বিমানের পরিত্যক্ত ১০ টায়ার চুরি, তদন্তে উঠে জটিলতার ছাপ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২১ আগস্ট, ২০২৫
  • ৩৩ বার

প্রকাশ: ২১ আগস্ট ২০২৫। নিজস্ব সংবাদদাতা।  একটি বাংলাদেশ অনলাইন

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের হ্যাঙ্গার কমপ্লেক্স থেকে ১০টি পরিত্যক্ত টায়ার চুরি হওয়ার ঘটনা ঘটে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করার জন্য বিমানবন্দর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। জিডি করেন বিমানের সহকারী ব্যবস্থাপক (নিরাপত্তা) মোশারেফ হোসেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, চুরির ঘটনা যথাযথ কর্তৃপক্ষকে অবহিত না করে টায়ারগুলো হস্তান্তর করা হয়েছে।

জিডিতে বলা হয়, ‘বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ১০টি আনসার্ভিসেবল বা অকেজো টায়ার হ্যাঙ্গারের পাশে থাকা অকশন শেডে খুঁজে পাওয়া যায়নি। টায়ারের সন্ধান না পাওয়ায় বিমান ম্যানেজমেন্ট সুপারভাইজার আরমান হোসেন এবং স্টোর হেলপার সামসুল হককে জিজ্ঞাসাবাদ করলে জানা যায়, টায়ারগুলো ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের সহকারী মহাব্যবস্থাপক শফিকুল ইসলামের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে এই হস্তান্তর অনুমোদিত কর্তৃপক্ষকে অবহিত না করে করা হয়েছে।’

বিমানের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হ্যাঙ্গারে অনুমোদিত কর্মকর্তা ও কর্মচারী ছাড়া অন্য কারও প্রবেশাধিকার নেই। সুতরাং ঘটনার সঙ্গে ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ভেতরের একটি চক্র জড়িত বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে এবং তদন্ত শুরু হয়েছে।

বিমানের মহাব্যবস্থাপক ও জনসংযোগ কর্মকর্তা এ বি এম রওশন কবীর বলেন, ‘পুরাতন ও অকেজো টায়ারগুলো নিলামের জন্য হ্যাঙ্গারে রাখা হয়েছিল। তবে হঠাৎ ১০টি টায়ার দুইজন বিমানের সদস্যের মাধ্যমে ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের এক কর্মকর্তার কাছে চলে গেছে। প্রাথমিক তদন্তে বিষয়টি ধরা পড়েছে। বিমানবন্দর থানায় জিডি করা হয়েছে এবং পুলিশি তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের সনাক্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

অপর দিকে, ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের উপমহাব্যবস্থাপক ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম সংবাদকর্মীদের জানান, ‘বিমানের পরিত্যক্ত টায়ার আমাদের ফ্লাইটের জন্য ব্যবহারযোগ্য নয়। আমাদের বহরে এটিআর, এয়ারবাস ও বোয়িং ৭৩৭ উড়োজাহাজ রয়েছে, যেখানে বিমানের বোয়িং ৭৭৭-উড়োজাহাজের টায়ার ব্যবহার করা সম্ভব নয়। বিমান যদি ১০টি টায়ার পরিত্যক্ত করে, তবে আমাদেরও একই পরিমাণ অকেজো টায়ার আছে, যা আমাদের নিজেদের নিয়মে ফেলে দিতে হয়। তাই বিমানের পরিত্যক্ত টায়ার দিয়ে ইউএস বাংলা কোন কার্যক্রম করবে, সেটি সম্ভব নয়।

ঘটনার প্রাথমিক প্রেক্ষাপট ও জিডিতে উল্লেখিত তথ্যের ভিত্তিতে মনে করা হচ্ছে, বিমানের অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ও অনুমোদন প্রক্রিয়ার মধ্যে ত্রুটি রয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ ও কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে পুলিশি তদন্ত নিশ্চিত করবে, চুরি বা অনৈতিক হস্তান্তরের সঙ্গে কারা জড়িত। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশ্বাস দিয়েছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত