প্রকাশ: ১২ আগস্ট’ ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা, একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে নিন্দা ও প্রতিবাদ পত্র প্রেরণের মাধ্যমে খুনি হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ এবং ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করতে যাচ্ছে। আগামীকাল বুধবার ঢাকায় অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাসে দলটির পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধি দল নিন্দা পত্র প্রদান করবে।
মঙ্গলবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে জাগপার সহ-সভাপতি ও মুখপাত্র রাশেদ প্রধান জানান, গত ৬ আগস্ট ভারতীয় দূতাবাস ঘেরাও করার কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল দলটি। তবে গুলশান বাড্ডা লিংক রোডের সামনে পুলিশের বাঁধার কারণে পথসভা অনুষ্ঠিত হওয়ায় কর্মসূচি স্থগিত করতে হয়েছে। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রশংসা জানিয়ে সেদিন দূতাবাসের সামনে উপস্থিত না হওয়া সত্ত্বেও ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়ে দিতে চান যে বাংলাদেশের জনগণ ভারতের আধিপত্যবাদ ও আগ্রাসনকে অন্তর থেকে ঘৃণা করে।
রাশেদ প্রধান আরও বলেন, খুনি হাসিনা ও তার সহযোগীদের আশ্রয় দেওয়ার অধিকার ভারতের নেই। তিনি ভারতের প্রতি সতর্কবার্তা দেন, “ভারত আমাদের প্রতিবেশি, প্রভু নয়।” তিনি আওয়ামী লীগের ষড়যন্ত্র ও গণহত্যাকারীদের সাথে ভারতের মিত্রতা তীব্রভাবে নিন্দা করেন। এ কারণেই জাগপা আগামীকাল প্রতিনিধিদলের মাধ্যমে সরাসরি প্রতিবাদ পত্র প্রেরণ করবে।
জাগপা সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ইকবাল হোসেনের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধি দল ভারতের দূতাবাসে যাবেন। দলের অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে আছেন প্রেসিডিয়াম সদস্য আসাদুর রহমান খান, সৈয়দ শফিকুল ইসলাম, ঢাকা মহানগর জাগপা আহ্বায়ক শ্যামল চন্দ্র সরকার এবং যুব জাগপা সভাপতি নজরুল ইসলাম বাবলু। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে জাগপা দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ভারতের বর্তমান নীতির বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিবাদ জানাতে চায়।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলে এই প্রতিবাদ কর্মসূচি ইতিমধ্যেই ব্যাপক আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির এই সিদ্ধান্ত দেশের স্বাধিকার ও প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিচ্ছে। দেশের নানা অংশে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এই ঘটনার প্রভাব এবং ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক সম্পর্কের দিক নিয়ে নানা মত প্রকাশ করছেন। তবে জাগপার বক্তব্য স্পষ্ট যে, তারা দেশের সার্বভৌমত্ব ও জনগণের স্বার্থ রক্ষায় যে কোনও পরিস্থিতিতে দৃঢ় অবস্থান নেবে।