প্রকাশ: ২২ আগস্ট ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন
গত ফেব্রুয়ারিতে ৪০ বছরে পা দিয়েছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। অথচ এই বয়সেও তাঁর মুখাবয়বে টানটান সতেজতা, চোয়ালের স্পষ্টতা আর নিখুঁত হাসি—সব মিলিয়ে তাঁর চেহারায় যে তারুণ্যের ছাপ এখনও দৃশ্যমান, তা নিয়ে কৌতূহলের শেষ নেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রশ্নটি ঘুরেফিরে আসছে—রোনালদোর ‘চিরতারুণ্য’-এর রহস্য কোথায়? এই আলোচনাতেই নতুন মাত্রা যোগ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের খ্যাতনামা প্লাস্টিক সার্জন ডা. ইলি লেভিন। ডেইলি মেইলের সাংবাদিক ইসাবেল বাল্ডউইনের সঙ্গে সাম্প্রতিক এক আলোচনায় তিনি ধারণা দিয়েছেন, রোনালদো দীর্ঘ সময় ধরে ধাপে ধাপে কিছু প্রসাধনমূলক প্রক্রিয়া (কসমেটিক প্রোসিডিউর) করিয়ে থাকতে পারেন।
ডা. লেভিন স্পষ্ট করেছেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে রোনালদোকে চিকিৎসা দেননি। তবু বহু বছরের পেশাগত অভিজ্ঞতা, ছবি ও প্রকাশ্য উপস্থিতির তুলনামূলক পর্যবেক্ষণ থেকে তাঁর মূল্যায়ন—রোনালদোর মুখাবয়বে যে পরিমিত, কিন্তু কার্যকর পরিবর্তন দেখা যায়, তা সম্ভবত পরিকল্পিত কসমেটিক ইন্টারভেনশনের ফল। তাঁর ভাষ্যে, রোনালদোর নাসার নকশায় সূক্ষ্ম পরিবর্তনের ইঙ্গিত রয়েছে, যা রাইনোপ্লাস্টি বা ‘নোজ জব’-এর দিকে ইশারা করে। এ প্রক্রিয়ায় নাকের হাড় ও কারটিলেজের আকার সামান্য বদলে সামঞ্জস্যপূর্ণ অনুপাত আনা হয়, মুখমণ্ডলের সামগ্রিক সিমেট্রি উন্নত হয় এবং আলো-ছায়ার খেলায় নাকের রেখা আরও পরিষ্কারভাবে ফুটে ওঠে।
শুধু নাক নয়, ডা. লেভিনের ধারণা অনুযায়ী, রোনালদোর হাসিতে যে ‘গামি’ ইফেক্ট একসময় বেশি দৃশ্যমান ছিল, তা কমে এসেছে। অর্থাৎ হাসির সময় মাড়ির অতিরিক্ত অংশ কম দেখা যায়। এটি জিঞ্জিভেকটমি বা মাড়ির আংশিক আকৃতিনিয়ন্ত্রণসহ ডেন্টাল-কসমেটিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে সম্ভব। এমন পরিবর্তনে দাঁতের সারিবদ্ধতা ও হাসির নান্দনিকতা আরেক ধাপ উন্নত হয়, যা ক্যামেরাবান্ধব ইমেজে বড় প্রভাব ফেলে।
এখানে উল্লেখযোগ্য, ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে নিজেও রোনালদো দাঁতের সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য অর্থোডন্টিক চিকিৎসা নেওয়ার কথা প্রকাশ্যে বলেছিলেন। অর্থোডন্টিক্স সাধারণত ব্রেসেস, এলাইনার বা সমজাতীয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দাঁত ও চোয়ালের সারি ঠিক করে; যা পরবর্তী যে কোনো কসমেটিক হস্তক্ষেপের জন্যও একটি শক্ত ভিত্তি তৈরি করে। ফলে, রোনালদোর বর্তমান পরিপাটি হাসি আর ফোকাসড জ-লাইন সেই ধারাবাহিক পরিচর্যারই সম্ভাব্য পরিণতি হিসেবে দেখা যেতে পারে।
যদিও রোনালদোর সৌন্দর্যচর্চা নিয়ে নানা জল্পনা পুরোনো, তবু ডা. লেভিনের মূল্যায়ন গুরুত্বপূর্ণ কারণ তিনি ‘ধীরে ধীরে’ বা স্টেজড ইন্টারভেনশনের কথা বলেছেন। অর্থাৎ তাৎক্ষণিক নাটকীয় রূপান্তরের বদলে সময় নিয়ে, স্বাভাবিক রেখা-ভঙ্গি অটুট রেখে এবং বয়সের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সূক্ষ্ম পরিবর্তন—যা আধুনিক কসমেটিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের এক জনপ্রিয় প্রবণতা। এ পদ্ধতি শুধু পরিবর্তনকে কম চোখে পড়ার মতো করে না, বরং ব্যক্তিসত্তার স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্যও রক্ষা করে।
তবে সব জল্পনা-আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে একটি সতর্কতা—এগুলি পেশাদার পর্যবেক্ষণ ও অনুমান, চূড়ান্ত সত্য নয়। ডা. লেভিন নিজেই স্বীকার করেছেন, তিনি রোনালদোর চিকিৎসক নন। ফলে এমন কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক নয় যা নির্দিষ্ট চিকিৎসা নথি বা本人ের (রোনালদোর) প্রত্যক্ষ স্বীকারোক্তি ছাড়া নিশ্চিতভাবে প্রমাণ করা যায় না। এ বিষয়টিই সংবাদ ও সামাজিক নীতির দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ—জনপ্রিয়তার আড়ালে ব্যক্তিগত শরীর বা চিকিৎসা-ইতিহাস নিয়ে অতিরঞ্জিত দাবি না করে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা।
একই সঙ্গে এটিও সত্য, ক্রীড়াবিদদের কেরিয়ার দীর্ঘ করতে স্বাস্থ্য-ফিটনেসকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়াই নিয়ম। রোনালদো বরাবরই এই ধারার একটি আইকনিক উদাহরণ—কঠোর ডায়েট, উচ্চমানের ঘুম, বৈজ্ঞানিক ট্রেনিং, পুনরুদ্ধার (রিকভারি) পদ্ধতি আর পেশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ গ্রুমিং। এই সার্বিক পরিচর্যার ওপর ভর করেই তিনি ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, রিয়াল মাদ্রিদ, জুভেন্টাসের মতো ইউরোপসেরা ক্লাব থেকে শুরু করে আল নাসরের বর্তমান অধ্যায় পর্যন্ত ধারাবাহিক পারফরম্যান্স ও উপস্থিতি ধরে রাখছেন। ফলে তাঁর মুখাবয়বের ‘তারুণ্য’ও সম্ভবত এই সমন্বিত জীবনযাপনেরই একটি প্রতিফলন, যার সঙ্গে কসমেটিক হস্তক্ষেপ থাকলেও তা—ডা. লেভিনের ভাষ্য অনুযায়ী—পরিমিত, ধাপে ধাপে এবং নান্দনিকভাবে পরিকল্পিত।
সার কথা, ৪০ পেরিয়ে ‘তারুণ্য’ ধরে রাখার রোনালদোর রহস্য একক কোনো সূত্রে বাঁধা নয়। জেনেটিক সুবিধা, জীবনশৈলী, শীর্ষ পর্যায়ের চিকিৎসা-ব্যবস্থাপনা এবং সম্ভাব্য প্রসাধনমূলক প্রক্রিয়ার সমন্বয়েই তৈরি হয়েছে তাঁর বর্তমান ইমেজ। প্লাস্টিক সার্জন ডা. ইলি লেভিনের পর্যবেক্ষণ এই আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করলেও, তা শেষ পর্যন্ত একটি বিশেষজ্ঞ-নির্ভর বিশ্লেষণ হিসেবেই বিবেচ্য। নিশ্চিত উত্তর—যদি কখনও আসে—তা কেবল রোনালদোর মুখেই শোনা সম্ভব। ততক্ষণ পর্যন্ত তথ্য-প্রমাণের সীমা মেনে, তারকাখ্যাতির ন্যায়সঙ্গত বলয় অটুট রেখে বিষয়টি দেখা—সাংবাদিকতার পেশাদার নীতিতেই উত্তম।