দুই গোলে পিছিয়ে অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন, সুপার কাপ জিতল পিএসজি

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৫
  • ৫০ বার
দুই গোলে পিছিয়ে অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন, সুপার কাপ জিতল পিএসজি

প্রকাশ: ১৪ অগাস্ট’ ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

ফুটবলের অনিশ্চয়তার সৌন্দর্য আবারও প্রমাণ করল প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি)। বুধবার রাতে ইতালির উদিনের স্তাদিও ফ্রিউলিতে সুপার কাপ ফাইনালে টটেনহ্যামের বিপক্ষে দুই গোলে পিছিয়ে থেকেও শিরোপা জিতে নিল ফরাসি জায়ান্টরা। ২-২ সমতায় নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পর টাইব্রেকারে ৪-৩ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় লুইস এনরিকের শিষ্যরা। এই জয়ের মধ্য দিয়ে পিএসজি শুধু তাদের প্রথম সুপার কাপই জিতল না, বরং ফরাসি ফুটবলের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো ক্লাব এই শিরোপা ঘরে তুলল।

ম্যাচের শুরু থেকেই টটেনহ্যাম ছিল আগ্রাসী। নতুন কোচ থমাস ফ্রাঙ্কের অধীনে প্রথম প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে নেমে ইংলিশ ক্লাবটি পিএসজিকে চাপে রেখেছিল প্রায় পুরো প্রথমার্ধজুড়ে। ৩৯ মিনিটে মিকি ভ্যান ডে ভেনের গোল তাদের এগিয়ে দেয়। বিরতির মাত্র তিন মিনিট পর ক্রিস্টিয়ান রোমেরো হেডে ব্যবধান দ্বিগুণ করলে মনে হচ্ছিল শিরোপা হয়তো লন্ডনেই যাচ্ছে। এ সময় টটেনহ্যাম আরও কয়েকটি স্পষ্ট সুযোগ পেয়েও তা কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়।

সেই ব্যর্থতাই শেষ পর্যন্ত ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। পিএসজির বদলি খেলোয়াড়রা খেলায় নতুন প্রাণ সঞ্চার করেন। ৮৫ মিনিটে দক্ষিণ কোরিয়ান মিডফিল্ডার লি কাং-ইন এক গোল শোধ করেন। ম্যাচ যখন অতিরিক্ত যোগ করা সময়ের শেষ প্রান্তে, ঠিক তখনই গনসালো রামোসের হেডে সমতা ফেরায় প্যারিসিয়ানরা। নির্ধারিত সময় শেষে সরাসরি টাইব্রেকারে গড়ায় লড়াই।

টাইব্রেকারের শুরুটা পিএসজির জন্য ভালো হয়নি; প্রথম শটেই ভিতিনিয়া লক্ষ্যভ্রষ্ট হন। তবে নতুন গোলরক্ষক লুকাস শেভালিয়ে দ্রুত দলের মনোবল ফিরিয়ে আনেন ভ্যান ডে ভেনের শট দারুণভাবে রুখে দিয়ে। স্পার্সের ম্যাথিস টেল শট লক্ষ্যভ্রষ্ট করলে নুনো মেন্ডেস শেষ শটে গোল করে জয় নিশ্চিত করেন। পিএসজির পক্ষে রামোস, উসমান ডেম্বেলে ও লি কাং-ইনও পেনাল্টি থেকে সফল হন। টটেনহ্যামের হয়ে ডমিনিক সোলাঙ্কে, রদ্রিগো বেন্টানকুর ও পেদ্রো পোর্নো গোল করলেও শেষ পর্যন্ত তা জয়ের জন্য যথেষ্ট হয়নি।

শিরোপা জয়ের আনন্দে ভাসলেও পিএসজির প্রস্তুতি ছিল একেবারেই সীমিত। গত মাসে ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপের ফাইনালে চেলসির কাছে হারের পর খেলোয়াড়রা পেয়েছিলেন খুবই সংক্ষিপ্ত ছুটি। মাত্র এক সপ্তাহ আগে তারা অনুশীলন শুরু করে, তাও কোনো প্রস্তুতি ম্যাচ ছাড়াই সুপার কাপে নেমেছিল দলটি। তবুও মানসিক দৃঢ়তা ও শেষ মুহূর্তের লড়াকু মনোভাব তাদের এনে দিল ২০২৫ সালের পঞ্চম শিরোপা।

স্পার্সের হয়ে নতুন সাইনিং মোহাম্মদ কুদুস ও জোয়াও পালিনহা শুরু থেকেই মাঠে ছিলেন। পিএসজির নতুন গোলরক্ষক শেভালিয়ে লিলে থেকে যোগ দিয়েই খেলেছেন প্রথম ম্যাচ। ম্যাচজুড়ে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ করলেও প্রথমার্ধে ভ্যান ডে ভেন ও দ্বিতীয়ার্ধে রোমেরোর হেড ঠেকাতে পারেননি। তবে টাইব্রেকারে তার অসাধারণ দক্ষতাই শেষ পর্যন্ত গড়ে দিয়েছে ইতিহাসের এই জয়।

এই সাফল্যে পিএসজি শুধু ইউরোপীয় মঞ্চে নিজেদের শক্ত অবস্থান আরও দৃঢ় করল না, বরং প্রমাণ করল—ফুটবল শেষ বাঁশি বাজা পর্যন্ত শেষ হয়ে যায় না।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত