প্রকাশ: ১২ আগস্ট’ ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
‘প্রযুক্তি নির্ভর যুবশক্তি বহুপাক্ষিক অংশীদারিত্বে অগ্রগতি’ প্রতিপাদ্যকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চল জুড়ে গত মঙ্গলবার ব্যাপক আকারে পালিত হয়েছে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক যুব দিবস। এদিন দেশের যুবসমাজের জন্য বিশেষ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়, যার মধ্যে ছিল র্যালি, আলোচনা সভা, যুব ঋণ বিতরণ, প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের মাঝে সনদপত্র বিতরণ এবং দেশের উন্নয়ন শপথ গ্রহণ।
রাজশাহীর দুর্গাপুরে উপজেলা প্রশাসন ও যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এক কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাবরিনা শারমিন। সকাল থেকে শুরু হওয়া অনুষ্ঠানে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয় এবং পরে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় এলাকার সফল যুব উদ্যোক্তাদের ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। উপজেলার বিভিন্ন যুব সংগঠনকে নিবন্ধন সনদপত্র ও প্রশিক্ষণ ব্যাচ উদ্বোধন করা হয়। আলোচনা সভায় বক্তারা উল্লেখ করেন, দেশের যুবসমাজই দেশের প্রাণশক্তি এবং মাদক ও জঙ্গিবাদ থেকে যুবসমাজকে রক্ষা করাই একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে যুব দিবস উদযাপনে উপজেলা প্রশাসন ও যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর যৌথভাবে আয়োজন করে বিভিন্ন কর্মসূচি। উপজেলা পরিষদ থেকে একটি র্যালি বের হয়ে পৌরশহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। র্যালির পর অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী নাহিদ ইভা। সেখানে সহকারী কমিশনার (ভূমি), পুলিশ অফিসার, কৃষি ও প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তাসহ নানা সরকারি কর্মকর্তা বক্তব্য দেন। এদিন ৩১ জন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত যুবক-যুবতীকে ৩১ লাখ ৪০ হাজার টাকা ঋণ প্রদান করা হয়, যা তাদের উদ্যোক্তা হিসেবে আত্মনির্ভরশীল হওয়ার পথে সহায়ক হবে।
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে সকাল ১১টায় উপজেলা পরিষদে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সাজ্জাত হোসেন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। আলোচনাসভায় অংশগ্রহণকারীরা যুব উন্নয়ন, মহিলাদের ক্ষমতায়ন ও সামাজিক সেবার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। আড়াইহাজারের অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তারা বক্তব্য দেন এবং প্রশিক্ষণার্থীদের মাঝে সনদপত্র ও ঋণের চেক বিতরণ করা হয়।
ফেনীর পরশুরামে জেলা প্রশাসন, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর ও ইয়ুথ পিস অ্যাম্বাসেডর গ্রুপের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য যুব র্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। পরশুরাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহরিয়া ইসলাম বলেন, হস্তশিল্প ও কুটির শিল্পে যুব উদ্যোক্তাদের সহযোগিতা করে অর্থনীতির উন্নয়ন সম্ভব। অনুষ্ঠানে পুলিশ, প্রাণীসম্পদ ও কৃষি কর্মকর্তারা সহ বিভিন্ন সমাজকর্মী বক্তব্য দেন এবং যুব ঋণের চেক ও ফলদ গাছের চারা বিতরণ করা হয়।
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলা প্রশাসন ও যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উদ্যোগে যুব দিবস পালিত হয় র্যালি, আলোচনা সভা ও প্রশিক্ষণ সনদ ও ক্রেস্ট বিতরণসহ। স্থানীয় কর্মকর্তা, সাংবাদিক ও যুব সংগঠকরা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন এবং যুবকদের মধ্যে গাছ বিতরণ করে পরিবেশ সচেতনতার প্রতীকী উদ্যোগ নেয়া হয়।
পিরোজপুরের ইন্দুরকানীতে উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয়। পরে আলোচনা সভায় অংশগ্রহণকারীরা প্রযুক্তি নির্ভর যুবশক্তির গড়ে তোলায় গুরুত্বারোপ করেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার হাসান বিন মোহাম্মদ আলী প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, যুবকদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার মাধ্যমে দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে হবে।
জামালপুরের বকশীগঞ্জে যুব দিবস উপলক্ষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা বলেন, যুব সমাজ দেশের ভবিষ্যত এবং তাদের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে দেশের অর্থনীতি ও সামাজিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে। সভায় দুই প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত যুবক-যুবতীকে তিন লাখ টাকার ঋণ প্রদান করা হয়।
নওগাঁর বদলগাছী ও পত্নীতলাতেও যুব দিবস পালিত হয় আলোচনা সভা, সনদপত্র বিতরণ ও ঋণ প্রদান অনুষ্ঠানের মাধ্যমে। উপজেলার ইউএনওরা যুব সমাজের উন্নয়নে করণীয় বিষয়ে বক্তব্য রাখেন এবং বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা ও সমাজসেবীরা অংশগ্রহণ করেন।
যশোরের মনিরামপুরে জেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতিতে যুব দিবস উদযাপন হয় র্যালি, আলোচনা সভা, সনদপত্র ও ঋণ বিতরণের মাধ্যমে। ভাঙ্গা (ফরিদপুর) ও কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামেও যথাযথ আয়োজনে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক যুব দিবস পালিত হয়। উক্ত কর্মসূচিতে সরকারি কর্মকর্তাদের পাশাপাশি যুব সংগঠক, সমাজকর্মী ও উদ্যোক্তারা উপস্থিত থেকে নিজেদের অভিজ্ঞতা ও উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
সার্বিকভাবে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক যুব দিবসের এই আয়োজনগুলো যুবদের সৃজনশীলতা, প্রযুক্তি দক্ষতা ও উদ্যোক্তা হওয়ার প্রতি উৎসাহিত করেছে। বক্তারা বলেন, দেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধিতে যুব সমাজের ভূমিকা অপরিসীম। এদের মনোবল, দক্ষতা ও নেতৃত্বের মাধ্যমে বহুপাক্ষিক অংশীদারিত্ব ও প্রযুক্তি নির্ভর সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব হবে। যুব সমাজকে মাদক ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সজাগ রাখার পাশাপাশি তাদের শিক্ষাগত ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য যুগোপযোগী উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেওয়া হয়।
দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে শুরু করে মহানগর পর্যন্ত যুব দিবস উপলক্ষে আয়োজন করা নানা কর্মসূচির মাধ্যমে একটি নতুন প্রজন্মের আবির্ভাব ঘটেছে, যারা প্রযুক্তি ও সমন্বয়ের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের সমৃদ্ধির পথে অগ্রসর হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।