প্রকাশ: ২০ আগস্ট ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। টানা ১০ দিন স্থগিত থাকার পর গতকাল মঙ্গলবার রাতে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তের ওপারে গোলাগুলির শব্দ শোনা গেছে, যা সীমান্তবর্তী এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। নাইক্ষ্যংছড়ির স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, রাত সাড়ে ৯টা থেকে দিবাগত রাত একটা পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে গোলাগুলির শব্দ ভেসে এসেছে।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, রাখাইনের ‘নারিকেলবাগিচা’ এলাকা থেকে গোলাগুলির শব্দ শুনতে পাওয়া গেছে। ওই এলাকায় আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে থাকা দুটি সীমান্তচৌকি রয়েছে। স্থানীয়দের ধারণা, আরাকান আর্মি এবং রোহিঙ্গাদের দুটি সশস্ত্র দল—আরসা ও আরএসও—এর মধ্যে এই গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম বাজারের ব্যবসায়ী মোহাম্মদ শফি ও বাসিন্দা আবদুল আজিজ বলেন, রাত জুড়ে শতাধিক গুলির শব্দ শুনতে পেয়েছেন। এ ঘটনায় সীমান্তবর্তী গ্রামের মানুষদের রাত কেটেছে নির্ঘুম অবস্থায়।
ঘুমধুম ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য নুর মোহাম্মদ জানান, ১০ আগস্টও সীমান্তের ওপারে সংঘর্ষ এবং গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছিল। এরপর দীর্ঘদিন পর্যন্ত কোনো গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়নি। তবে হঠাৎ মঙ্গলবার রাতের ঘটনায় সীমান্তবর্তী এলাকায় জনজীবনে ভয় ও আতঙ্কের ছায়া নেমে এসেছে।
স্থানীয়রা ওই রাতের গোলাগুলির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে শেয়ার করেছেন। সীমান্তের একাধিক সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ৮ ডিসেম্বর আরাকান আর্মি রাখাইন রাজ্যের ২৭১ কিলোমিটার এলাকা দখল করে। দখলের পর থেকে তারা বিভিন্ন সীমান্তচৌকিতে পাহারা বসিয়েছে। এরপর কিছু সময় ধরে নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তবর্তী এলাকায় গোলাগুলি ও সংঘাতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে ১০ আগস্ট হঠাৎ আরাকান আর্মির দুটি চেকপোস্টে হামলার খবর ছড়িয়ে পড়ে।
পরদিন মিয়ানমার থেকে একজন ব্যক্তি একে–৪৭ রাইফেল, ৫২ রাউন্ড গুলি এবং দুটি ম্যাগাজিন নিয়ে বাংলাদেশের উখিয়ায় পালিয়ে এসে বিজিবির কাছে আত্মসমর্পণ করেন। তার নাম জীবন তঞ্চঙ্গ্যা। তিনি বাংলাদেশের নাগরিক হলেও আরাকান আর্মির একজন সদস্য বলে স্বীকার করেছেন। ১৭ আগস্ট দুপুরে বিজিবি তুমব্রু সীমান্ত থেকে আরাকান আর্মির সহযোগীসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করে।
নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মাসরুল হক জানান, অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং অনুপ্রবেশে সহায়তার অভিযোগে সম্প্রতি বিজিবি পাঁচজনকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে। তাঁদের মধ্যে তিনজন মিয়ানমারের নাগরিক এবং দুজন বাংলাদেশি। সবাই বর্তমানে বান্দরবানের কারাগারে রয়েছেন।
কক্সবাজার ৩৪ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম খায়রুল আলম বলেন, “সীমান্তের ওপারের পরিস্থিতি আমরা ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে টহল কার্যক্রম জোরদার রয়েছে। স্থানীয়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব ধরনের সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।”
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, রাখাইন রাজ্যে চলমান সংঘাত এবং আরাকান আর্মির কার্যক্রম সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষের জীবনে উদ্বেগ সৃষ্টি করছে। নাইক্ষ্যংছড়ি ও এর আশেপাশের গ্রামের মানুষদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সীমান্ত রক্ষাকারী বাহিনী টহল ও নজরদারি কার্যক্রম অব্যাহত রাখছে।