টিউলিপ সিদ্দিকের বাংলাদেশি নাগরিকত্ব নিয়ে বিতর্ক, দুদকের দাবি ও আইনি লড়াই তীব্রতর

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৫
  • ১০৩ বার
টিউলিপ সিদ্দিকের বাংলাদেশি নাগরিকত্ব নিয়ে বিতর্ক, দুদকের দাবি ও আইনি লড়াই তীব্রতর

প্রকাশ: ১৩ আগস্ট । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ রাজনীতিক টিউলিপ সিদ্দিকের নাগরিকত্ব নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) এক আইনজীবীর দাবি, টিউলিপ প্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় বাংলাদেশের জাতীয় পরিচয়পত্র ও পাসপোর্ট গ্রহণ করেছেন এবং ভোটার তালিকায় নাম নিবন্ধন করেছেন। কিন্তু টিউলিপ বরাবরই এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন এবং স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, তার বাংলাদেশের নাগরিকত্ব নেই।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমস-কে দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর মোহাম্মদ সুলতান মাহমুদ জানান, তারা টিউলিপের ঠিকানা, একাধিক পাসপোর্ট ও ভোটার তালিকায় নামের প্রমাণ পেয়েছেন, যা প্রয়োজনীয় সময়ে আদালতে উপস্থাপন করা হবে। তিনি আরও বলেন, দুদক দলিলপত্রে উল্লেখিত ঠিকানায় একাধিকবার গিয়ে সমন প্রদান করেছে এবং সব প্রক্রিয়াই আইন মেনে সম্পন্ন হয়েছে।

এদিকে ফিন্যান্সিয়াল টাইমস বাংলাদেশে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানতে পেরেছে, টিউলিপের নামে নথির অনুলিপি তাদের কাছে রয়েছে। তবে টিউলিপের আইনি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান স্টিফেনসন হারউড এই নথিগুলোকে জাল বলে দাবি করেছে। প্রতিষ্ঠানটির একজন মুখপাত্র জানান, টিউলিপ কখনো বাংলাদেশের জাতীয় পরিচয়পত্র বা ভোটার আইডি পাননি এবং শিশুকাল থেকে তিনি বাংলাদেশের পাসপোর্টও নেননি।

টিউলিপ নিজেও একাধিকবার এই অবস্থান ব্যক্ত করেছেন। ২০১৭ সালে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আপনি কি আমাকে বাংলাদেশি বলছেন? আমি ব্রিটিশ… আমি বাংলাদেশি নই।” সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি লিখেছেন, “বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোনো যোগাযোগ পাইনি, কোনো প্রমাণও দেখানো হয়নি। আমার আইনজীবীরাও বারবার জানালেও কোনো সাড়া মেলেনি। এটি আইনি প্রক্রিয়া নয়, বরং রাজনৈতিক হয়রানি।”

বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন নিশ্চিত করেছে যে, টিউলিপের নামে একটি জাতীয় পরিচয়পত্র রয়েছে। তবে কমিশনের মতে, শুধুমাত্র জাতীয় পরিচয়পত্র থাকা মানেই নাগরিকত্ব প্রমাণ হয় না। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, নাগরিকত্বের প্রশ্নটি সরাসরি এই মামলার বিচার প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলবে না, তবে আদালতের কার্যক্রম শুরু হওয়ার আগে এই বিতর্ক টিউলিপের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

টিউলিপ সিদ্দিক চলতি বছরের জানুয়ারিতে যুক্তরাজ্যের অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীন সিটি মিনিস্টারের (ইকোনমিক সেক্রেটারি) পদ থেকে পদত্যাগ করেন। আর্থিক খাতে দুর্নীতি দমন দায়িত্বে থাকাকালীন তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে যে, তিনি আওয়ামী লীগ–সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছ থেকে সুবিধা নিয়েছেন। রাজনৈতিক চাপের মুখে তিনি পদ ছাড়েন।

বর্তমানে টিউলিপ ঢাকার পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে বেআইনিভাবে সরকারি প্লট বরাদ্দ নেওয়ার মামলায় অভিযুক্ত। দুদকের মামলায় টিউলিপ ছাড়াও তার মা, খালা শেখ হাসিনা এবং দুই ভাইবোনের নাম রয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, তারা রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে নিয়ম বহির্ভূতভাবে প্লট বরাদ্দ নেন। টিউলিপ এসব অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছেন এবং দাবি করেছেন, নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ দমনে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তুলেছে।

প্রসঙ্গত, শেখ হাসিনার দীর্ঘ ১৫ বছরের শাসনামলে কর্তৃত্ববাদ, নির্বাচনী অনিয়ম এবং স্বজনপ্রীতির অভিযোগ ছিল প্রবল। ছাত্রদের নেতৃত্বে সারা দেশে তীব্র বিক্ষোভের মুখে গত বছরের আগস্টে তার সরকার পতন হয় এবং তিনি ভারতে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন। সেই থেকেই হাসিনা পরিবারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের তদন্ত ত্বরান্বিত হয়, যার অংশ হিসেবে টিউলিপ সিদ্দিকের বিরুদ্ধেও মামলা দায়ের করা হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত