দেশের দুই বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকের বিরুদ্ধে হত্যার হুমকি: সাইবার তদন্তে আইনের আওতায় আনার দাবি

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১২ আগস্ট, ২০২৫
  • ১৮৯ বার

প্রকাশ: ১২ আগস্ট ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

দেশের শিক্ষাক্ষেত্রে সন্মানিত দুই শিক্ষক—ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের (আইইউবি) সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সরোয়ার হোসেন এবং মানারাত বিশ্ববিদ্যালয়ের লেকচারার আসিফ মাহতাব উৎস—গতকাল মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হত্যার হুমকির শিকার হয়েছেন। ‘অ্যান্টার্কটিকা চৌধুরী’ নামক একটি ফেসবুক আইডি থেকে প্রকাশিত হুমকিপূর্ণ পোস্টে তাদের মুখাবয়বের কার্টুন অঙ্কনের মাধ্যমে নৃশংস বার্তা দেওয়া হয়েছে, যা সমাজে ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

ফেসবুক পোস্টে ড. মোহাম্মদ সরোয়ারের কার্টুনের পাশে ইংরেজিতে লেখা হয়েছে ‘কিল পাবলিক ফিগারস হু আর গেস্ট ইউর লিগ্যাল রাইটস’ অর্থাৎ ‘তোমাদের আইনি অধিকার রক্ষাকারী অতিথি জনমানুষকে হত্যা কর’। পোস্টে একটি চাপাতির ছবিও যুক্ত ছিল। অন্যদিকে, আসিফ মাহতাব উৎসের কার্টুনের সঙ্গে লেখা ছিল, ‘প্লে ফুটবল উইথ দ্য সার্ভড হেড অব পাবলিক ফিগারস। হু আর এগেইস্ট ইউর লিগ্যাল রাইটস’। সেখানে দুই ব্যক্তিকে লাথি মারার মতো ছবি ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

ড. মোহাম্মদ সরোয়ার হোসেন দীর্ঘদিন যাবৎ দেশের অবহেলিত জনস্বাস্থ্য খাত বিশেষ করে থ্যালাসেমিয়া, ডেঙ্গু এবং শিশুদের স্থূলতা বিষয়ক গবেষণায় সক্রিয় রয়েছেন। তিনি আইইউবির স্কুল অব এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড লাইফ সায়েন্সের সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত আছেন এবং অস্ট্রেলিয়ার ওলংগং বিশ্ববিদ্যালয়ে অনারারি সহকারী অধ্যাপক ছিলেন। তার আগে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা ও ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালের বায়োটেক ডিভিশনে সিনিয়র ম্যানেজার হিসেবেও কাজ করেছেন।

অন্যদিকে আসিফ মাহতাব একজন প্রকাশক বক্তা ও শিক্ষাবিদ, যিনি ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে সমসাময়িক ইস্যুতে মতামত প্রদান করে থাকেন। বিশেষত, ফিলিস্তিন-ইসরাইল সংঘর্ষে ফিলিস্তিনের পক্ষে অবস্থান গ্রহণ করে আলোচনায় এসেছেন। কর্মজীবনে তিনি ব্রিটিশ আমেরিকান রিসোর্স সেন্টার, মাস্টারমাইন্ড স্কুল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন এবং বর্তমানে মানারাত বিশ্ববিদ্যালয়ে লেকচারার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

২০১৯ সালে শিক্ষাক্রমে অন্তর্ভুক্ত সপ্তম শ্রেণির পাঠ্যবই থেকে ট্রান্সজেন্ডার বিষয়ক গল্প নিয়ে সমালোচনায় আসার পর তিনি ‘বর্তমান কারিকুলামে নতুন পাঠ্যপুস্তক: বাস্তবতা ও ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক এক সেমিনারে ওই গল্পের পাতা ছিঁড়ে ফেলার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে ব্যাপক বিতর্কের মুখে পড়েন। এই ঘটনার পর ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় তাকে পাঠদান থেকে সাময়িক বিরত রাখে, যা নিয়ে একাংশ শিক্ষার্থী প্রতিবাদ জানান।

হুমকিপ্রাপ্ত এই দুই শিক্ষকের মধ্যে ড. সরোয়ার হোসেন বলেন, ‘এই হুমকি শুধু আমাদের ব্যক্তিগত জন্য নয়, বরং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর আঘাত। যারা এসব হুমকি দিচ্ছে, তাদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানাই।’

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিষয়টি সাইবার অপরাধ ইউনিটের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং হুমকিপ্রদানকারী ব্যক্তির পরিচয় নিরূপণে তদন্ত চলছে। দ্রুত সুষ্ঠু বিচারের মাধ্যমে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার আশা প্রকাশ করেছেন তারা।

শিক্ষাবিদ ও বিশ্লেষকরা এই ধরনের হুমকিকে মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় এক গভীর হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং সকলের কাছে একটি নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন যাতে শিক্ষকরা ভয়ে না থেকে মুক্তভাবে কাজ করতে পারেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত