প্রকাশ:১৮ আগস্ট ২০২৫ | নিজস্ব প্রতিবেদক | একটি বাংলাদেশ অনলাইন
ডিজিটাল যুগে পড়াশোনার ধরণ ইতিমধ্যেই ব্যাপকভাবে পরিবর্তিত হয়েছে। যেখানে আগে শিক্ষার্থীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা বই, নোট ও রেফারেন্স বই ঘেঁটে তথ্য সংগ্রহ করতে হতো, আজ সেই কাজের অনেকাংশই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে সম্পন্ন করতে সক্ষম। এআই কেবল তথ্য সংগ্রহের কাজেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি নোট তৈরি করা, দীর্ঘ অধ্যায় বা গবেষণাপত্রের সারাংশ তৈরি, অনুবাদ, প্রশ্নের উত্তর এবং পরীক্ষার প্রস্তুতিতেও শিক্ষার্থীদের সহায়তা করছে।
সঠিকভাবে ব্যবহার করলে এ প্রযুক্তি শিক্ষার্থীর সময় ও পরিশ্রম দুই-ই বাঁচায় এবং শেখার প্রক্রিয়াকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে। বিশেষ করে নোট নেওয়া একটি অপরিহার্য কাজ হলেও, লেকচার শোনার পাশাপাশি হাতে লিখে বা টাইপ করে নোট নেওয়া অনেক সময় ও শ্রমসাধ্য হয়ে ওঠে। এ ক্ষেত্রে Notion AI, Evernote, OneNote বা Obsidian-এর মতো এআই-সমর্থিত নোট অ্যাপ শিক্ষার্থীদের কার্যকরভাবে সহায়তা করতে পারে। এই অ্যাপগুলোতে লেকচারের অডিও রেকর্ড বা পাঠ্যবইয়ের বিষয়বস্তু দেওয়া হলে, এআই মূল পয়েন্টগুলো সাজিয়ে সুন্দরভাবে নোট তৈরি করে দেয়। Otter.ai বা Sonix-এর মতো কিছু অ্যাপ সরাসরি অডিওকে টেক্সটে রূপান্তর করে, ফলে শিক্ষার্থী শিক্ষক যা বলছেন তার পুরো নোট সঙ্গে সঙ্গে পেতে পারেন।
দীর্ঘ গবেষণাপত্র বা প্রবন্ধ পড়তে অনেক সময় লাগে, কিন্তু ChatGPT, Quillbot, SMMRY কিংবা Scholarcy-এর মতো এআই টুল কয়েক সেকেন্ডেই মূল বিষয়গুলো তুলে ধরে সংক্ষিপ্ত সারাংশ তৈরি করতে সক্ষম। উদাহরণস্বরূপ, ৩০ পৃষ্ঠার একটি প্রবন্ধ পড়ার সময় যদি পুরোটা সময়মতো শেষ করা সম্ভব না হয়, Scholarcy তা গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ভাগ করে গ্রাফ বা চার্ট আকারেও উপস্থাপন করতে পারে। এর ফলে পরীক্ষার আগে দ্রুত রিভিশন নেওয়া অনেক সহজ হয়ে ওঠে।
বিদেশি রিসোর্স বা প্রবন্ধ বোঝা শিক্ষার্থীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে। Google Translate, DeepL, Microsoft Translator বা Reverso-এর মতো এআই-চালিত অনুবাদকরা এই সমস্যা সমাধান করছে। শিক্ষার্থী শুধু টেক্সট, ওয়েবসাইট লিঙ্ক বা পিডিএফ আপলোড করলেই কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে পছন্দের ভাষায় অনুবাদ পেতে পারেন। ফলে জাপানি, চীনা বা ইংরেজি গবেষণাপত্রও সহজে বাংলায় পড়া সম্ভব।
এআই-এর সাহায্যে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষার প্রস্তুতিতেও সহায়তা পেতে পারেন। Quizlet বা Brainscape-এর মতো প্ল্যাটফর্ম শিক্ষার্থীর দেওয়া পাঠ্যবস্তু থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রশ্ন তৈরি করতে পারে। এছাড়া ChatGPT নির্দিষ্ট বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে MCQ, True/False বা শর্ট কোয়েশ্চন তৈরি করতে সক্ষম, যা পরীক্ষার প্র্যাকটিসের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
তবে এআই ব্যবহারে কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। অনেক সময় এটি ভুল বা পুরনো তথ্য দিতে পারে, বিশেষ করে একাডেমিক বা বৈজ্ঞানিক বিষয়বস্তুর ক্ষেত্রে। তাই কোনো অ্যাসাইনমেন্ট বা গবেষণার কাজে ব্যবহার করার আগে অবশ্যই তথ্য নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে যাচাই করা জরুরি। পাশাপাশি, শিক্ষার্থীদের নিজের চিন্তাশক্তি ও বিশ্লেষণ ক্ষমতা বজায় রাখা আবশ্যক।
শিক্ষা এখন আর শুধু বইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ নয়। সঠিকভাবে ব্যবহৃত এআই শিক্ষার্থীর জন্য হয়ে উঠতে পারে এক অদৃশ্য ব্যক্তিগত শিক্ষক, যে সারাদিন তাদের সঙ্গে থেকে নোট তৈরি করবে, পাঠের সারমর্ম শুনাবে, ভাষার বাধা ভাঙবে এবং পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত করবে। সেই সঙ্গে এটি করে দেয় সব কিছু খুব কম সময়ে এবং সহজভাবে। ডিজিটাল যুগে এআই-এর এই অভাবনীয় সুবিধা শিক্ষার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছে।