প্রকাশ: ১১ আগস্ট ২০২৫ | একটি বাংলাদেশ ডেস্ক | একটি বাংলাদেশ অনলাইন
ফরিদপুরের সদরপুরে পদ্মা-আড়িয়াল খাঁ নদী এবং সরকারি খাল থেকে অবৈধভাবে বালু ও মাটি উত্তোলনের অভিযোগে পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে স্থানীয় প্রশাসন। গত রোববার (১০ আগস্ট) রাতে সদরপুর থানায় আকোটেরচর ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা নিত্য গোপাল চক্রবর্তী বাদী হয়ে মামলাটি করেন। আসামিরা হলেন—আকোটেরচর ইউনিয়নের কাজল বেপারী (৫০), গণেশ (৪৮), আরিফ ফকির (৩৮), হুমাই ফকির (৫২) ও কামরুল ইসলাম (৫৪)। তারা সকলেই একই ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দা।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, সদরপুর উপজেলার ৩৪ নম্বর আকোটেরচর মৌজাধীন ওসমান কাজীর ডাঙ্গী এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সরকারি খাল ও আশপাশের ফসলি জমি থেকে ড্রেজার মেশিনের মাধ্যমে অবৈধভাবে বালু ও মাটি উত্তোলন করে আসছিলেন আসামিরা। বাদীর অভিযোগ অনুযায়ী, এ এলাকা পদ্মার তীরবর্তী হওয়ায় ভাঙন প্রবণ এবং অবৈধ বালু উত্তোলনের ফলে নদী ভাঙনের হার বেড়ে গিয়ে বসতভিটা ও কৃষিজমি মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়ছে।
ভূমি সহকারী কর্মকর্তা নিত্য গোপাল চক্রবর্তী জানান, বিষয়টি তার নজরে আসার পর অফিস সহায়ক মো. জাহাঙ্গীর মিয়াকে সঙ্গে নিয়ে একাধিকবার সরেজমিনে গিয়ে বালু উত্তোলনের কাজ বন্ধ করার জন্য মৌখিকভাবে আসামিদের সতর্ক করা হয়েছিল। তবে সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে আসামিরা অবৈধ কার্যক্রম চালিয়ে যেতে থাকেন। এতে বাধ্য হয়ে ১০ আগস্ট দুপুর ৩টার দিকে থানায় এজাহার দায়ের করা হয়।
আইন অনুযায়ী, অনুমোদনপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া বালু বা মাটি উত্তোলন সম্পূর্ণ অবৈধ। এই ঘটনায় বালু মহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০-এর ১৫(১) ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ ধরনের অবৈধ কার্যক্রম শুধু পরিবেশ ও কৃষিজমির জন্যই নয়, বরং নদী ভাঙন ও জনপদের নিরাপত্তার জন্যও গুরুতর হুমকি তৈরি করে।
স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা মনে করছেন, বালু ও মাটি উত্তোলনের বিরুদ্ধে নিয়মিত নজরদারি ও কঠোর আইন প্রয়োগ ছাড়া এ ধরনের অপরাধ বন্ধ হবে না। তারা দাবি করছেন, মামলার দ্রুত বিচার এবং দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে আর কেউ এমন পরিবেশ ও জনস্বার্থবিরোধী কার্যকলাপে জড়াতে সাহস না পায়।