প্রকাশ: ১৪ আগস্ট ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা । একটি বাংলাদেশ অনলাইন
চট্টগ্রামের সড়ক ও পেট্রোল এলাকাগুলোতে সম্প্রতি পুলিশ সদস্যরা একের পর এক সন্ত্রাসীদের হামলার শিকার হচ্ছেন, যার ফলে গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনা বেড়ে চলেছে। এই পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার হাসিব আজিজ মঙ্গলবার রাতে তার অধীনস্থ পুলিশ সদস্যদের ওয়্যারলেস নেটওয়ার্কে জরুরি বার্তায় নির্দেশ দিয়েছেন যে, কোনো ব্যক্তি পুলিশের সামনে অস্ত্র বের করলে তাৎক্ষণিকভাবে আত্মরক্ষার্থে গুলি চালানো যাবে। কমিশনারের দেওয়া এই নির্দেশনায় বলা হয়েছে, আগ্নেয়াস্ত্র বা ধারালো অস্ত্র কোনোভাবেই হোক না কেন, পুলিশের উপর আক্রমণ হলে প্রাণ রক্ষার জন্য লক্ষ্যবস্তুকে নিকটতম উপযুক্ত স্থানে গুলি করতে হবে, যা হতে পারে মাথা, বুকে বা পিঠে।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার মাহমুদা বেগম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “এটি আমাদের ইন্টারনাল নির্দেশনা। এই বিষয়ে আর কিছু বলতে চাই না।” কমিশনারের নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে, দণ্ডবিধির ৯৬ থেকে ১০৬ ধারার আওতায় পুলিশ সদস্যদের আত্মরক্ষার পূর্ণ অধিকার আছে। তিনি আরও বলেন, “আক্রমণের আগেই, অস্ত্র বের করার মুহূর্তেই গুলি করতে হবে। বন্দরে আমার একজন এসআই গুরুতর আহত হয়েছেন। আরেক ইঞ্চি এদিক-সেদিক হলে প্রাণঘাতী হতো।”
এসআই আবু সাঈদ রানা সোমবার রাতে নগরের বন্দর থানাধীন ঈশান মিস্ত্রি হাট এলাকায় আওয়ামী লীগের একটি মিছিলে উপস্থিত হয়ে সন্ত্রাসীদের হামলার শিকার হন। ধারালো অস্ত্রের কোপে তার মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়েছে এবং তিনি বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এসআই রানার একজন সহযোগী জানান, “হঠাৎ করে চার-পাঁচজন আমার সহকর্মীর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। একজন হাতে দা নিয়ে পেছন দিক থেকে কোপ দেয়। হেলমেট থাকলেও কোপ এত জোরে লাগে যে মাথা ফেটে যায়। তখনই মনে হলো, যদি আমরা আগেই অস্ত্র ব্যবহার করতাম, হয়তো এই অবস্থার মধ্যে না পড়তাম।”
কমিশনারের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগে যে প্রাধিকার অনুযায়ী থানাগুলোতে অস্ত্র ও তাজা বুলেট দেওয়া হতো, তা পুনর্বহাল করা হয়েছে। এখন থেকে থানার মোবাইল পার্টি, পেট্রোল পার্টি, ডিবি টিম ও চেকপোস্টে দায়িত্বে থাকা সব পুলিশ সদস্যকে আগ্নেয়াস্ত্র বহন করতে হবে। এক উপপরিদর্শক জানিয়েছেন, “আগে আমরা অনেক সময় অস্ত্র হাতে থাকলেও ব্যবহার করতাম না, কারণ গুলিতে মৃত্যু হলে আইনি জটিলতা থাকতো। কিন্তু কমিশনারের নির্দেশনার পর এখন আত্মরক্ষায় সিদ্ধান্ত নেওয়াতে দ্বিধা থাকবে না।”
সিএমপির অভ্যন্তরীণ তথ্য অনুযায়ী, ৫ আগস্টের পর থেকে অন্তত অর্ধশতাধিক পুলিশ সদস্য নগরের বিভিন্ন এলাকায় সশস্ত্র হামলার শিকার হয়েছেন। বিশেষ করে বন্দর, চকবাজার, কোতোয়ালী ও খুলশী এলাকায় একাধিক হামলার ঘটনা ঘটেছে। পেট্রোল ডিউটিতে থাকা এক সার্জেন্ট বলেন, “এখন পরিস্থিতি এমন যে, টহল দিতে বের হলে মনে হয় যেকোনো মুহূর্তে আক্রমণ হতে পারে। আমরা চাই এই নির্দেশ দ্রুত কার্যকর হোক।”
পুলিশের ধারণা, মাঠপর্যায়ে এই গুলি ব্যবহারের নির্দেশ বাস্তবায়ন হলে সন্ত্রাসীরা পুলিশের সামনে অস্ত্র বের করতে ভয় পাবে এবং হামলার প্রবণতা স্বাভাবিকভাবেই কমে আসবে। সিএমপির এক সহকারী কমিশনার জানান, “যখন অপরাধীরা জানবে পুলিশ সামনে অস্ত্র বের করলেই গুলি চালাবে, তখন তারা অত্যধিক আক্রমণাত্মক হবার আগে ভাববে, যা সড়কে নিরাপত্তা বাড়াবে।”