নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে অনড় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার: আইন উপদেষ্টা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৫
  • ৪০ বার
আমাদের সেফ এক্সিটের দরকার নেই: আসিফ নজরুল

প্রকাশ: ১৯ আগস্ট ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান একেবারেই অনড়। তিনি বলেন, প্রধান উপদেষ্টার ঘোষণার বাইরে গিয়ে নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই এবং এই অবস্থান থেকে সরকার একচুলও সরে দাঁড়াবে না। মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

আইন উপদেষ্টা বলেন, দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর গুণগত মান এখনো কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি। দলগুলো এখনো রাজনৈতিক সংস্কৃতির উৎকর্ষে অবদান রাখার পরিবর্তে নিজেদের স্বার্থে সুর মিলিয়ে বক্তব্য রাখছে। তবে এসব অবস্থান সরকারের নীতি ও সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে পারবে না। তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচন নিয়ে জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার এবং একটি সুষ্ঠু, অংশগ্রহণমূলক ও নিরপেক্ষ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করাই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান লক্ষ্য।

তিনি আরও বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং নির্বাচন কমিশন সংস্কারের বিষয়ে যে সব সুপারিশ এসেছে তা পর্যালোচনার পর দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে। আগামী দু’এক মাসের মধ্যে এসব সংস্কারের জন্য আইন প্রণয়ন করা হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি। এর মাধ্যমে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও প্রশাসনিক সক্ষমতা বাড়িয়ে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের প্রক্রিয়াকে সুসংহত করা হবে।

আইন উপদেষ্টা জানান, আজ থেকেই এ প্রক্রিয়ার আনুষ্ঠানিক কাজ শুরু হচ্ছে এবং সরকারের লক্ষ্য হলো যত দ্রুত সম্ভব আইনি কাঠামো শক্তিশালী করা। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় স্থিতিশীলতা ও আস্থা ফেরাতে বদ্ধপরিকর এবং এ জন্য নির্বাচনী প্রক্রিয়া আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করা হবে।

রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা অনিশ্চয়তা ও বিতর্কের মধ্যেই আইন উপদেষ্টার এই বক্তব্যকে অনেকে সরকারের দৃঢ় অবস্থানের প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন। দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব ও বহির্বিশ্বের প্রত্যাশার প্রেক্ষাপটে নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন আয়োজন সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ালেও প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের এই ঘোষণা সাধারণ মানুষের মধ্যে আশা জাগিয়েছে যে গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা ব্যাহত হবে না।

এখন দেখার বিষয় হচ্ছে, নির্বাচন কমিশন ও দুর্নীতি দমন কমিশনের কাঠামোগত সংস্কার কত দ্রুত কার্যকর হয় এবং তার মাধ্যমে কীভাবে জনগণের আস্থা পুনর্গঠিত হয়। তবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এই স্পষ্ট ঘোষণা নিঃসন্দেহে রাজনৈতিক প্রক্রিয়াকে সামনে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত