিক সংস্কারে নিয়মানুগ পরিবর্তনের প্রয়োজন রয়েছে, যা অনেকাংশে অনুপস্থিত।
বিশ্লেষণে উঠে আসে যে, যদিও নারীদের জন্য জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত ৫০টি আসন রয়েছে, যা মোট আসনের মাত্র ১৪ শতাংশ, নারীর অংশগ্রহণ আরও ব্যাপক করতে অন্তর্বর্তীকালীন সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রস্তাব অনুযায়ী ১০০ আসন করার দাবি তোলা হয়েছে—যেখানে সরাসরি নির্বাচিত পদ্ধতি বা ঘূর্ণায়মান ফরম্যাট অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে । তবে দলগুলো এখনও এ প্রস্তাবে বৈশ্বিকভাবে সক্রিয় নয় এবং আংশিক সমর্থন শর্তাদির সঙ্গে সীমাবদ্ধ।
অর্থাৎ, আসনের পরিমাণ বাড়ালেও নারীর রাজনৈতিক “এসেসরিয়াল উপস্থিতি” নিয়ে যখন সমাজের প্রতিটি স্তরে—চাকরি‐প্রেরণা, সিদ্ধান্ত গ্রহণ, সাংগঠনিক ভেতরের ক্ষমতাগ্রহণ—পুরোপুরি অপরিকল্পিত, তখন সারফেস লেভেলে নারী রাজনৈতিক দৃশ্যমানতা নিশ্চিত হয়ে উঠছে না। খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেমের বিষয়বস্তুকেই এমনভাবে ফুটিয়ে তুলে তীর দিতে হয় যে, শুধু আসন না, কাঠামো বদলেই দীর্ঘমেয়াদি ক্ষমতায়ন সম্ভব।