ব্রিকস জোট ইরানে ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্রের হামলার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৫ জুন, ২০২৫
  • ২৯ বার
ব্রিকস জোট ইরানে ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্রের হামলার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে

প্রকাশ: ২৫ জুন, ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

ইরানের ভূখণ্ডে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ব্রিকস জোট। বিশ্বের উদীয়মান অর্থনৈতিক শক্তিগুলোর এই সংগঠনটি এক বিবৃতিতে হামলাকে আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ সনদের সরাসরি লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছে। বিবৃতিটি আল জাজিরাসহ একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে এবং এতে বলা হয়, শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনার ওপর এ ধরনের আগ্রাসন আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থা (IAEA)-এর বিধান ও নীতিমালারও পরিপন্থী।

ব্রিকস জোটের বিবৃতিতে স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে, ইরানের শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচি লক্ষ্য করে পরিচালিত এই সামরিক পদক্ষেপ কেবল অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করেই তুলবে না, বরং এটি বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্যও হুমকিস্বরূপ। আন্তর্জাতিক আইন, বিশেষত জাতিসংঘ সনদ অনুযায়ী, কোনও দেশের সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ডে বাহ্যিক হামলা চালানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এই পরিপ্রেক্ষিতে ব্রিকস মনে করে, ইরানে হামলা শুধুমাত্র একটি দেশের ওপর আক্রমণ নয়, বরং তা আন্তর্জাতিক নীতিমালার প্রতি সরাসরি চ্যালেঞ্জ।

ব্রিকসের বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সংঘাত ও সহিংসতা চালিয়ে গেলে মধ্যপ্রাচ্যের এই সংকট আরও ঘনীভূত হবে। ফলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। এ অবস্থায় জোটের পক্ষ থেকে সবার প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে, যেন তারা অবিলম্বে কূটনৈতিক পথে ফিরে আসে এবং সংলাপ ও শান্তিপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ নিরসনের চেষ্টা করে। সংঘর্ষ নিরসনের জন্য কার্যকর এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়ার উপর জোর দেওয়া হয়েছে।

বিবৃতির এক বিশেষ অংশে উল্লেখ করা হয়, এই ধরনের সহিংসতার চক্র বন্ধ করতে না পারলে তা বিশ্বব্যাপী রাজনৈতিক অস্থিরতা ও মানবিক সংকট সৃষ্টি করবে। জোট মনে করে, পারমাণবিক ইস্যুকে কেন্দ্র করে উদ্ভূত সংকট কেবলমাত্র আলোচনার টেবিলে সমাধান করা সম্ভব। কোনও সামরিক পদক্ষেপ কখনও দীর্ঘস্থায়ী শান্তি আনতে পারে না—বরং তা উত্তেজনা বাড়িয়ে তোলে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। তার পরপরই ব্রিকস এই বিবৃতি জারি করে, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে এই কারণে যে, ইরান এখন ব্রিকসের সম্প্রসারিত সদস্য। এর পাশাপাশি সংযুক্ত আরব আমিরাতও সম্প্রতি এই জোটে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। ফলে এই বিবৃতি কেবল কূটনৈতিক অবস্থান নয়, বরং সদস্য দেশগুলোর সম্মিলিত মনোভাবেরই প্রতিফলন।

ব্রিকসের বর্তমান সদস্য দেশগুলো হল ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন এবং দক্ষিণ আফ্রিকা। সম্প্রতি এই জোটে আরও কিছু দেশ যুক্ত হয়েছে, যার মধ্যে ইরান এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত অন্যতম। ফলে এই জোট এখন বৈশ্বিক রাজনীতিতে আরও গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভাবশালী হয়ে উঠছে।

এই প্রেক্ষাপটে ব্রিকসের বার্তা শুধু বিবৃতি নয়, বরং একটি কৌশলগত সতর্কবার্তাও, যা বিশ্বশান্তি ও আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলার পক্ষে একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তুলে ধরেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত