প্রকাশ: ১২ আগস্ট ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা, একটি বাংলাদেশ অনলাইন
গাজীপুরে আলোচিত সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিন হত্যাকাণ্ডের অন্যতম অভিযুক্ত রফিকুল ইসলাম আরমানকে রাজধানীর বিমানবন্দর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। সোমবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) উত্তর বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মো. রবিউল হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আরমানকে ইতোমধ্যেই থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, হত্যাকাণ্ডের সময় ঘটনাস্থলের কাছাকাছি থাকা সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, নীল রঙের শার্ট পরা একজন ব্যক্তি হত্যায় সরাসরি অংশ নিচ্ছে। পরবর্তীতে তদন্ত ও তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে তাকে শনাক্ত করা হয় রফিকুল ইসলাম আরমান হিসেবে। র্যাব অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে থানায় হস্তান্তরের জন্য আনুষ্ঠানিক রিকুইজিশন পাঠায়, যা ইতোমধ্যেই জিএমপি পুলিশের কাছে পৌঁছেছে।
এ নিয়ে সাংবাদিক তুহিন হত্যা মামলায় এখন পর্যন্ত মোট নয়জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে তিনজনকে র্যাব এবং বাকি ছয়জনকে গাজীপুরের বাসন থানা ও মেট্রোপলিটন গোয়েন্দা পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, এ মামলার তদন্ত জোরদার করা হয়েছে এবং প্রত্যেক অভিযুক্তকে আইনের আওতায় আনা হবে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, তুহিন হত্যাকাণ্ড ছিল একটি পরিকল্পিত অপরাধ, যেখানে একাধিক ব্যক্তি প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত ছিল। হত্যার উদ্দেশ্য এবং পেছনের কারণ উদঘাটনে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। তদন্ত কর্মকর্তারা বলছেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, সাংবাদিক তুহিনকে একটি অপরাধ চক্রের কর্মকাণ্ড প্রকাশ্যে আনার কারণে হত্যার টার্গেটে নেওয়া হয়েছিল।
সাংবাদিক তুহিন হত্যাকাণ্ডের পর থেকে গাজীপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সাংবাদিক সমাজের মধ্যে গভীর ক্ষোভ ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। মানববন্ধন, বিক্ষোভ এবং বিচার দাবিতে কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের সাংবাদিক সংগঠনগুলো দ্রুততম সময়ে এই মামলার তদন্ত শেষ করে দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে।
পুলিশ ও র্যাবের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে যথেষ্ট প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে। তবে মামলার চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিলের আগে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে, যাতে কোনো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বাদ না যায়।
আইন প্রয়োগকারী সংস্থার একাধিক সূত্র ইঙ্গিত দিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের পেছনে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী জড়িত থাকতে পারে, যাদের স্বার্থের বিরুদ্ধে কাজ করছিলেন সাংবাদিক তুহিন। এই গোষ্ঠীর সঙ্গে কারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত, তা উদঘাটনের জন্য আরও কিছু গ্রেপ্তার শিগগিরই হতে পারে।
এদিকে, গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ এবং র্যাব উভয় সংস্থা জানিয়েছে, মামলার তদন্ত ও গ্রেপ্তারে গতি আনতে তারা সমন্বিতভাবে কাজ করছে এবং এই হত্যাকাণ্ডের পেছনের সব স্তরের অপরাধীদের বিচারের মুখোমুখি করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।