চাকসুর তফসিল ঘোষণার দাবিতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে তালাবন্দি বিক্ষোভ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১২ আগস্ট, ২০২৫
  • ১০২ বার

প্রকাশ: ১২ আগস্ট ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা, একটি বাংলাদেশ ডেস্ক

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার দাবিতে ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতা-কর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা দিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন। আজ মঙ্গলবার বেলা সোয়া ২টার দিকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচি প্রায় এক ঘণ্টা পর বেলা তিনটার দিকে শেষ হয়। বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীরা ‘প্রহসন বন্ধ করো, চাকসুর তফসিল ঘোষণা করো’, ‘মিটিং-মিটিং খেলার অবসান চাই, চাকসুর তফসিল চাই’সহ বিভিন্ন স্লোগান লেখা প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে অবস্থান নেন।

ছাত্র অধিকার পরিষদের শাখার সদস্যসচিব রোমান রহমান জানান, দেশের অন্যান্য স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ইতোমধ্যেই ছাত্র সংসদ নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে, কিন্তু চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এখনো চাকসু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেনি। এ কারণেই তারা এই প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছেন। তিনি বলেন, “প্রশাসনের এমন দেরি শিক্ষার্থীদের মধ্যে হতাশা বাড়াচ্ছে।”

ছাত্র অধিকার পরিষদের শাখার আহ্বায়ক তামজীদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, “আমরা এর আগেও সংবাদ সম্মেলন করে তফসিল ঘোষণার জন্য প্রশাসনকে সময় বেঁধে দিয়েছিলাম। কিন্তু নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেও কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় আমরা ৩০ মিনিটের জন্য প্রধান ফটকের অবরোধ করেছি। যদি দ্রুত তফসিল ঘোষণা না করা হয়, আমরা আরও কঠোর আন্দোলনের পথে যাব।” তিনি প্রশাসনের প্রতি তফসিল ঘোষণার জন্য জোরালো আহ্বান জানান।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে চাকসু নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে গণ্য। বিশ্ববিদ্যালয়টি ১৯৬৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও প্রথম চাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৭০ সালে। নিয়ম অনুযায়ী প্রতি শিক্ষাবর্ষে নির্বাচন হওয়া উচিত হলেও নানা কারণে এ পর্যন্ত মাত্র ছয়বার নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। সর্বশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৯০ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি। পরবর্তীতে ছাত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে বিরোধ ও পরিবেশ অনুকূলে না থাকায় কোনো নির্বাচন আয়োজন সম্ভব হয়নি।

তবে গত বছর জাতীয় রাজনীতিতে পরিবর্তনের পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা আবারো চাকসু নির্বাচন পুনরায় দাবি করছে। তারা নির্বাচনের মাধ্যমে শাসন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে চায়। শিক্ষার্থীদের এ দাবির প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাড়া দেওয়ার প্রতি অনুরোধ জোরালো হচ্ছে।

এদিকে, বর্তমানে শিক্ষার্থীদের মধ্যে চাকসু নির্বাচন প্রসঙ্গে উত্তেজনা ও প্রত্যাশা উভয়ই রয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, নির্বাচন পুনরায় অনুষ্ঠিত হলে ছাত্র সমাজে ঐক্য ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হবে। শিক্ষাব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনতেও এটি এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হবে।

সুতরাং, চাকসু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণায় প্রশাসনের তৎপরতা ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সমন্বয় দেশের শিক্ষাব্যবস্থার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের এই গণতান্ত্রিক দাবি পূরণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ প্রত্যাশিত।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত